মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক খানের নামে সিলেটে রাস্তা নামকরণের দাবি প্রবাসীদের  » «   মেয়েকে বলেছি তোমার মা আল্লাহর কাছে, আমিই এখন তোমার মা এবং বাবা  » «   সিলেটে ধর্ষণ ও সন্তানদেরকে গুম করে ফেলার হুমকি ছাত্রলীগ নেতার  » «   ১৪দিনেও উদ্ধার হয়নি ব্রিটিশ কন্যার স্বামী, মামলা নিচ্ছে না পুলিশ  » «   যুক্তরাজ্যে দয়ামীর ইউনিয়ন এডুকেশন ফোরাম ইউকের আত্মপ্রকাশ  » «   সুনামগঞ্জে আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৪  » «   সিলেটসহ সাত জেলায় সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী-সন্তানসহ ১০ জনের মৃত্যু  » «   সিলেটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত যারা  » «   নৌকার প্রার্থী আতাউরের বাড়িতে বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী পল্লব!  » «   হবিগঞ্জে প্রেমিকের সাথে অভিমান করে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা  » «  

একজন নারী ফ্রিল্যান্সারের সফলতার গল্প

সুরমা নিউজ ডেস্কঃ
মেরিলিন আহমেদ, একজন বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার। নারী হয়েও তিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে সাভলম্ভি করে তুলেছেন। দেশে বসে সামলাচ্ছেন বিদেশের চার প্রতিষ্টান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্কে শীর্ষ আয়ের তালিকায় বাংলাদেশের মেরিলিন আহমেদ উটে এসেছেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা অনুপ্রানিত হতে পারে তার এই সাফল্যে।

অনলাইনের একটিমাত্র মার্কেটপ্লেস থেকে তার আয় মাসে গড়ে দুই লাখ টাকা। দেশে বসে বিদেশের চারটি প্রতিষ্টানের কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে মানবসম্পদ বিভাগ সহ প্রতিষ্টানের মুল দায়িত্ব পালন করছেন। ফ্রান্সের একটি কোম্পানি তাকে সে দেশে চলে যাবার প্রস্তাব করলেও তিনি যাননি। দেশে গড়ে তুলতে চাইছেন মানবসম্পদ নিয়ে কাজ করা একটি প্রতিষ্টান।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে মেরিলিন আহমেদ মূলত মানবসম্পদ ব্যাবস্থাপক ও প্রকল্প পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি ফ্রান্সের একটি প্রতিষ্টানে ২৫০ জন কর্মীর মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে আছেন। ১৮ টির বেশি দেশের লোক সেখানে একসাথে নিজ নিজ দেশ থেকে কাজ করছেন। এর পাশাপাশি আরও তিনটি প্রতিষ্টানের সাথে তিনি যুক্ত আছেন।

মেরিলিন আহমেদ যে বিভাগে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করছেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ফ্রিল্যান্সারের সংখা হাতেগুনা। ব্যাবসা আর চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করলেও নিজেকে তিনি একজন পুরোপুরি ফ্রিল্যান্সার হিসেবেই পরিচয় দেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ, এমবিএ ও পরবর্তীতে মানবসম্পদ বিষয়ক ডিপ্লোমা করে দেশের নামকরা প্রতিষ্টানে চাকরি করেছেন। মানবসম্পদ বিভাগে দেশের বড় বড় প্রতিষ্টানে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং ছিল তার পছন্দের পেশা। তাই মুল পেশা হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং বেছে নিয়েছেন। কারন এই পেশায় নিজের স্বাধীন সময়মতো কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি নিজের সুবিধাজনক সময়ে চাকরি করছেন। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পিজিডিএইচআর কোর্স পড়াচ্ছেন।

গত তিন বছরে অনলাইনে তিনি ৪৫০ জনেরও বেশী আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ দিয়েছেন। যতগুলি প্রতিষ্টানে তিনি যুক্ত আছেন, প্রতিটি প্রতিষ্টানের প্রধান নির্বাহী তার উপর ভরসা করেন। তাইতো সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সময়ের ব্যাবধানে সুবিধা থাকার জন্য তিনি ইউরোপীয় গ্রাহকদের সাথে কাজ করতে বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে মেরিলিন আহমেদের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। কর্পোরেট চাকরি করতে করতে তিনি ক্লান্ত। বিকল্প রাস্তা খুজতে গিয়ে ফ্রিল্যান্সিং মনে ধরে। সিদ্ধান্ত নেন ফ্রিল্যান্স্যার হবেন। মার্কেটপ্লেসগুলো নিয়মিত ঘেটে কাজ খুজতেন। ২০১৩ সাল থেকে ডেটা এন্ট্রি, লেখালেখিতে কাজ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। প্রথম কাজ পেতেই ছয় মাস সময় লেগেছিল। এতে তিন ধৈর্য হারাননি। প্রথম কাজ শেষ করার পর আরও কয়েকটি কাজ পান। কিন্তু তিনি যে বিষয়ে দক্ষ, সে বিষয়ে কাজ পাচ্ছিলেন না।

এর মধ্যে শুরু করেন নিজের প্রতিষ্টান ও ব্যাবসা। নিজের ব্যাবসার আয় বাড়াতে ও প্রতিষ্টানকে টিকিয়ে রাখতে ফ্রিল্যান্সিংকে গুরুত্ব দেন। একসময় বিদেশি গ্রাহকও পেয়ে যান। এরপর আর তার পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি।

মেরিলিনের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে তার কঠোর অধ্যাবসায়, ঘুমহীন রাত, ধৈর্য আর উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। নিজের সবচেয়ে ভাল কাজ উজার করে দেওয়ার মাধ্যমেই কাজে সফলতা আসবে। এটাই তার সাফল্যের গোপন রহস্য। টাকা দিয়ে বিচার করে নয়, বরং মন দিয়ে কাজ করার মাধ্যমে সফলতা পেয়েছেন।

শুরুতে কাজ করতে গিয়ে পরিবারের সমর্থন পেলেও বড় প্রতিষ্টানের চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় শূনতে হয়েছে নানা কটু কথা। এসব পাশ কাটিয়ে নিজ সিদ্ধান্তে অঠল থেকে ধৈর্য আর পরিশ্রমে সফলতা লাভ করেছেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে তাই কিছুটা সময়ের দরকার হয়েছে। ভালো ক্লায়েন্ট পাওয়া নিয়ে রীতিমতো গবেষনা করতে হয়েছে। নিজ কাজের দক্ষতা দ্বারা গ্রাহকদের মন জয় করতে এখনও কাজ করে যাচ্ছেন।

ফ্রিল্যান্সিং পেশায় কেউ কাউকে কাজ দেয় না। নিজের কাজ নিজ যোগ্যতায় আদায় করে নিতে হয়। নিজের উপর বিশ্বাস রেখে ভাল করে শিখে তারপর চর্চার মাধ্যমে এই পেশায় নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হয়। এটা সম্পূর্ণ নিজের উপর নির্ভর করে। ভাষাগত সমস্যা কোন বাধা না। কাজ শিখার মাধ্যমে দক্ষতাই হলো আসল।

মেরিলিন আহমেদ এর মতে, ‘কাজ যেন চাইতে না হয়, কাজই যেন আপনাকে খুজে নেয়’। এভাবেই এগোতে হয়। তিনি দেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি পরামর্শক প্রতিষ্টান গড়ে তুলার ইচ্ছা আছে। নতুনরা যাতে এই প্রতিষ্টানের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং পেশায় নিজেকে যুক্ত করতে পারে এটাই তার উদ্দেশ্য।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!