সোমবার, ২০ মে, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সিলেট থেকেই বিএনপি পূনর্গঠনের কাজ শুরু : ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন  » «   মাছের ঝুড়িতে ফেঞ্চুগঞ্জের এসিল্যাল্ডের লাথি : মীমাংসা করলেন এমপি  » «   বালাগঞ্জে পৃথক ৩টি অনুষ্টানে এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর যোগদান  » «   বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর প্রবাসী কল্যাণ সমিতি যুক্তরাষ্ট্র ইনকের ইফতার ও দোয়া মাহফিল  » «   আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে  » «   কুলাউড়া-শাহাবাজপুর রেললাইন নির্মাণ কাজে ধীর গতিতে অসন্তোষ  » «   সিলেটে চাচাকে কোপালো ভাতিজা  » «   বিশ্বনাথের মাছুম অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন যেভাবে…  » «   সাগরে নৌকাডুবি : অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেন বিশ্বনাথের মাছুম  » «   সেমি-ফাইনালে চার দলে বাংলাদেশকে রাখলেন আকাশ চোপড়া, পাকিস্তানিদের উপহাস  » «  

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল তারকা সিলেটের শান্ত

স্পোর্টস প্রতিবেদক:
হাসিবুল হোসেন শান্ত। জন্ম: ৩ জুন, ১৯৭৭) মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল তারকার নাম, নব্বই দশকে যে কয়জন প্রতিভাবান ক্রিকেটার এসেছিল বাংলাদেশ দলে তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই পেস তারকা। ১৯৯৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রপি জয়ে যার আছে অবদান, যার ফলে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার ছাড়পত্র পায় বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালের আইসিসি’র বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম জয়ে বল হাতে রেখেছিলেন অসামান্য অবদান।

বাংলাদেশের সবচেয়ে গতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে হাসিবুল হোসেন শান্তর। ১৯৯৫ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু একসময়ের দেশ সেরা এই পেসারের।

১৯৯৭ সালে ১৩ ই এপ্রিল মালেশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রপির ফাইনালে বাংলাদেশ মুখোমুখি কেনিয়ার, এই ম্যাচ জিতলেই ১৯৯৯ সালের আইসিসি বিশ্বকাপে পা রাখবে বাংলাদেশ। আর প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক কোনো শিরোপা জিতবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যখন এই মাহেন্দ্রক্ষনের সামনে দাঁড়িয়ে, তখন স্টিভ টিকলোর ১৪৭ রানের উপর ভর করে ২৪১ রান সংগ্রহ করে কেনিয়া। বাংলাদেশের সামনে যখন ২৪১ রান তাড়া করলে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পুরনের দারপ্রান্তে তখনি কুয়ালালমপুরের আকাশ কাল হয়ে নামে বৃষ্টির হানা। ফলে বৃষ্টিবৃঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ২৫ ওভারে ১৬৬ রান। রফিক, নান্নু, আমিনুল, আকরাম খানরা সেই রান তাড়া করতে নেমে জয়ের কাছে পৌঁছে গেলেও এক পর্যায়ে প্রয়োজন হয় এক বলে এক রান।

ক্রিজে তখন হাসিবুল হোসাইন শান্ত ও খালেদ মাসুদ পাইলট, স্ট্রাইকে তখন শান্ত। শান্ত যদিও বোলার, বোলিং করা যার মূল কাজ কিন্তু সেদিন ব্যাট হাতে শেষ বলে এক রান নিয়ে নিজের ইতিহাসের পাতায় লিখিয়েছিলেন তিনি। কুয়ালালামপুরে সেই এক রান নিয়ে যেভাবে দৌড় দিয়েছিলেন শান্ত আর পাইলট, তাদের সাথে বিজয়ের আনন্দে ভেসে ছিল সারা বাংলাদেশও।

১৯৯৯ সালের আইসিসি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জয় পায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে, যা ছিল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম জয়। সেই ম্যাচে বল দুই উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ে রেখেছিলেন অসামান্য অবদান।

১৯৯৭-৯৮ সালে বাংলাদেশের প্রথম প্রথম শ্রেনীর ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি,যে ম্যাচে ১৪৩ রানে ৬ উইকেট লাভ করেছিলেন যা বাংলাদেশীদের মধ্যে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে প্রথম বোলার ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সেঞ্চুরি এবং নাইমুর রাহমান দূর্জয়ের ছয় উইকেট স্মরনীয় হয়ে থাকলে তাদের সাথে ইতিহাসের পাতায় শান্তর নাম লেখা আছে,কারন বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট প্রথম বলটা যে করেছিলেন নব্বই দশকের দেশসেরা এই পেস তারকা।

পাঁচ টেস্টে ৬ উইকেট আর ৩২ ওয়ানডেতে ২৯ উইকেট যা তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার। বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মর্তুজার আগমনে এই অল্পতে থামে তার

এই ছোট ক্যারিয়ার। কারণ মাশরাফি বিন মর্তুজা বল যে গতি ছিল তারচেয়ে বেশি, ফলে দেশের ক্রিকেটের নতুন সেই গতি তারকার জন্য জাতীয় দলে নিজের জায়গা হারাতে হয় শান্তকে। ফলে ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিদায় জানান দেশের একসময়ের সবচেয়ে বেশি গতির এই পেস বোলার।

২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যান ২০০৭ সাল পর্যন্ত। যেখানে ২০০৫-০৬ সালে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে নিজ বিভাগ সিলেটের হয়ে নয় ম্যাচে নেন ৫৭ উইকেট। সে মৌসুমে ইনিংসে পাঁচ বা তারচেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছিলেন সাতবার,ম্যাচে ১০ উইকেট পেয়েছিলেন দুইবার। ইনজুরি আর ওভারস্টেপিং প্রভাবে ২০০৭ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটকে বিদায় জানান হাসিবুল হোসেন শান্ত। বর্তমানে আছেন বিসিবি’র বয়সবিত্তিক দলের নির্বাচক হিসেবে। লাস্ট বিপিএলে ছিলেন সিলেট সিক্সার্সের ম্যানেজারের দায়িত্বে।

সেই সময়ের বাংলাদেশ ক্রিকেটে হাতগুণা কয়েকজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের তালিকা করলেও সে তালিকায় শান্তর ঠাই হবে। তখনকার সময়ে আকরাম, বুলবুল, নান্নু, অপি, বিদ্যুৎ, রোকনদের সাথে শান্তও ছিলেন আলোচিত ক্রিকেটার।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!