মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক খানের নামে সিলেটে রাস্তা নামকরণের দাবি প্রবাসীদের  » «   মেয়েকে বলেছি তোমার মা আল্লাহর কাছে, আমিই এখন তোমার মা এবং বাবা  » «   সিলেটে ধর্ষণ ও সন্তানদেরকে গুম করে ফেলার হুমকি ছাত্রলীগ নেতার  » «   ১৪দিনেও উদ্ধার হয়নি ব্রিটিশ কন্যার স্বামী, মামলা নিচ্ছে না পুলিশ  » «   যুক্তরাজ্যে দয়ামীর ইউনিয়ন এডুকেশন ফোরাম ইউকের আত্মপ্রকাশ  » «   সুনামগঞ্জে আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৪  » «   সিলেটসহ সাত জেলায় সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী-সন্তানসহ ১০ জনের মৃত্যু  » «   সিলেটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত যারা  » «   নৌকার প্রার্থী আতাউরের বাড়িতে বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী পল্লব!  » «   হবিগঞ্জে প্রেমিকের সাথে অভিমান করে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা  » «  

অপরাধ

নাসিফ জাবেদ নীলয়:
অপরাধ সমাজের একটি আতঙ্কের নাম। আর এর প্রধান [বৈশিষ্ট] হচ্ছে মানুষ। অপরাধ এর সাধারণত কোন কারণ হয় না। বেশিরভাগ সময় অপরাধীরা মনে করে তারা কোন ভুল কাজ করছে না এবং তারা কখনই ধরা পড়বে না সেই সাহস নিয়ে তারা অপরাধ করে যাচ্ছে। অপরাধমুলক আচরণ কোন মানসিক ব্যাধি নয় এটি একটি ইচ্ছাকৃত কর্ম যা মানুষ সচরাচর করে থাকে। অপরাধ হল এমন একটি নাম যা এক সভ্য জগতে চলতে পারে না। অপরাধ মানুষকে একটি সভ্য জগত থেকে অসভ্য জগতে পরিণত করতে সাহায্য করে। অপরাধ করা আর অপরাধীদের সাহায্য করা দুটোই সমান অপরাধ। একজন মানুষ নিজেকে যতটুকু ভালবাসে তার থেকে বেশি ভালবাসে তার পরিবারকে আর সেই পরিবারকে সুরক্ষা করার জন্য নিজের জান পর্যন্ত দিতে দ্বিধাবোধ করে না। কিছু মানুষের পেশা হচ্ছে অপরাধ করা আবার কিছু মানুষ নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আইন ভঙ্গ করে অপরাধ করছে এবং তারা এটিকে আশীর্বাদমূলক বিজয় হিসেবে গ্রহণ করছে। এখনকার মানুষ অপরাধকে একরকম অভ্যাস এ পরিণত করেছে যা তারা দৈনিক রুটিন করে পালন করছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ প্রতিনিয়ত নানা কারণে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আর এর প্রধান কারণগুলো হচ্ছেঃ

১. বেকারত্বের কারণ
বেকারত্ত মানুষের অন্যতম সমস্যা। এ দেশের বেকারত্তের হার দিন দিন বেড়েই চলছে। পড়া-লেখা শেষ করে ও মিলছে না চাকরি। সরকার বেকারত্ত দূরীকরণের জন্য নানা পদক্ষেপ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কিন্তু এর ফলে ও কোন সমাধান হচ্ছে না। একজন মানুষ তার পড়া লেখা শেষ করে কোন চাকরি পাচ্ছে না বেকার হয়ে বসে আছে। অন্যান্য দেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী তার পড়ালেখা শেষ করে যোগ্যতা সম্পূর্ণ চাকরি পাচ্ছে অথচ আমাদের দেশে তার বিপরীতটা হচ্ছে ফলে ঘুষ দিয়ে ও মিলছে না চাকরি। সংসারের দায়িত্বভার নিজের কাধে হওয়ার কারণে বেকারত্ত কত প্রকার তা হারে হারে টের পাচ্ছে তাই নিজ নিজ ইচ্ছায় অপরাধের সাথে জড়িয়ে বেকারত্ত দূর করার জন্য প্রতিনিয়ত অপরাধ করে যাচ্ছে। অপরাধকে তারা নিজের বন্ধু হিসেবে বিবেচিত করছে।

২.দারিদ্রতার কারণ
দারিদ্রতা বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা। দারিদ্রতা পূরণের জন্য মানুষ কত কিছুই না করে থাকে। জনসংখ্যার হার বৃদ্ধির কারণে এ দেশের দারিদ্রতার হার দিন দিন বেড়েই চলছে এর ফলে গরিব আরো গরিব হয়ে যাচ্ছে। একটি ছোট জমি ও কিছু গবাদি পশু পালন করে দারিদ্রতা মেটানো সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য সমস্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে দারিদ্র্যের গভীরতা আরও বেড়েই চলছে। বিশেষ করে বন্যা কবলিত এলাকা গুলোতে দারিদ্রতার চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে। বর্তমান যুগে দারিদ্র দুর্নীতির কারণ হচ্ছে অপরিপূর্ণ সরকার গঠন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেকেই বন্যার প্রবণতা ভোগ করে এতে তাদের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাদের ঘরবাড়ি পূর্ণনির্মাণের জন্য অর্থ দাতাদের প্রয়োজন হয় কিন্তু তাদের দারিদ্রতা পূরণের জন্য সরকার এগিয়ে আসে না। দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তাদের অনেক পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে এতে করে মানুষ দারিদ্রতা পূরণের জন্য বিভিন্ন কারণে দিন দিন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে।

