মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক খানের নামে সিলেটে রাস্তা নামকরণের দাবি প্রবাসীদের  » «   মেয়েকে বলেছি তোমার মা আল্লাহর কাছে, আমিই এখন তোমার মা এবং বাবা  » «   সিলেটে ধর্ষণ ও সন্তানদেরকে গুম করে ফেলার হুমকি ছাত্রলীগ নেতার  » «   ১৪দিনেও উদ্ধার হয়নি ব্রিটিশ কন্যার স্বামী, মামলা নিচ্ছে না পুলিশ  » «   যুক্তরাজ্যে দয়ামীর ইউনিয়ন এডুকেশন ফোরাম ইউকের আত্মপ্রকাশ  » «   সুনামগঞ্জে আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৪  » «   সিলেটসহ সাত জেলায় সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী-সন্তানসহ ১০ জনের মৃত্যু  » «   সিলেটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত যারা  » «   নৌকার প্রার্থী আতাউরের বাড়িতে বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী পল্লব!  » «   হবিগঞ্জে প্রেমিকের সাথে অভিমান করে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা  » «  

সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ

সুরমা নিউজ :
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই সিলেটে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। তারও আগে থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। সেই ২৫ মার্চের কালরাতে বিচ্ছিন্নভাবে সিলেট শহরের পাড়া-মহল্লায় বাঁশ, গাছ, ইট ফেলে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। কার্ফুর মধ্যেই আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধের উদ্যোগ নেন। সিলেটের যুবক-তরুণরা দলে দলে যোগ দেন মুক্তিবাহিনীতে; রাজনৈতিক নেতারা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকারের কর্মকাণ্ডে। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে সিলেটের অনেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সিলেট জেলার প্রবাসীরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জনমত গঠন ও অর্থ সংগ্রহ করে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বিকেলে সিলেট শহরের লাঠি মিছিলের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। সাধারণ মানুষ সেভাবে বুঝতে না পারলেও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে সেই রাতে ‘কিছু একটা হওয়ার’ কথা। এ অবস্থায় শহরের সুরমা মার্কেটে আওয়ামী লীগ অফিসে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে ইসমত আহমদ চৌধুরী, সিরাজ উদ্দিন আহমদ, শাহ মোদাবি্বর আলী, আবদুল মুনিম, ডা. নূরুল হোসেন চঞ্চল, আখতার আহমদ, লুৎফুর রহমান এমপি, এ নুরুল ইসলাম, এনামুল হক চৌধুরী, সদর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, শোয়েব আহমদ চৌধুরী, রফিকুল হক, রইস আলী, এনামুল হক, মকসুদ ইবনে আজিজ লামা, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, শাহ আজিজুর রহমান প্রমুখকে পাকিস্তানি বাহিনীকে মোকাবেলায় প্রতিরোধের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজী দায়িত্ব ও এলাকা বণ্টন করে দেন।
এ ছাড়া মার্চ মাসের শুরুতেই এএইচ সা’দত খানকে আহ্বায়ক করে অন্যদের সদস্য রেখে বৃহত্তর সিলেট জেলা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। সেই সময় সিলেট বিভাগের বর্তমান চার জেলাকে নিয়েই সিলেট জেলা ছিল। ৭ মার্চ রাতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তৎকালীন রেডিও পাকিস্তান সিলেট কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রচার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১০ মার্চ বিকেলে মহিলা পরিষদ শহরে মিছিল বের করে। ২৩ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তান দিবসে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এমএনএ দেওয়ান ফরিদ গাজীর শহরের শেখঘাটের বাসায় স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীকালে ডিসি অফিসে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন শোয়েব আহমদ চৌধুরীসহ বেশ ক’জন তরুণ।
