বুধবার, ২২ মে, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সিলেটে ইষ্টিকুটুম-মধুবনকে জরিমানা, নিষিদ্ধ মোল্লা লবণ-পচা খেজুর জব্দ  » «   সিলেটে অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড গুড়িয়ে দিয়েছে সিসিক  » «   সিলেটে ফিজায় মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য  » «   জগন্নাথপুরে জিনের ‘গুপ্তধন’ নিয়ে তোলপাড়  » «   দেশে ফিরলেন সাগরে বেঁচে যাওয়া সিলেটের ১৩ যুবক, বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ  » «   গোয়ালাবাজার-খাদিমপুর রাস্তার বেহাল দশা, দেখার কেউ নেই !  » «   বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা আইনজীবী পরিষদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন  » «   পবিত্র ঈদুল ফিতর ৫ জুন বুধবার !  » «   ব্রিটেনে মাদক বিরোধী অভিযান, এক সপ্তাহে ৫৮৬জন গ্রেফতার  » «   কমলগঞ্জে বন্ধনের দরিদ্র রোজাদারদের মাঝে ২ টাকায় ইফতার  » «  

কি মূল্য জীবনের যারা মাকে পেল অথচ সেবা করল না ?

খায়রুল হাসান রুবেল:
জীবনের ক্লান্তিকালে সংকটে ও সংশয়ে হৃদয়ের আকুতি ভরা কন্ঠে প্রথমেই যার নাম মুখে আসে সে হচ্ছে মা।আমাদের এই ক্লেদপূর্ণ জীবনে মা হচ্ছে স্বার্থহীন ভালবাসার প্রতিক।সন্তানের প্রতি মায়ের নিরন্তর ভালবাসা জগতের অন্য কোন কিছুর সাথেই অতুলনীয়।বিধাতার অপার মহিমা সন্তানের সাথে মায়ের এই আজন্মের গাঁটছাড়া।জাগতিকতার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে সন্তান একদিন মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়,কিন্তু মা আমৃত্যুই সন্তানকে সীমাহীন ভালবাসায় আগলে রাখে।

আমাদের এই সমস্যাসংকুল জীবনে সবাই যখন মুখ ফিরিয়ে নেয় মা ই তখন পাশে থাকে সন্তানের জন্য মা হচ্ছে প্রথম এবং শেষ আশ্রয় স্হল। অথচ নিজের সুখের জন্য মাকেই একদিন আমরা আশ্রয়হীন করে ফেলি।জীবনের নানা সংকট মোকাবেলা করেও যে মা একসময় একাধিক সন্তানের লালন- পালন করে অথচ সেই মাকেই একদিন সব সন্তান মিলেও সামান্য আশ্রটুকু দিতে পারেনা।অগত্যা মাকে বাধ্য হয়ে পারি জমাতে হয় বৃদ্ধ নিবাসে।জীবনের এই ক্লান্তিকালেও মা হয়ত এটাই ভাবতে থাকে না জানি আমাকে ছাড়া খোকার দিনগুলি কেমন কাটে। ঝড় ঝঞ্জা আর শত দুঃখ কষ্টেও মা সন্তানদের পরম মমতায় আগলে রাখে আর একদিন সন্তানের গড়া অট্টালিকায় মা হয়ে যায় বড় বেশি বেমানান।

কি মূল্য আছে সেই জীবনের যারা মাকে পেল অথচ তার সেবা করলনা। মার জন্য পরম মমতায় একটা তাঁতের শাড়ি কিনতে পারলনা,অনেক শহর নগর ঘুরে ফিরল কিন্তু এত এত সব কেনা কাটার ভিড়ে মার কথা ভাবারই সময় পেলনা। সে জীবন তো অর্থহীন যে জীবনের ভাল লাগা মন্দ লাগা মাকে ঘিরে আবর্তিত হয়না।বিদেশ বিভূয়ে থেকে প্রিয় সন্তানটি যখন ফিরে আসে সবাই তাকিয়ে থাকে কার জন্য কি আনল সেদিকে আর মার চোখ থাকে ছেলের মুখের দিকে ” বাবা তুই বড্ড বেশি রোগা হয়ে গেছিস ঠিক মত খাস না বুঝি”। সন্তান যখন অসুখে পড়ে বিনিদ্র রজনী মা ই পাশে জেগে থাকে।কিংবা কাজে অকাজে রাত করে যখন বাড়ি ফেরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লেও মা ঠিকই জেগে থাকে ” খোকা বুঝি এল”। সেই খোকা হয়ত ভুলেই যায় ” মা তুমি খেয়েছ এতটুকু জিজ্ঞেস করতে”। মাতৃহীন জীবনে বাবা ঠিকই নিজের সুখের চিন্তায় সহসাই আবার বিয়ে করে,কিন্তু অকাল বৈধব্যও মা সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে আজীবন একাই কাটিয়ে দেয়।যাদের মা নেই তারাই কেবল মায়ের অভাব বোঝে।যে শিশু জন্মের পরই মাকে হারিয়ে রোজ রাতে আকাশে তারার মাঝে মাকে খুঁজে ফেরে সে বোঝে মা না থাকার যন্ত্রণা।মা থাকতেও যারা মায়ের কদর করলনা তাদের মত দুঃভাগা কে আছে জগতে।আমাদের ইসলাম ধর্মেও মায়ের স্হান উর্দ্ধে তুলে ধরা হয়েছে।

