রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

লিভারপুল না ম্যানচেস্টার সিটি? কার ভাগ্যে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা?

স্পোর্টস ডেস্ক:
লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যে এখন ব্যবধান মাত্র দুই পয়েন্টের। সিটির দুই পয়েন্ট বেশি, লিভারপুলের দুই পয়েন্ট কম। প্রতি সপ্তাহে লিভারপুল প্রথমে ম্যাচ জিতে লিগের শীর্ষে উঠে যায়। পরে ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের ম্যাচটা ঠিকঠাক জিতে লিভারপুলকে হটিয়ে শীর্ষস্থানে বসে পড়ে। প্রতি সপ্তাহে দুই দল ম্যাচ খেলতে নামে এই চিন্তা মাথায় রেখে, যে একটু পা হড়কালেই প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই দুই দলের ইঁদুরদৌড় চলছে। বলা বাহুল্য, বাকি ছয় সপ্তাহেও এই প্রতিযোগিতা চলতে থাকবে।

কিন্তু এই ছয় সপ্তাহ শেষে কী হবে? লিভারপুল কি ২৯ বছরের লিগ শিরোপা খরা ঘোচাতে পারবে? নাকি পেপ গার্দিওলা দৃষ্টিনন্দন ফুটবলের পসরা সাজিয়ে সিটিকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিগ শিরোপা জেতাবেন? বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে এই দুই দলের ভাগ্য। বিষয়গুলো কী কী? আসুন দেখে নেওয়া যাক!

সিটির হাতে এক ম্যাচ
এর মধ্যে লিভারপুল লিগে ৩৩টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে, সিটি খেলেছে ৩২টি। খোলা চোখেই বোঝা যাচ্ছে, সিটির হাতে একটি ম্যাচ বেশি আছে। এই এক ম্যাচই গড়ে দিতে পারে প্রিমিয়ার লিগের ভাগ্য।

বড় ম্যাচের সংখ্যা
সিটির হাতে এক ম্যাচ বেশি থাকলেও, কাগজে-কলমে লিভারপুলের চেয়ে তাদের কঠিন ম্যাচ খেলতে হবে বেশি। তাদের হাতে থাকা সাত ম্যাচের মধ্যে তিনটিকে মোটামুটি কঠিনই বলা চলে। এই তিন ম্যাচে তারা খেলবে দুই মৌসুম আগের চ্যাম্পিয়ন লেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহাম হটস্পারের সঙ্গে। ওদিকে লিভারপুলের হাতে ছয় ম্যাচ থাকলেও কাগজে-কলমে কঠিন ম্যাচ একটি, চেলসির বিপক্ষে।

ঘরের বাইরের ম্যাচ
প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে সিটি লিভারপুলের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলবে। সিটির হাতে থাকা সাত ম্যাচের মধ্যে চারটিই প্রতিপক্ষের মাঠে। ওদিকে লিভারপুল প্রতিপক্ষের মাঠে খেলবে তিনটি ম্যাচ। প্রতিপক্ষের মাঠে লিভারপুলের ম্যাচ আছে সাউদাম্পটন, কার্ডিফ সিটি ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সঙ্গে। কপাল একদম খারাপ না হলে এই তিন ম্যাচ লিভারপুলের হেসেখেলে জেতার কথা। ওদিকে সিটির চার ‘অ্যাওয়ে ম্যাচ’ এর মধ্যে একটি ম্যাচ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে, যারা এই মৌসুমে লিগের শীর্ষ চার দলের মধ্যে এক দল হওয়ার জন্য প্রাণপণ লড়ছে। যাতে পরবর্তী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে পারে। সিটির বাকি ‘অ্যাওয়ে ম্যাচগুলো ব্রাইটন, বার্নলি ও ক্রিস্টাল প্যালেসের সঙ্গে।

শেষ ম্যাচ
শেষ ম্যাচ লিভারপুল খেলবে নিজেদের মাটিতে, উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে। ওদিকে সিটিকে শেষ ম্যাচ খেলতে হবে প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে, ব্রাইটনের সঙ্গে। আর নিজেদের মাঠে লিভারপুল দুর্ধর্ষ ফর্মে রয়েছে।

