বুধবার, ২২ মে, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সরকারি কর্মকর্তাদের কী বলে ডাকবেন জানতে চেয়ে আবেদন  » «   মৌলভীবাজারে সংস্কারের দাবিতে সড়কে ধান রোপণ করে প্রতিবাদ  » «   ব্রিটেনে স্টুডেন্ট ভিসায় পড়তে যাওয়া ৩৪ হাজার শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন  » «   সিলেটে ইষ্টিকুটুম-মধুবনকে জরিমানা, নিষিদ্ধ মোল্লা লবণ-পচা খেজুর জব্দ  » «   সিলেটে অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড গুড়িয়ে দিয়েছে সিসিক  » «   সিলেটে ফিজায় মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য  » «   জগন্নাথপুরে জিনের ‘গুপ্তধন’ নিয়ে তোলপাড়  » «   দেশে ফিরলেন সাগরে বেঁচে যাওয়া সিলেটের ১৩ যুবক, বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ  » «   গোয়ালাবাজার-খাদিমপুর রাস্তার বেহাল দশা, দেখার কেউ নেই !  » «   বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা আইনজীবী পরিষদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন  » «  

সিলেটে হারিয়ে যায়নি গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ‘ঘোড়ার দৌঁড়’

সুরমা নিউজ:
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার দৌঁড়। গ্রামের মানুষের ভাষায় ঘোড়-দৌঁড় প্রতিযোগিতা। এক সময় এটা ছিলো বিলাসীদের প্রতিযোগিতা। গ্রামগঞ্জে ঘোড়ার দৌঁড় প্রতিযোগিতা সব বয়সের মানুষের আনন্দ-বিনোদনের উপলক্ষ।

এখন সেই আবহ নেই, অনেকটা হারিয়ে যেতে বসেছে এই প্রতিযোগিতা। তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে মানুষ এখন ভার্চুয়াল জগৎ নিয়ে ব্যস্ত। এমনকি তরুণরা এখন নিয়মিত খেলাধুলা থেকে দূরে।

তবে, গ্রামের কোথাও কোথাও টিকে আছে গ্রাম-বাংলার মানুষের ঐতিহ্য বহনকারী এই ঘোড়ার দৌঁড়। এবার সিলেটের যে কয়েকটি উপজেলায় ঘোড়ার দৌঁড়ের আয়োজন করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সিলেটের গোয়াইনঘাট। ঐতিহ্যের টানে ঝাঁকঝমক পূর্ণভাবে তিন দিনব্যাপী এ খেলা আয়োজন করা হয়েছে উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নে। যা এ অঞ্চলের মানুষের আনন্দের খোরাগ যোগাচ্ছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলার ৫নং আলীরগাঁও ইউনিয়নের খাঁস মৌজা মাঠে ১৮ ফেব্রুয়ারী হতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এলাকাবাসী। ১৯ ফেব্রুয়ারী সকাল ৯ টায় দ্বিতীয় দিনের ঘোড় দৌঁড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতায় সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা হতে প্রায় ৩৫টি ঘোড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বিভিন্ন ইভেন্টের মাধ্যমে দৌড়ে অংশগ্রহণ করে। আগামী ২০ফেব্রুয়ারী বুধবার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মাঠে নামবে ২০টি ঘোড়া।

এলাকাবাসী জানান, ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার দৌঁড় খেলাটি গোয়াইনঘাট গ্রামগঞ্জ থেকে দিন দিন বিলুপ্ত হতে চলছে। প্রতিযোগিতাটি ধরে রাখতে তারা নানা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও আয়োজন করে আসছে। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে খেলাটি আয়োজন করা হচ্ছে।

এদিকে, একনজর ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ মাঠে যান। কোনধরণের প্রচার ছাড়াই এমন সাড়া পেয়ে খুশি আয়োজকরা। তারা বলছেন, আগে প্রচার করা হলে লক্ষাধিক মানুষ ঘোড় দৌড় দেখার জন্য আসতো। তাই, আমরা কৌশল অবলম্বন করে প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। তবুও মানুষের এতো সাড়া পাচ্ছি। সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ অন্য জেলা থেকেও এসেছেন বিনোদনপ্রেমীরা।

আমির হামজা নামের একজন এসেছেন সুনামগঞ্জ জেলা থেকে। নিজের অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, এধরণের প্রতিযোগিতা যেখানে খবর পাই সম্ভব হলে সেখানে যাই। ছোটবেলা বাবা আমাকে আশপাশ এলাকার প্রতিযোগিতায় যেতেন। এখন সেই অনুভূতি মানুষের মাঝে খুবএকটা নেই। এ অঞ্চলে এই প্রতিযোগিতার প্রতি মানুষের এতো ভালবাসা আমাকে অভিভূত করেছে।

কোন প্রকার অপ্রিতিকর ঘটনা ছাড়াই দ্বিতীয় দিনের খেলা সমাপ্ত করা হয়। আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সুন্দর ভাবে ফাইনাল খেলাও সমাপ্ত করবেন।
স্থানীয় সংবাদিক মনজুর আহমদ জানান, ঐহিত্যবাহী ঘোড় দৌঁড় প্রতিযোগিতাটি সাধারণ মানুষদের আনন্দ যোগায়। কৃষকরা ধানকাটাসহ বিভিন্ন কৃষি ফসল উত্তোলনের পর মানুষের মনে আনন্দ বিনোদন ছড়িয়ে দিতে কৃষক পরিবারগুলো এই ঐহিত্যবাহী আয়োজন করে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!