রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিলেটে ধর্ষণ ও সন্তানদেরকে গুম করে ফেলার হুমকি ছাত্রলীগ নেতার

সুরমা নিউজ :
আলোচনা পিছু ছাড়ছে না হিরণ মাহমুদ নিপুর। সিপিবি-বাসদের সমাবেশে হামলার মধ্য দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির পদ হারান। নানা কারণে আলোচনায় উঠে আসছে তার নাম। আবারো আলোচনায় এলেন তিনি। এক নারীর অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতা হিরণ মাহমুদ নিপু তাঁর সংসার ভাঙতে যা যা করা দরকার তার সবটুকু করছে। এছাড়া ঐ নারীকে ধর্ষণ ও সন্তানদেরকে গুম করে ফেলারও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নগরীর বালুচরের মনোয়ারা নামের একজন নারী অভিযোগ করে বলেন- হিরণ মাহমুদ নিপু আমার সংসাদ ভাঙতে চাচ্ছে। সিলেট নগরীর উত্তর বালুচর ফোকাস ৩০১ নম্বর বাসার এডভোকেট এ এইচ এরশাদুল হকের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম নিজের স্বামী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিরণ মাহমুদ নিপুর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করে বলেছেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়ে তিনি এখন বাড়িছাড়া। অবুঝ সন্তানকে নিয়ে প্রতিনিয়ত শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্বামী এরশাদুল হক হিরণ মাহমুদ নিপুকে নিয়ে যে কোন সময় তাকে প্রাণে মেরে ফেলতে পারে।
মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে মনোয়ারা বেগম বলেন, স্বামী আরামবাগ ৪নং রোডের ৫ নং বাসার বাসিন্দা মৃত এটি মাজহারুল হকের পুত্র এরশাদুল হক বিভিন্নভাবে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এজন্য মাতাল অবস্থায় প্রায়ই আমার কাছে এসে টাকা চান। টাকা না দিতে পারলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। মনমালিন্য হওয়ায় গত দুই মাস ধরে তিনি আলাদা বসবাস করছেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১১ মার্চ রাতে হঠাৎ করে বাসায় এসে হামলা চালান স্বামী এরশাদ। তার এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষিতে আমি আহত হই। মারধরের পর গালাগালি করে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি চলে যান। পরে এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে শাহপরাণ (রহ.) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। যার নং ৫৩০।
মনোয়ারা বলেন, জিডি করার কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা হিরণ মাহমুদ নিপুকে দিয়ে প্রথমে আমাকে হুমকি দেন। নিপু আমাকে তার অফিসে যেতে বলেন। এ সময় আমি নিপুকে বলি এটি আমাদের পারিবারিক বিরোধ। বিষয়টি নিয়ে আপনি কথা বলবেন না।
একথা বলায় ক্ষেঁপে গিয়ে নিপু তার সহযোগীদের নিয়ে গত ১৪ মার্চ বিকেলে বাসায় গিয়ে শাশিয়ে যান এবং এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত জিডিটি তুলে নেওয়ার আল্টিমেটাম দেন বলে অভিযোগ মনোয়ারার।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় তিনশ’ টাকার স্ট্যাম্পে এরশাদুল হকের সাথে আমার কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই এবং লেনদেন নেই উল্লেখ করে সাক্ষর নিতে চাইলে মনোয়ারা তাতে রাজি হইনি। অন্যথায়, ধর্ষণ ও সন্তানদেরকে গুম করে ফেলারও এমন হুমকি দেন নিপু। এমনকি আমার ভাই আজমলকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটানোর হুমকি দেওয়া হয়।
বিষয়টি এলাকার স্থানীয় মুরব্বিদেরকে অবগত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা আমাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই, স্বামী এরশাদুল ও নিপুসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে শাহপরাণ থানায় ১৬ মার্চ আরেকটি সাধারণ ডায়েরি করি। যার নং ৬৫৮।
হিরণ মাহমুদ নিপু বালুচর এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে নির্যাতিত এই নারী আরও বলেন, ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। একজন ভূমিখেকো, সন্ত্রাসী এই নিপু আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদেরকে চরম আতঙ্কে ফেলেছে। এলাকার দোকানপাট এবং সাধারণ মানুষদের নিকট থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদা আদায় করে নিপু।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সাথে সাক্ষাত করে অভিযোগ দিয়েছেন মনোয়ারা বেগম। বিষয় দেখার জন্য ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদকে ডেকে মন্ত্রী নিপু সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। কাউন্সিলর আজাদকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেন। তবে, কাউন্সিলর এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেননি বলেও জানান তিনি।
মনোয়ারা বেগম বলেন, নিপু আমার সংসার ভাঙতে যা যা করা দরকার তার সবটুকু করছে। বর্তমানে স্বামী এরশাদুল হক আমাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করছেন। শুধু তা-ই নয় আমার সন্তানকেও তিনি অস্বীকার করছেন। এর পেছনে শক্তি হিসেবে কাজ করছে ছাত্রলীগ নেতা নিপু।
তিনি বলেন, বর্তমানে আমি হিরণ মাহমুদ নিপু ও তার সহযোগিদের হুমকিতে সন্তানদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রতিটা মুহূর্ত আতঙ্কে রয়েছি। যে কোনো সময় সে তার বাহিনী নিয়ে আমার উপর সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে। এমনকি প্রাণনাশেরও আশঙ্কা করছি। এমতাবস্থায় নিপু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!