সোমবার, ২০ মে, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সিলেটে চাচাকে কোপালো ভাতিজা  » «   বিশ্বনাথের মাছুম অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন যেভাবে…  » «   সাগরে নৌকাডুবি : অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেন বিশ্বনাথের মাছুম  » «   সেমি-ফাইনালে চার দলে বাংলাদেশকে রাখলেন আকাশ চোপড়া, পাকিস্তানিদের উপহাস  » «   সিলেটে লোডশেডিং বন্ধে বিদ্যুৎ বিভাগকে আল্টিমেটাম  » «   ব্রিটেনে ধনীর তালিকায় এবারও সিলেটের কৃতি সন্তান ইকবাল আহমদ  » «   আজ ১৯ মে, এইদিনে বাংলা ভাষার জন্য শহীদ হয়েছিলেন ১১ জন  » «   শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে যুক্তরাজ্য যুব মহিলা লীগের দোয়া ও আলোচনা সভা  » «   মেধাবীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘বিল্ড আমেরিকা ভিসা’  » «   ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ সিলেটের সাব্বিরের সন্ধানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা  » «  

অক্টোবরে আ’লীগের কাউন্সিল, চ্যালেঞ্জ কী?

সুরমা নিউজ ডেস্ক:
সব ঠিক থাকলে আসছে অক্টোবরে হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল। এই কাউন্সিল সফল করতে বেশ আগে থেকেই তোড়জোড় শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দলটি।

তৃণমূলের কোন্দল নিরসন, মেয়াদোত্তীর্ণ বেশিরভাগ শাখায় কমিটি গঠন ও স্বচ্ছ কাউন্সিলর তালিকা তৈরিসহ বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ দলটির এবারের কাউন্সিল ঘিরে অপেক্ষা করছে। কিন্তু, এখনই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বেশ হিমশিম খাচ্ছে দলটির নেতারা।

অবশ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিতর্কিত হলেও সরকার গঠনের নৈপূণ্যতা, সরকার পরিচালনা ও উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে আওয়ামী লীগ।

সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, নারী নিপীড়নসহ কয়েকটি বিব্রবতকর ঘটনা ছাড়া টানা তৃতীয় মেয়াদে আসা সরকার তার হানিমুন পিরিয়ড বেশ ফুরফুরে মেজাজেই কাটিয়েছে। কিন্তু, সরকারে ভালো করলেও দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা সারা দেশেই বেশ নাজুক।

বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে দলীয় কোন্দল চরমে। তৃণমূল সংগঠনে সৃষ্টি হয়েছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। তৈরি হয়েছে একাধিক গ্রুপ, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কেউ কাউকে মানছেন না।

তৃণমূলের এসব সঙ্কট মোকাবেলা করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কমিটি করে স্বচ্ছ কাউন্সিলর তালিকা তৈরি করা আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন করে নতুন কমিটি দেয়া, জাতীয় সরকার ও স্থানীয় সরকার তথা এমপি-চেয়ারম্যানদের দূরত্ব ঘোচানো এবং সংগঠন শক্তিশালী করাও বেশ চ্যালেঞ্জের।

২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল হয়। এতে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে তিন বছরের জন্য নতুন কমিটি হয়। সেই কমিটিই টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আনে আওয়ামী লীগকে।

বর্তমান কমিটি নির্বাচন ও সরকারে গুরুত্ব দিতে গিয়ে সাংগঠনিক অবস্থায় নজর দিতে পারেনি। তার ওপর ভাগ-ভাটোয়ারার রাজনীতি নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং ও কোন্দল উস্কে দিয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থার পরিষ্কার চিত্র পেয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। ৪১৮টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, নৌকার প্রার্থীরা বেশ বেকায়দায় পড়েছেন। ৩০টির বেশি উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানসহ তিন পদে একক প্রার্থী হওয়ায় ভোট লাগেনি।

এ ছাড়া বেশ কিছু জায়গায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া কিছু জায়গায় নৌকা কোনো রকম জিতে আসলেও ১৩১টিতে স্বতন্ত্ররা জয়ী হয়েছেন।

কেন্দ্রের প্রেসিডিয়াম সদস্য থেকে শুরু করে এমপি পর্যন্ত কাউকেই না মানার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের একেকজন একেক শিবির তৈরি করে নিয়েছেন। সেজন্য একাধিক সভায় দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেছেন, টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকায় দলে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং ও কোন্দল দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় গ্রুপ ভারী করতে অন্য দলের লোকদেরও আওয়ামী লীগে ভেড়াচ্ছেন কেউ কেউ। এসব খবর আমার কাছে আছে।

জানা গেছে, এসব সঙ্কট মোকাবেলা করে সারা দেশের সংগঠনকে শক্তিশালী করে জাতীয় সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত করতে কেন্দ্র থেকে ৮টি সাংগঠনিক টিম গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। দু’একদিনের মধ্যে তারা মাঠে নামবেন বলেও জানা গেছে। শুক্রবার দলটির কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদে বর্ধিত সভা হবে।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে ৮টি টিমের কাজ ও এরিয়া ভাগ করে দেয়া হবে। তাদের যাবতীয় নির্দেশনাও দেয়া হবে। আসন্ন কাউন্সিলে প্রস্তুতির পাশাপাশি এই ৮টিম বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ অক্টোবরেই নতুন কাউন্সিল করতে পারবে কিনা বা তৃণমূলের এ কোন্দল নিরসন সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নে আশার বাণী শুনিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

তারা বলছেন, এত বড় একটি দল, টানা তিনবার ক্ষমতায়। এতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়বেই। তবে, এগুলো কাটিয়ে ওঠা গেল কিনা, সেটাই বড় বিষয় এবং এসব সঙ্কট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ছিল, এতে সংগঠন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা হবেই। তবে আওয়ামী লীগ দেশের বৃহত্তম আদর্শভিত্তিক দল। আদর্শ থেকে তারা কখনও বিচ্যুত হবে না।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও আস্তে আস্তে আমরা আবার এক করে ফেলব। আর এই একতার জন্য আমাদের মূল শক্তি হবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা বড় কোনো সঙ্কট নয়। যেখানে গণতন্ত্র আছে, রাজনীতির চর্চা আছে, সেখানে নেতার বিকাশ ঘটবেই। যার প্রতিফলন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ব্যাপকতা। আমরা মাঠ পর্যায়ের তথ্য নিচ্ছি। সব দুর্বলতা কাটিয়ে যথাসময়ে কাউন্সিল করব।’
সুত্রঃ পরিবর্তন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!