শনিবার, ২৫ মে, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সিলেটের অলস গ্যাস কুপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের আবেদন যুবলীগ সভাপতির  » «   গোলাপগঞ্জে বৃদ্ধকে বাস থেকে ‘ধাক্কা দিয়ে ফেলে’ হত্যা করলো হেলপার  » «   ওসমানীনগরে থানা পুলিশের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন  » «   লন্ডনের ওভাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম থাকবে সিলেটিদের দখলে  » «   রাজনগরে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন, বন্যার আশঙ্কা  » «   বালাগঞ্জে আদালতের রায় উপেক্ষা করে জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৯  » «   সংস্কারের অভাবে বিশ্বনাথ বাইপাস সড়কের বেহাল অবস্থা : রাস্তা নয় যেন পুকুর  » «   শমশেরনগর-বিমানবন্দর সড়কে ড্রেনেজ ধ্বসে গর্ত, জনদুর্ভোগ চরমে  » «   মৌলভীবাজারে বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, তলিয়ে গেছে দেড় হাজার একর আউশ ক্ষেত  » «   বানিয়াচঙ্গে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ৮ম শ্রেণির ছাত্র গ্রেফতার  » «  

রোজা ভেঙে হিন্দু ধর্মের রোগীদের রক্ত দিলেন ভারতের মুসলমানরা

সুরমা নিউজ ডেস্ক:
পৃথিবী জুড়েই ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা পালন করছেন রমজান মাস। এরই মাঝে আসামের একটি ঘটনা নজর কাড়ল বিশ্ববাসীর। ভারতে আসামের হাইলাকান্দি জেলায় কদিন আগেই সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়েছে। কিন্তু ওই রাজ্যেরই অন্য কয়েকটি জায়গায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির এক অন্য ছবি উঠে এসেছে।

রোজা ভেঙে অন্তত দুইজন ইসলাম ধর্মাবলম্বী স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন দুই হিন্দু ধর্মাবলম্বী রোগীর। যে দেশে ভিন্ন ধর্মের কাউকে ভালোবাসলে অনড় কিলিং-এর মত ঘটনা ঘটে, ‘নিচু’ জাতের ছায়া মাড়ালে ‘জাত যায়’, সেই দেশের এমন খবর শিরোনামে আসার যোগ্য।

আসামের বিশ্বনাথ চরিয়ালির বাসিন্দা অনিল বোরা তাঁর ৮২ বছর বয়সী মা, রেবতী বোরাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন গত সপ্তাহে। কিছু পরীক্ষার পরে জানা যায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দিতে হবে। বোরার রক্তের গ্রুপ বি নেগেটিভ। সেই রক্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফেসবুকের মাধ্যমে একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠনের সাথে অনিল বোরার যোগাযোগ হয় শোনিতপুরের বাসিন্দা মুন্না আনসারির সাথে। পরে গত রবিবার আনসারি রোজা ভেঙে রক্ত দিয়েছেন রেবতী বোরাকে।

মুন্না আনসারি বলেন, তারা আমাকে বলেন ভেবে দেখ, রোজা ভাঙতে হবে কিন্তু। আমি বলেছিলাম রোজা ভাঙতে হলে হবে। তবে যদি রাতে রক্ত দিলে কাজ হয়, তাহলে রোজার শেষেই হাসপাতালে যাব, আর না হলে রোজা ভেঙে দেব।

অন্যদিকে গোলাঘাট জেলার বাসিন্দা ইয়াসিন আলী রোজার শেষে বাবার সাথে হাসপাতালে গিয়েছিলেন ওজন মাপতে। সেখানে গিয়ে হঠাৎই এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হয়, যিনি আড়াই বছরের শিশুকন্যার জন্য রক্ত খুঁজছিলেন।

সাথে সাথেই রক্ত দিতে রাজী হয়ে যান আলী। তিনি বলেন, যদিও আমাকে রোজা ভাঙতে হয়নি সেদিন রক্ত দেওয়ার জন্য। তবে প্রয়োজন হলে ভাঙতেও দ্বিধা করতাম না।

গুয়াহাটির একটি হাসপাতালের কর্মী পান্নাউল্লা আহমেদ। তিনিও রোজা ভেঙে রক্ত দিয়েছেন আর একজন ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে। তিনি বলেন, আমি চাইছিলাম রক্ত দিতে, তার জন্য যদি রোজা ভাঙতে হয় তো হবে। একজন মানুষের প্রাণ তো বাঁচাতে পারব। তবুও আমি বাড়ির অনুমতি নিয়ে নিই। তাঁরা রক্ত দিতে বলে। তাই আমি রক্ত দিয়ে দেই। রক্ত দেওয়ার পর একটি হোটেলে গিয়ে ভালো করে ভাত খেয়ে নেই।

তাঁদের রক্ত দেওয়ার ঘটনা ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনজনই বলছেন যে তাঁরা একজন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে যা করা উচিত বলে মনে হয়েছে, সেটাই করেছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!