সোমবার, ২০ মে, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সিলেটে ইফতারি নিয়ে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে গৃহবধু হত্যা, শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন  » «   সিলেট থেকেই বিএনপি পূনর্গঠনের কাজ শুরু : ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন  » «   মাছের ঝুড়িতে ফেঞ্চুগঞ্জের এসিল্যাল্ডের লাথি : মীমাংসা করলেন এমপি  » «   বালাগঞ্জে পৃথক ৩টি অনুষ্টানে এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর যোগদান  » «   বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর প্রবাসী কল্যাণ সমিতি যুক্তরাষ্ট্র ইনকের ইফতার ও দোয়া মাহফিল  » «   আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে  » «   কুলাউড়া-শাহাবাজপুর রেললাইন নির্মাণ কাজে ধীর গতিতে অসন্তোষ  » «   সিলেটে চাচাকে কোপালো ভাতিজা  » «   বিশ্বনাথের মাছুম অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন যেভাবে…  » «   সাগরে নৌকাডুবি : অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেন বিশ্বনাথের মাছুম  » «  

সিলেটে ‘আবুসিনা ছাত্রাবাস’ আন্দোলন, বেজায় চটলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী

সুরমা নিউজ:
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আবুসিনা ছাত্রাবাসের জায়গায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে সম্প্রতি শুরু হওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে চটেছেন সদ্য সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মোহিত। তিনি বলেছেন, আবুসিনা ছাত্রাবাসকে সংরক্ষণের দাবি তুলে যারা হাসপাতাল নির্মাণ বানচাল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটা নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা কোনোভাবেই হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ করতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আশফাক আহমদের নির্বাচনী গণসংযোগে খাদিমনগর ইউনিয়নের বড়শালা নতুনবাজারে সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের স্থলেই হাসাপাতাল হচ্ছে। জেলার স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক চিন্তা বিবেচনায় সরকার পরিত্যক্ত এই ভবনটিকে জনকল্যাণের স্বার্থে ব্যবহার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অর্থমন্ত্রী বলেন ১৯৩৬ সালেও এখানে একটি হাসপাতাল ছিল। সেই হাসপাতালটি ই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল নির্মান করছে সরকার ।

প্রসঙ্গত, আবুসিনা ছাত্রাবাসকে বিভাগীয় মিউজিয়াম গড়ে তোলার দাবি জানালো সেভ দ্য হেরিটেজ এন্ড এনভায়রনমেন্ট নামের একটি সংগঠন। বুধবার আবুসিনা ছাত্রাবাস বহাল রাখার দাবি এবং জেলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মানের প্রতিবাদে এই সংগঠন মানববন্ধন চালিয়ে গেলেও বুধবার বোল পাল্টিয়ে মিউজিয়াম বানানোর দাবি তুলেছে সংগঠনটি। বুধবার ৫ টা থেকে পরিত্যক্ত আবু সিনা ছাত্রাবাসের সামনে সংগঠনটির অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। তাছাড়া, জেলা হাসপাতাল নির্মানের সরকারি সিদ্বান্তটিকেও স্বাগত জানান তারা।

মঙ্গলবার সরকারি সিদ্বান্তের বিরোধিতা করে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল অন্য স্থানে নির্মানের দাবি জানিয়ে দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। তাদের দাবি ১৮৭৬ সালে সিলেটের প্রথম সংবাদপত্র ‘শ্রীহট্ট প্রকাশ’ প্রকাশিত হয় এই ভবন থেকেই। পরে ১৯৩৬ সালে এ বাড়িতে মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য ছোট পরিসরে একটি হাসপাতাল চালু করা হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় এ হাসপাতালের বর্ধিতাংশে বার্মা-ইংরেজ সৈনিকদের চিকিৎসা দানের লক্ষ্যে মিলিটারি হাসপাতাল চালু করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে এ ভবনে মেডিকেল শিক্ষাদানের জন্য নির্মাণ করা হয় ‘লাইসেন্সড মেডিকেল ফ্যাকাল্টি’ (এলএমএফ)। ১৯৬২ সালে এটিকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত করা হয়। ১৯৪৮ সালে এ ভবনের দেয়াল নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাড়িটি রক্ষা পায়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৮-৭৯ সালে হাসপাতালটি কাজলহাওরে পরিপূর্ণভাবে স্থানান্তরিত হলে ভবনটি ‘আবু সিনা ছাত্রাবাস’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন সেভ দ্য হেরিটেজ এন্ড এনভায়রনমেন্ট এর আব্দুল হাই আল-হাদি জেলা হাসপাতাল নির্মাণে সিলেটবাসীর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘আমরাও হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে নই। আমরা চাই, যেহেতু আবুসিনা ছাত্রাবাস অনেক পুরাকীর্তির স্মৃতি বহন করে , অতএব, এইস্থানে হাসপাতালের পাশাপাশি মিউজিয়ামের জন্য একটু স্থান রাখা দরকার ’।

বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর করিম কিম বলেন, ‘আবুসিনা ছাত্রাবাসেই সিলেটের বিভাগীয় মিউজিয়াম নির্মান হোক। জেলা হাসাপতাল অন্য কোনো স্থানে নির্মাণ করা হলে আমাদের তাতে কোনো বাধা থাকবে না’।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!