মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক খানের নামে সিলেটে রাস্তা নামকরণের দাবি প্রবাসীদের  » «   মেয়েকে বলেছি তোমার মা আল্লাহর কাছে, আমিই এখন তোমার মা এবং বাবা  » «   সিলেটে ধর্ষণ ও সন্তানদেরকে গুম করে ফেলার হুমকি ছাত্রলীগ নেতার  » «   ১৪দিনেও উদ্ধার হয়নি ব্রিটিশ কন্যার স্বামী, মামলা নিচ্ছে না পুলিশ  » «   যুক্তরাজ্যে দয়ামীর ইউনিয়ন এডুকেশন ফোরাম ইউকের আত্মপ্রকাশ  » «   সুনামগঞ্জে আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৪  » «   সিলেটসহ সাত জেলায় সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী-সন্তানসহ ১০ জনের মৃত্যু  » «   সিলেটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত যারা  » «   নৌকার প্রার্থী আতাউরের বাড়িতে বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী পল্লব!  » «   হবিগঞ্জে প্রেমিকের সাথে অভিমান করে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা  » «  

মৌলভীবাজারের ৬ উপজেলায় চ্যালেঞ্জের মুখে নৌকার প্রার্থীরা

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার থেকে:
মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে ৬টিতে বিদ্রোহীদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে নৌকার প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এ ৬ উপজেলায় ২য় দফায় আগামী ১৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে দলীয় কোন্দল মিটিয়ে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে অনেকটা উদাসীন বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ এ অভিযোগ আওয়ামীলীগের মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের।
একমাত্র মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী কামাল আহমদের সাথে কোন প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন।
জেলার বড়লেখা উপজেলায় নৌকার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম সুন্দরের জয়ে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি মো. সিরাজ উদ্দিন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপির ভাগনা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদ। তবে সোয়েব আহমদ মনোনয়ন দাখিলের পূর্বে এক ভিডিও বার্তায় মামা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপির সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। হাতে গুনা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ব্যতিত বেশিরভাগ নেতাকর্মী প্রকাশ্যে নৌকার বিপক্ষে প্রচারণায় নেমে পড়ায় সাধারণ ভোটাররা মন্ত্রীর এলাকায় নৌকার ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন।
জুড়ী উপজেলায় নৌকার কান্ডারি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান গুলশান আরা চৌধুরী মিলির প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ তারই দেবর হল্যান্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোঈদ ফারুকের প্রার্থী হওয়াটা। ভাবির পথের প্রধান কাটা দেবর আব্দুল মোঈদ ফারুক। বিষয়টি নিয়ে গোটা উপজেলা জুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তবে স্বতন্ত্র উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী কিশোর রায় চৌধুরী মনি দেবর-ভাবিকে মাঠে রেখে গোল দিতে পারেন বলে ভোটাররা মন্তব্য করছেন।
কুলাউড়া উপজেলায় নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলামকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন দলের অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শফি আহমদ সলমান। তবে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নবাব আলী নকি খান এ দুই প্রার্থীকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলেছেন। কুলাউড়ার দক্ষিণাঞ্চলে তিনি একক প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীকে ধরাশায়ী করতে পারে আঞ্চলিকতা। ভোটাররাও মুখ খুলতে চাইছেন না নির্বাচন নিয়ে। ফলে কুলাউড়া উপজেলায় নির্বাচনী জরিপ সবার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলায় নৌকার কান্ডারি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমানের জন্য চ্যালেঞ্জ হলেন সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপির ছোট ভাই ইমতিয়াজ আহমদ বুলবুল। ভাইয়ের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি চাইছেন নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে। ভোটাররা অবশ্য বিষয়টি দেখছেন বাঁকা চোখে। তবে নৌকার ভরাডুবি ঘটে তাহলে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে সাবেক চীফ হুইপ আব্দুস শহীদকে। কেননা তার ভাইকে নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়া ঠেকাতে পারেননি তিনি।
রাজনগর উপজেলার নৌকার কান্ডারি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আছকির খানের জন্য হুমকি হিসেবে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিদ্রোহী প্রার্থী মিছবাহুদ্দোজা ভেলাই। আছকির খান দলের সাধারণ সম্পাদক। ফলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের লড়াই বেশ জমবে। ভোটাররাও বিষয়টি বেশ উপভোগ করছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রণধীর কুমার দেব এর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিদ্রোহী প্রার্থী আফজাল হক। ইতোমধ্যে আফজাল হক দলের মধ্যে ও দলের বাইরে নিজের একটা সুসংহত অবস্থান তৈরি করেছেন। গোটা জেলায় যদি এবার নৌকার ভরাডুবি ঘটে তাহলে আওয়ামী লীগের একটি অংশ ও বিএনপি এটাকে সরকারের প্রতি অনাস্থা বলে প্রচারণা চালাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!