সিলেট মহানগর মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার ভবতোষ রায় বর্মণ সেই সময় সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে সিলেট শহরের আম্বরখানা কলোনিতে থাকতেন। সিলেটে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময়কার পরিস্থিতি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে তিনি বলেন, ২৫ মার্চ ও তার পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতি সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি। শহরজুড়ে ছিল থমথমে পরিস্থিতি। তখন তো যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ছিল না। ঢাকায় কী হচ্ছে, কেউ শুরুতে জানতে পারেনি। তবে শহরজুড়ে সামরিক বাহিনীর গাড়ির চলাচল দেখে মানুষের মধ্যে ভয়ঙ্কর কিছুর আশঙ্কা জন্মে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ইপিআরের জওয়ানদেরও টহল দিতে দেখা যায়। এসব দেখে মানুষ কিছু একটার করার জন্য প্রস্তুত হলেও তা যে এত ভয়াবহ হবে, ধারণা করেনি। তবে মুক্তিকামী মানুষের মধ্যে আগে থেকেই প্রতিরোধের প্রস্তুতি ছিল। ১৯ মার্চ শুক্রবার শহরে বিশাল লাঠি মিছিল বের করা হয়। আখালিয়া থেকে শুরু করে সেই লাঠি মিছিল শহরের আম্বরখানা হয়ে চৌহাট্টা পর্যন্ত এসেছিল।
শহরে পাকিস্তানি বাহিনীর তাণ্ডব সম্পর্কে ভবতোষ রায় বলেন, কার্ফু জারি হওয়ায় ২৫ মার্চ রাতে সাধারণ মানুষ কেউ বাসাবাড়ি থেকে বের হয়নি। আমাদের সরকারি কলোনির বাসা থেকে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা গেলেও তা কোনদিক থেকে আসছিল, বোঝা যাচ্ছিল না। এর মধ্যে আম্বরখানা পয়েন্টে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক কয়েকটি দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের কথা পরদিন জানতে পারি। আসলে পুরো শহর যেন স্তব্ধ এক জনপদে পরিণত হয়। এসবের মধ্যেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। শহরের গুয়াইপাড়ায় রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়, যাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যাতায়াতে বিঘ্ন হয়। এভাবে শহরের আরও অনেক জায়গায় ব্যারিকেড দেওয়া হয় বলে পরে জানা যায়। আগের রাতের মতো ২৬ মার্চ ভোরেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় গুলির শব্দ শোনা যায়।
সিলেট শহরে প্রথম শহীদ হন আবদুস সামাদ ফকির নামে প্রগতিশীল বাম ধারার রাজনৈতিক দলের নেতা। শহরের যতরপুর এলাকায় ২৫ মার্চ রাতে ব্যারিকেড দেন এলাকার স্বাধীনতার পক্ষের লোকজন। পরদিন ২৬ মার্চ ভোরে ওই এলাকার মুসলি্লরা নামাজের জন্য বের হলে তাদের লক্ষ্য করেও গুলি করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সে সময় আবদুস সামাদ ফকির গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সিলেটে তিনিই প্রথম শহীদ বলে জানান মুক্তিযোদ্ধা ভবতোষ রায় বর্মণ। তিনি বলেন, তিন দিন শহীদ ফকির ভাইয়ের লাশ যতরপুরের রাস্তায় পড়ে ছিল। এ ছাড়া ২৬ মার্চ ভোরে শহরের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকায় এক রিকশা চালককে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। এ দু’জনকে হত্যার পর থেকে পুরো শহরের বিভিন্ন এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যায়। সেদিন ভোরে নামাজে বা হাঁটতে যারাই বেরিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এক পর্যায়ে সাধারণ মানুষ বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দিলে পাকিস্তানি হানাদাররা হিন্দু ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে হানা দেয়। এছাড়া কারও বাসাবাড়ির দরজা-জানালা খোলা দেখলেও তারা গুলি করে। এমন পরিস্থিতিতে কার্যত শহরের সব যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। তবে সেই সময় যারা রাজনীতি করতেন; বিশেষ করে আওয়ামী লীগ, সিপিবি, ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করেন। কার্ফুর মধ্যেই তাদের অনেকে শহরের বাইরে গ্রামে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি গিয়ে অবস্থান নেন। একটানা তিন দিন পর দু’ঘণ্টার জন্য কার্ফু উঠিয়ে নিলে মানুষজন বাড়ির বাইরে জরুরি কাজ করতে বের হয়। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।
