মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক খানের নামে সিলেটে রাস্তা নামকরণের দাবি প্রবাসীদের  » «   মেয়েকে বলেছি তোমার মা আল্লাহর কাছে, আমিই এখন তোমার মা এবং বাবা  » «   সিলেটে ধর্ষণ ও সন্তানদেরকে গুম করে ফেলার হুমকি ছাত্রলীগ নেতার  » «   ১৪দিনেও উদ্ধার হয়নি ব্রিটিশ কন্যার স্বামী, মামলা নিচ্ছে না পুলিশ  » «   যুক্তরাজ্যে দয়ামীর ইউনিয়ন এডুকেশন ফোরাম ইউকের আত্মপ্রকাশ  » «   সুনামগঞ্জে আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৪  » «   সিলেটসহ সাত জেলায় সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী-সন্তানসহ ১০ জনের মৃত্যু  » «   সিলেটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত যারা  » «   নৌকার প্রার্থী আতাউরের বাড়িতে বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী পল্লব!  » «   হবিগঞ্জে প্রেমিকের সাথে অভিমান করে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা  » «  

ভুয়া ছবির খবর পরিহার করুন, গুগল সত্যতা নিজেই জানুন

সুমন মিয়া:
গতকাল সুরমা নিউজ ২৪ (surmanews24) মিথ্যে ছবির সত্যততা নিয়ে একটি খবর প্রকাশ করে। ভাইরাল হয় একটি ছবি যেখানে কয়লায় কাজ করা মা ও তাঁর শিশু সন্তানের ২০১১ সালের এই ছবিটিকে চকবাজের আগ্নিকাণ্ডের ছবি বলে ভাইরাল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অনলাইন পোর্টাল সুরমা নিউজে খবরটির পুরো সত্যতা জেনে নিতে পারবেন। আবেগের বশে অন্যেকেও আবেগপূর্ণ করার পূর্বে খবরের সত্যতা নিজেও উদঘাটন করতে পারবেন একটি সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করলে। মনে রাখবেন আবেগ এমনই স্পর্শকাতর বিষয় কাউকে এই আবেগে জর্জরিত করলে এর ভেতর থেকে ফিরিয়ে আনা স্বাভাবিক ব্যাপার না। আর যখন আবেগ প্রবন মানুষ জানতে পারে সে মিথ্যে গল্পে মোড়ানো জিনিষ শেয়ার করেছে তখন তাঁকে সত্যিকারের আবেগকেন্দ্রিক গল্প কিংবা বাস্তব ছবি দেখালেও সে বুঝে উঠতে পারেনা কোনটা সত্য আর কোনটা অসত্য।

কারণ, কখনো কোনো সময়ে মিথ্যে এতটাই প্রসারিত হতে থাকে মানুষ সত্যটা জেনে নেয়া একরকম মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ মনে করে।

সময়ের জটিলতা, তাৎক্ষণিক উপস্থিতি, খবরের প্রধান চরিত্রের মুখোমুখি হতে না পারা সহ এরকম আরো কিছু কারণে অনেক সময়ে প্রথম সারির খবরের পোর্টালেও খানিকটা ভুল হয়ে থাকে কিন্তু, পরবর্তিতে তা সংশোধন হয়ে যায় আমরা তাও দেখতে পেয়েছি। বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এবং ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়ে থাকে যাতে পুরো দেশ দিশেহারা হয়ে পড়ে টিক তখনই অনেক অনলাইন খবরের পোর্টাল এবং কিছু ফেসবুক পেইজ বিরামহীনভাবে লেগে থাকে পেইজ ও পোর্টালের পাবলিসিটি বৃদ্ধি করতে। একমাত্র এরাই সাধারন মানুষকে দ্বিধাবিভক্ত ও মনান্তর করছে মিথ্যে খবর ও খবরের চিত্র প্রকাশ করে। বস্তুত, যে বিষয়টি বলতে পিছ-পা হচ্ছি না তা হলো হাতের মুঠোয় যতটা মুড়ি জায়গা হবে-না তারচেয়ে বেশি পাবেন ভূয়া অনলাইন খবরের পোর্টাল। বিভিন্ন নামের বিভিন্ন লগোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক অনেক অযৌক্তিক নামধারী খবরের পোর্টাল। যেগুলোর মাধ্যমে সাধারন মানুষ সত্যতার চেয়ে মিথ্যা খবরের মুখোমুখি হচ্ছেন প্রতিদিন, যার-জন্য প্রকৃত খবরের পাঠক দ্বিধাহীনতায় থাকেন কোন খবর সত্য বিপরীতে পাঠককে আবেগময় করতে কোন খবরটাই সাজানো মিথ্যা। একটা কথা বলে রাখি আমরা সবাই অন্তত চাইলে এটা করতে পারি অনেক অনেক খবরের পোর্টালের ফেসবুক পেইজ লাইক এবং ফলো না করে বস্তুনিষ্ঠ কয়েকটি সাইট লাইক ও ফলো করে ফলোইং অপসনে See First অপসন চালু করলেই এই সাইট গুলোর সমস্ত আপডেট সাথে সাথেই পেয়ে থাকবেন। সেখানে আপনারা নিজেদের আঞ্চলিক খবর পেতে অবশ্যই আঞ্চলিক অনেক ভাল ও বস্তুনিষ্ঠ খবরের পোর্টালও আছে বেছে নিতে পারেন। কেন অসংখ্য মিথ্যা ও গুজব রটানো ফেসবুক পেইজ ও খবরের পোর্টালকে প্রাধান্য দেবো।