চেলসি
এর আগে লিভারপুল যেবার শিরোপার কাছাকাছি এসেছিল, সেবার একটা দলের কারণেই শিরোপা জেতা হয়ে ওঠেনি। আর সে দলটার নাম ছিল চেলসি। নিজেদের মাঠে সেবার চেলসির কাছে ২-০ গোলে হেরে শিরোপা-স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছিল লিভারপুল। চেলসির এই ‘সাহায্য’ পেয়ে ২০১৩-১৪ মৌসুমের লিগ শিরোপা জিতেছিল সিটি। প্রশ্ন হলো, সামনের মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার জন্য মরিয়া চেলসি কি এইবারও লিভারপুলকে তাদের মাটিতে হারিয়ে আসবে? না পাঁচ বছর আগের সেই ম্যাচের প্রতিশোধ নেবে ক্লপের শিষ্যরা?

ক্রিস্টাল প্যালেস
ঐতিহ্যগতভাবে ক্রিস্টাল প্যালেস নিজেরা লিগ শিরোপা না জিততে পারলেও লিগের শিরোপা কে জিতবে, তাতে তাদের একটা বড় একটা হাত থাকে। এবারও থাকবে। ২০১৩-১৪ মৌসুমে লিভারপুলের বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও পরে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসে ম্যাচ ড্র করে তারা। সেই ম্যাচ শেষে লুইস সুয়ারেজের কান্না এখনো লিভারপুল সমর্থকদের বেদনা দেয়। সেবার সিটির শিরোপা জয়ের পেছনে ক্রিস্টাল প্যালেসের এই ড্র ম্যাচের ভূমিকা ছিল। এবার লিগের এই শেষভাগে নিজেদের মাঠে লিভারপুলের জায়গায় সিটিকে পাচ্ছে ক্রিস্টাল প্যালেস। সিটিকে তাদের মাঠেই ৩-২ গোলে হারানো প্যালেস আরেকবার সিটিকে হারিয়ে কি পারবে লিভারপুলের মুখে হাসি ফোটাতে? গত মৌসুমে প্যালেসের মাটিতে গিয়ে 0-0 গোলে ড্র করে এসেছিল সিটি।

উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স
লিগের শেষ ম্যাচে লিভারপুল নামবে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে। কোচ নুনো এস্পিরিতো সান্তোর অধীনে উদ্দীপ্ত ফুটবল খেলা এই দলের বিপক্ষে তথাকথিত বড় দলগুলোর জিততে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এমনকি এফএ কাপে এই ক্লাবের কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছে লিভারপুল। শেষ ম্যাচের জন্য কোনো অঘটন জমিয়ে রাখেনি তো উলভারহ্যাম্পটন?

নিজেদের মাঠে লিভারপুলের ফর্ম
নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে গত ৩৭ ম্যাচে লিভারপুলকে কেউ হারাতে পারেনি। ঘরের মাঠে লিভারপুল খেলবে চেলসি, হাডার্সফিল্ড ও উলভসের বিপক্ষে। ঘরের মাঠের ফর্ম মৌসুমের শেষ পর্যন্ত বজায় রাখলে বলা যায় চেলসিও লিভারপুলকে আটকাতে পারবে না।

চ্যাম্পিয়নস লিগ
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে সিটির চেয়ে তুলনামূলকভাবে সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে লিভারপুল। লিভারপুল খেলবে পোর্তোর সঙ্গে, সিটি খেলবে টটেনহামের সঙ্গে। সিটি আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের দুই লেগ টটেনহামের বিপক্ষে খেলার পাশাপাশি লিগেও একটা ম্যাচ খেলবে তাদের বিপক্ষে। একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই তিন ম্যাচ খেলার ধকল সিটি কীভাবে সামলাবে, দেখার বিষয় সেটাই।

মোট ম্যাচ
লিগ আর চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়া বাকি সব প্রতিযোগিতা থেকেই বিদায় নিয়েছে লিভারপুল। কিন্তু সিটির সামনে সম্ভাবনা আছে চারটা শিরোপা জেতার। ফলে সিটিকে খেলতেও হবে বেশি ম্যাচ। যে সময়ে লিভারপুল খেলবে আট ম্যাচ, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সিটি খেলবে দশ ম্যাচ। হাতে থাকা এই দুই ম্যাচের ধকল মৌসুম শেষে প্রভাব ফেলতে পারে।

সব চোখ এখন মে মাসের ১২ তারিখে। এই দিনই নির্ধারিত হয়ে যাবে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন কে হবে, সেটা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!