একাত্তরের ৩ এপ্রিলের দিকে শহরের পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ সুরমার দিক থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধের খবর পাওয়া যায়। সুরমা নদীর দক্ষিণ অংশ থেকে কয়েকটি গুলি শহরের দিকে আসে বলেও শোনা যায়। এ অবস্থায় ২৫ মার্চ থেকে শহরজুড়ে টহল দিতে থাকা পাকিস্তান সেনাবাহিনী ৪ এপ্রিলের দিকে বিমানবন্দর (বর্তমানে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) ও জালালাবাদ সেনানিবাসে অবস্থান নেয়। তখন পুরো শহর প্রায় নো-ম্যানস ল্যান্ডে পরিণত হয়। এর মধ্যে ৬ এপ্রিল স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনের উদ্যোগে শহরের আম্বরখানাসহ আশপাশের এলাকায় মাইকিং করে তুমুল যুদ্ধের কথা জানানো হয়। মাইকিং শুনে শহরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাসাবাড়ি ছাড়তে শুরু করেন। বিশেষ করে নানা গুজবের কথা শুনে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া শুরু করে বলে জানান ভবতোষ রায় বর্মণ। তিনি বলেন, সে সময় আমার বন্ধু শহিদুল হক চৌধুরী সেলিমের দরগাগেটের পেছনে মীরের ময়দানের বাসাকে নিরাপদ আশ্রয় বলে মনে হওয়ায় সপরিবারে ওখানে চলে যাই। এভাবে শহরের হিন্দু ও আওয়ামী লীগাররা নিজেদের বাসাবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নিলেও তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। তখন হেঁটে অনেকে সিলেট ও মৌলভীবাজারের সংযোগস্থল শেরপুর হয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে চলে যায়।
ভবতোষ রায় বলেন, আমি নিজে সাইকেলে মৌলভীবাজারের সরকার বাজারে যাই বাবার সঙ্গে দেখা করতে। অনেক কষ্টে ২৬ এপ্রিল সপরিবারে তাহিরপুর হয়েই ভারতে পাড়ি দিই আরও অনেকের সঙ্গে। ওখানে পরিবারের সবাইকে রেখে যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ট্রেনিংয়ে চলে যাই। পরে আরও ২৭ জনের সঙ্গে ৫ নম্বর সেক্টরের অধীন ৪ নম্বর সাব- সেক্টরের হয়ে তামাবিল সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধে অংশ নিই।
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আল আজাদ বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী একাত্তরের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে খাদিমনগরের সামরিক ছাউনি থেকে বেরিয়ে সিলেট শহরের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। একসঙ্গে প্রচণ্ড শব্দে গর্জে ওঠে অসংখ্য আধুনিক মারণাস্ত্র। পাশবিক উন্মত্ততায় রাতের নীরবতা ভেঙে খান খান হয়ে যায়।
সব টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পাড়া-মহল্লায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। স্বাধীনতার অগি্নমন্ত্রে দীক্ষিত টগবগে যুবকরা অবরোধ গড়ে তুলতে আরম্ভ করেন সিলেট শহরের প্রধান প্রধান রাস্তায়। আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে মুহুর্মুহু স্লোগান চলতে থাকে। সবার মনে বজ্র শপথ- প্রাণ যায় যাক, তবু পশ্চিমা হায়নার দলকে রুখতে হবে।
আল আজাদ জানান, পাকিস্তানি জল্লাদরা প্রথমেই সিলেট শহরের মিরাবাজার-যতরপুর এলাকায় একদল দুঃসাহসী যুবকের অবরোধের মুখোমুখি হয়। অমনি হত্যার নেশায় উন্মত্ত হয়ে গুলি ছোড়ে এলোপাতাড়ি। এতে আবদুস সামাদ ফকির নামে বামপন্থি রাজনীতির সমর্থক এক দামাল ছেলের বক্ষ বিদীর্ণ হয়। রাজপথে বয়ে যায় রক্তের স্রোত। প্রিয় স্বদেশকে ভালোবেসে আত্মদানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং গৌরবোজ্জ্বল আত্মদানের কাছাকাছি সময়ে দেশত্যাগের উদ্দেশ্যে সীমান্তের দিকে যাওয়ার পথে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’র অন্যতম আসামি মেজর (অব.) এমএ মুত্তালিব টিলাগড় চৌমুহনায় দু’জন শত্রুকে হত্যা করেন। সিলেট শহরে এই প্রথম পাকিস্তানি হানাদারদের রক্ত ঝরে। তবে বড় ধরনের প্রতিরোধ যুদ্ধটি সংঘটিত হয় আরও ক’দিন পর।