প্রযুক্তির যুগে আমরা অনেকেই জেনে শোণে এর ব্যাবহারিকতা অনুসরণ করি, আবার বিপরীতে অনেকেই আছেন অনুমানের উপর চালিয়ে যাচ্ছেন পক্ষান্তরে সুফলতার চেয়ে কুফলতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। একটি হিসাবে লক্ষ্য করা গেছে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি চারজন ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন অর্থাৎ ২৫ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করে। ২০২০ সালে স্মার্টফোনের ব্যবহার আরও বাড়বে। তখন মোট ব্যবহারকারীর ৬০ শতাংশের হাতে এই ফোন থাকবে। মুঠোফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএ এমন হিসাব দিয়ে বলছে, নতুন স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে ৭ নম্বরে থাকবে বাংলাদেশ। এখন ভাবুন আমরা কতটা বৃহত্তর পরিসরের সমীকরণে এগিয়ে যাচ্ছি স্মার্ট ফোন ব্যবহারে। এখন এরপরও যদি আমরা ভাবি সত্য মিথ্যা কিভাবে পাবো, তাহলে আমি বলব আমাদের ভাবনায় জায়গা পায় এই বিষয়টি আমরা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করছি অন্যরা করছে আমি কেন পিছিয়ে থাকব। যুক্তিখণ্ডনে অনেক কিছুই উপস্থাপন করা যায় নিজের মন্তব্যের মাধ্যমে কিন্তু, দিনশেষে সূর্যাস্তের সময়ে আপনাকে সত্যটাই মেনে হবে এবং এর মুখোমুখিও হতে হবে। তাই যারা উদ্ভট ও অবান্তর শিরোনামে সবার নজর কাড়তে মিথ্যে খবর প্রকাশ করে আমরা কেন সেই গুজবকে প্রসারিত করব? যেখানে স্মার্ট ফোনের সহায়তায় সত্যকে আমরা নিজেও উদগাটন করতে সক্ষম।

এবার চোখ দেয়া যাক শিরোনামের দিকে-

সোজাভাবে বলি আমাদের সবার পকেটে থাকে স্মার্ট ফোন এবং এই স্মার্ট ফোনেই আছে বিশ্ববিখ্যাত ও তুমুল জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল। এই গুগলের উপরের ডান দিকের তিনটি ডট অপসনে ক্লিক করলে কয়েকটি ধাপ আসবে (অপসনও বলা যেতে পারে) এই জায়গায় অনেক অপসন এর মাঝে লক্ষ্য করবেন Request Desktop Site অথবা শুধু Desktop Site এখানে টিক চিহ্ন দিন। তাহলেই কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ ভার্সনের মত আপনার স্মার্ট ফোনের গুগলও হয়ে যাবে। তারপর সার্চবারে google.com লিখুন সাইটটি খুলে গেলে এবার উপরে দেখতে পাবেন Images একটি অপসন ঐ অপসনে ক্লিক করলে এখন পরিস্কার দেখতে পারবেন Cemera এর মত একটি অপসন দেখা যাচ্ছে এবার হলো আপনার কাজ এই ক্যামেরায় ক্লিক করলেই আপনাকে ছবি আপলোড করতে বলা হবে। টিক তখনই আপনি যে ছবির সত্যতা জানতে চাচ্ছেন ঐ ছবি আপলোড করুন এবং টিক এই মূহুর্তে আপনার আপলোড করা ছবির পুরো সত্যতা এবং বস্তুনিষ্ঠ খবরগুলো জেনে নিতে পারবেন। কেননা অসংখ্য খবর সেখানে দেখতে পারবেন যেখানে থাকে প্রথম সারিত অনলাইন খবরের পোর্টালও। আমরা অনেকেই এই বিষয়টির উপর অবগত অর্থাৎ জেনে থাকি কিন্তু, আমি এখানে বর্ণনাটি দিলাম যারা এই বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞ (জানেননা)।

আরেকটি ব্যাপার বলে রাখি,আপনারা যারা অনেক সময় কিছু লেখা নিয়ে সন্দিহান থাকেন শুধুমাত্র ঐ লিখা কপি করেও গুগল সার্চবারে সার্চ করুন বুঝে নিতে পারবেন এই লিখাটিরও সত্যটা। আবারো বলছি ভুল খবর ও খবরের ছবি প্রতিহত করুন, ভাল ও সত্য খবরগুলো প্রসারিত করে সবার মাঝে উপস্থাপন করুন।

আপনারা যারা প্রথম থেকে শেষ অবধি লিখাটি পড়লেন সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলছি ভুলত্রুটি থাকলে সমালোচনা নয়, বিনয়ের সাথে সংশোধন আমাকে সহযোগীতা করবেন।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!