হাদিসে বর্ণিত আছে: হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) বলেন, এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.)! আমার সাহচর্যে সদ্ব্যবহার পাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কে? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার মাতা। সে আবার প্রশ্ন করলেন, তারপর কে? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার মাতা। সে আবার প্রশ্ন করলেন, তারপর কে? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার মাতা। সে আবার প্রশ্ন করলেন, তারপর কে? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার পিতা। অতঃপর ধারাবাহিকভাবে নিকটাত্মীয়। (সহীহ বুখারী: ২/৮৮৩) বাঙালী হিন্দু সমাজে মাতৃরুপে দেবী দূর্গার পূজা করা হয়।যুগে যুগে দেশে দেশে মাকে নিয়ে রচিত হয়েছে কালজয়ী গান,কবিতা,উপন্যাস,গল্প কত কি।আমাদের বাংলা গান,সিনেমা ও সাহিত্যের বিভিন্ন আঙ্গিকে মাকে নিয়ে রচিত হয়েছে কালজয়ী সব সৃষ্টি।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা অবলম্বনে প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক আনিসুল হকের ” মা” উপন্যাসে আমরা দেখেছি আজাদের মা সাফিয়া বেগমকে।পাক সেনাদের টর্চার সেলে ছেলে আজাদকে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি।ছেলে আজাদকে মেঝেতে অসহায় অবস্হায় পড়ে থাকতে দেখেছেন।মার কাছে ভাত খেতে চেয়েছিল আজাদ।কিন্তু এরপর ভাত নিয়ে গিয়ে আর ছেলের দেখা পাননি।যুদ্ধ শেষ হয়েছে দেশ স্বাধীন হয়েছে,অন্য অনেকের মত আজাদও ফিরে আসেনি।মা সাফিয়া বেগম পৃথিবীতে যতদিন বেঁচেছিলেন কোনদিন ভাত মুখে তোলেননি,এবং আমৃত্যু মেঝেতে শুঁয়েই দিন কাটিয়েছেন।এই হচ্ছে মা।আমরা জননী সাহসীকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের কথা জানি,দেশের নানান সংকটে দেশমাতৃকার কত সন্তানকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম,মুক্তিযোদ্ধা রুমির মা।আমৃত্যু সন্তান হারানোর শোককে পাথর চাপা দিয়ে একাত্তেরর ঘাতক দালালদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন।আজও তিনি আমাদের চেতনার বাতিঘর।

পৃথিবীর ইতিহাস যুগে যুগে সন্তানদের জন্য মায়েদের এমন ত্যাগের অগনিত ঘটনার সাক্ষ্য বহন করছে।১২ই মে ” আন্তর্জাতিক মা দিবস” এটা নিঃসন্দেহে মায়েদের জন্য সম্মানের।তবে মা এর জন্য শুধু এই একটি দিনই নয়,বরং সন্তানের প্রতিটি দিনই আবর্তিত হোক মাকে ঘিরে।সন্তানের গড়া ঐশ্বর্যের ইমারতে মা হোক চীরকালীন সম্রাজ্ঞী।মার জন্য দুঃখের বনবাস নয় সুখের স্বর্গ গড়ে তুলি। হোক তা কুঁড়ে ঘর তাতে ক্ষতি নেই।মা জেন আমাদের নিষ্ঠুরতার কারনে এত বিশাল ভুবনে আশ্রয়হীন হয়ে না পড়ে।১২ মে ” আন্তর্জাতিক মা” দিবসে আমার মা সহ পৃথিবীর সকল মায়েদের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!