পাকিস্তানি হানাদার সেনারা ২৬ মার্চ ভোর ৫টা থেকে সিলেট শহরে সান্ধ্য আইন (কার্ফু) জারি করে, যা ২৮ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকে। এসব ঘটনার আগে ২৫ মার্চ বিকেলে পুলিশের মাধ্যমে তৎকালীন জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) দেওয়ান ফরিদ গাজীর কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি তারবার্তা আসে; কিন্তু সিলেটের তৎকালীন পুলিশ সুপার আবদুল কুদ্দুছ সেটি লুকিয়ে রাখেন। অবশ্য দেশপ্রেমিক এক সিপাহির মাধ্যমে তা এক সময় প্রাপকের কাছে পেঁৗছে যায় বলে জানান আল আজাদ। দেওয়ান ফরিদ গাজী পরে মুজিবনগর সরকারের ‘নর্থ ইস্ট’ জোনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে। এ ছাড়া তিনি ৪ ও ৫ নম্বর সেক্টরের অধিনায়কের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বৃহত্তর সিলেট ও কিশোরগঞ্জের মুক্তাঞ্চলের প্রশাসকেরও দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মুজিবনগর সরকার ও বিভিন্ন দায়িত্বশীল সামরিক পদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সিলেটের কৃতী সন্তানরা। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন কর্নেল (পরে জেনারেল) মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। এ ছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লে. কর্নেল (পরে মেজর জেনারেল) আবদুর রব, সহকারী চিফ অব স্টাফ লে. কর্নেল (পরে কর্নেল) এআর চৌধুরী, ৪ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর (পরে মেজর জেনারেল) সিআর দত্ত, চিফ অব স্টাফের দপ্তরে স্টাফ অফিসার মেজর আবুল ফাত্তাহ চৌধুরী দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া পাকিস্তান সেনাবাহিনী ছেড়ে বাংলাদেশের হয়ে যুদ্ধে অংশ নেন মেজর জেনারেল মঈনুল হোসেন, ব্রিগেডিয়ার আবদুল আজিজ, কর্নেল এজাজ চৌধুরী, লে. কর্নেল নিরঞ্জন ভট্টাচার্য, মেজর মোত্তালিব, মেজর আবদুল আজিজ, ক্যাপ্টেন মুহম্মদ আবদুর রব প্রমুখ। এদের সবাই পরে পদোন্নতি পান। এ ছাড়া ইপিআর ও পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত অনেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
বেসামরিক লোকদের মধ্যেও অনেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে সরাসরি যুদ্ধ করেন। এদের মধ্যে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টেকেরঘাটে প্রথম সাব-সেক্টর কমান্ডার ও ৪ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন দেওয়ান মাহবুবুর রব সাদী। প্রবাসী সরকারের আইন সচিব ছিলেন সিলেটের আবদুল হান্নান চৌধুরী। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সামাদ আজাদ বাংলাদেশের পক্ষে ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ অঞ্চলের আরেক কৃতী সন্তান (প্রয়াত) হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ভারতের নয়াদিলি্লতে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক প্রতিনিধির দায়িত্বে ছিলেন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলের কণ্ঠশিল্পীরা সংগঠিত হয়ে দেশ-বিদেশে তহবিল সংগ্রহ করে মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রাখেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে সুজেয় শ্যাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অনেক সাংবাদিক গোপনে পত্রপত্রিকা প্রকাশ করেছেন । তথ্য সূত্র : সমকাল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
112Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!