রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির ভয়ে সড়কে এলইডি বাতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
পর্যটন এলাকা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কের বেলতলী নামক স্থানে ডাকাতের ভয়ে সড়কের দু’পাশে সোলার বিদ্যুতের এলইডি লাইট (বাতি) স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশের অনুরোধে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদের নির্দেশে উপজেলা ত্রান ও পূর্নবাসন বিভাগ বেলতলী নামক স্থানে ৬টি সোলার বিদ্যুত লাইট স্থাপন করে। এমপির এমন উদ্যোগে এলাকার যানবাহন চালক, পর্যটকসহ সাধারণ মানুষজন স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছে।

গত দু’দিন আগেও রাতে চা বাগানঘেরা পাহাড়ি এ সড়ক দিয়ে যানবাহনে যাতায়াতে মানুষের মাঝে একধরনের ভয় ও আতংক ছিল। সড়কে বাতি লাগানোর পর এ ভয় এখন অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শ্রীমঙ্গল শহর হয়ে ভানুগাছ-কমলগঞ্জ যাবার সড়কপথ এটি। সন্ধ্যার পর পরই ডুবে যায় অতল অন্ধকারের গহবরে। পাহাড় ও চাবাগান ঘেরা এই সড়কটির এই অংশে থাকে না জনমানবের কোনো কোলাহল। শ্রীমঙ্গল শহরতলীর বধ্যভুমি ৭১’র থেকে পাঁচতারকা হোটেল গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গল্ফ এর মধ্যবর্তী বেলতলী নামক স্থান। সড়কটির একপাশে রাবার বাগান ও অপরপাশে রয়েছে চা বাগান। আর নিরিবিলি এ স্থানটিকে ঘিরেই ডাকাতদলের সদস্যরা ওঁত পেতে থাকে গাছ ফেলে যানবাহন আটকিয়ে ডাকাতির জন্য। এই সড়কে হঠাৎ করে সংঘবদ্ধ মুখোশপরা ডাকাতদল চা বাগানের শেডট্রি কেটে গাছের টুকরো ফেলে ডাকাতির চেষ্ঠা চালায়। অনেক সময় ডাকাতরা সফল হয়, আবার পুলিশের তৎপরতায় ডাকাতির চেষ্ঠাও ব্যর্থ হয়েছে।

এমনিভাবে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে বেলতলী এলাকায় একাধিক গাছ ফেলে ২৫/৩০ জনের ডাকাতদল যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এ সময় সড়কে আটকেপরা বাস, প্রাইভেট গাড়ি ও বেশকিছু সিএনজি অটোরিকশা চালক ও যাত্রীদের মারধর করে মুঠোফোন ও নগদটাকা-পয়সা লুট নেয়। এ ঘটনার পর ডাকাতরা একই স্থানে আরও একাধিকবার গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্ঠা চালিয়েছে। কিন্তু টহল পুলিশের তৎপরতা থাকায় পরে ডাকাতির চেষ্ঠা ব্যর্থ হয়।

এই সড়কের প্রায় সময় যাতায়াতকারী লাইটেস চালক এরশাদ আলী বলেন, ‘আগে এই সড়কে গাড়ী চালাতে ভয় লাগতো। এখন সড়কে বাতি দেয়ায় সেই ভয় আর নাই’। বেলতলীর বাসিন্দা সাধন কুমার নায়েক বলেন, এখন বাতি দেয়ায় শহরে আসাযাওয়া করতে আর ভয় লাগছে না। বধ্য ভুমি ৭১ পর্যন্ত যদি লাইট লাগানো হয় তাহলে আরও সুবিধা হবে।

জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান বলেন, এই সড়কে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশের টহল এখন অনেক জোরদার করা হয়েছে’। তিনি বলেন, ‘বেলতলী নামক এই জায়গাটা আগে অন্ধকার থাকতো। অপরাধীরা সেখানে আশ্রয় নিতো। সড়কে গাছ কেটে ফেলে যানবাহন আটকানোর চেষ্ঠা চালাতো। সন্ধ্যার পর ট্যুরিস্টরা যাতে নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন সেজন্য এমপি মহোদয়ের সহায়তায় সড়কে সোলার এলইডি লাইট বাতি স্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!