৩.পারিবারিক কারণ
অপরাধ জগতের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ হচ্ছে পারিবারিক সমস্যা। আর এর প্রধান কারণ হচ্ছে পিতা-মাতা। তারা তাদের কাজ নিয়ে এতই ব্যস্ত থাকে ফলে তাদের সন্তানেরা তাদের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত নানা কারণে ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকে ফলে তাদের সন্তানেরা তাদেরকে আরও কাছে পায় না। এতে তাদের সাথে পিতা-মাতার সম্পর্ক গভীর হয় না এবং তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে থাকে। সন্তানেরা বেড়ে উঠার সাথে সাথে তাদের দিক নির্দেশনা ও সহায়তা না করার ফলে তারা বিপদে পড়ে যায় এবং একটি পরিবার যাদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য কোন ভাল পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নেই ফলে তারা নিরুপায় হয়ে তাদের সন্তানদের একটু একটু করে অপরাধের সাথে আবদ্ধ হতে বাধ্য করছে। তাদের সন্তানেরা তখন বর্তমান আর্থিক দিকের কথা চিন্তা করে অপরাধের খাতায় নাম লেখাচ্ছে। পারিবারিক কলহের কারণে বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

৪.শারীরিক কারণ
শারীরিক সমস্যা একটি মানুষের দৈনিন্দন জীবনে খারাপ প্রভাব ফেলতে সক্ষম করে। শত প্রচেষ্টার ফলেও একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে না পারা সেটিও একটি শারীরিক সমস্যার একটি কারণ বলে বিবেচিত হয়। ড্রাগ ও অ্যালকোহল একজন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। একটি ড্রাগ মানুষকে স্বাভাবিক আচরণ থেকে বিরত করে এবং অপরাধ করার ইচ্ছাশক্তিকে প্রভাবিত করে। শৈশব জীবনে নির্যাতিত হওয়ার ফলে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে শারীরিকভাবে অপরাধমূলক শিকারি হয়ে উঠে। একটি পরিবার তাদের সন্তানের মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য কত কিছুই না করে থাকে। একজন মানুষ নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে এতে যেমন নিজের ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি সমাজের ও শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।

৫.রাজনৈতিক কারণ
বর্তমান সময়ে রাজনীতি মানুষের এক প্রকার ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনকার মানুষ তাদের প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে রাজনীতিকে চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। রাজনীতি সবার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনীতি হচ্ছে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করা এবং দেশকে সঠিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অথচ এই রাজনীতিকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে কিছু অসাধু মানুষ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অপকর্মে নিয়োজিত হচ্ছে। অপরাধীরা বেশিরভাগই সমাজের সর্বনিম্ন স্তর থেকে আসে এবং তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজনীতিকে একটি অসামাজিক কার্যকম হিসেবে গড়ে তুলছে। তারা তাদের ব্যক্তিগত সমস্যাকে রাজনীতির সাথে সংযুক্ত করে একের পর এক অপরাধ করেই যাচ্ছে।

৬.বিচার ব্যবস্থার কারণ
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার কথা না বল্লেই চলে কারণ এ দেশের বিচার ব্যবস্থার হাল দিন দিন এমন অবনতির দিকে চলে যাচ্ছে ফলে মানুষ আইন এর উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। আইন সবার জন্য সমান কিন্তু বিচার ব্যবস্থা সঠিকভাবে না হওয়ার কারণে জনগণের সমস্যা সুষ্ঠুভাবে সমাধান হচ্ছে না ফলে তারা নিরুপায় হয়ে ন্যায়বিচার দাবির জন্য বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। এতে জনগণের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি সমাজের ও শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন আইনে বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযুক্ত আসামীদের আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ হয়ে বিচার করতে হবে এবং তাদের প্রাপ্য সাজা দিতে হবে তাহলে বিচার ব্যবস্থার সঠিক প্রণয়ন হবে কিন্তু বিচারব্যবস্থার সঠিকভাবে প্রণয়ন না হলে দেশের প্রতি জনগণের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাবে।

আসুন অপরাধকে না বলি। অপরাধ দমনে এ দেশের প্রতিটি মানুষদেরকে সোচ্চার হতে হবে। এ দেশকে রক্ষা করতে হলে অপরাধকে চিরতরে দমন করতে হবে। এ দেশ জনগণের দেশ। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য দেশকে সঠিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হলে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। বাংলাদেশ একটি সাংবিধানিক-শান্তিপূর্ণ, জঙ্গিবাদ-অপরাধ-দারিদ্র ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে এটাই জনগণের একমাত্র আশা।
লেখক:
নাসিফ জাবেদ নীলয়,
গণ-যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,  মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ঢাকা, বাংলাদেশ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!