রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
এবার ওমান থেকে নির্যাতিত হয়ে ফিরলেন সুনামগঞ্জের নারী  » «   বসন্ত উৎসব মাতাতে সিলেট আসছেন কুমার বিশ্বজিৎ  » «   ওসমানীর জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি  » «   কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মালিকের হাতে দিলেন জগন্নাথপুরের হাফিজ জিয়াউর  » «   মেহেদীর রং না মুছতেই সিলেটে ঘাতক বাস কেড়ে নিলো তাসনিমকে  » «   নাসায় ডাক পেলো বিশ্বের ৭৯ দেশকে পেছনে ফেলা শাবির ‘টিম অলিক’  » «   সিলেটের ভাষা নিয়ে যারা ব্যাঙ্গ করেন তাহারা নির্বোধ (ভিডিও) : ভারতীয় অধ্যাপক  » «   সিলেটে চুন দিয়ে জাহেদের চোখ নষ্ট করা ঘাতক ছানুর ফাঁসির দাবি  » «   বিনা খরচে রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের লাশ দেশে যাবে : অর্থমন্ত্রী  » «   সিলেটে এসে পৌঁছেছে লন্ডনী ফুটবল টিম  » «  

কুলাউড়ায় সহকারি কেন্দ্র সহঃ সচিবের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের নাজেহাল করার অভিযোগ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় কুলাউড়া কেন্দ্র-১ এর সহকারী সচিব ও কুলাউড়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন কর্তৃক পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাবে মানসিক হয়রানী ও ভয়ভীতি প্রদানের মাধ্যমে পরীক্ষা দেয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ বাঁধাগ্রস্থ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরীক্ষা কুলাউড়া কেন্দ্র-১ এর কেন্দ্র সচিব মো. আমির হোসেন বরাবরে এ বিষয়ে বিগত ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারী বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ দেন আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ। গত ৯ ফেব্রুয়ারী কুলাউড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও অভিভাবক শামীম আহমদ চৌধুরী এবং আরও দুইজন অভিভাবক কেন্দ্র-১ এর সচিব মো. আমির হোসেন বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী কেন্দ্র সচিব আব্দুল মতিন কর্তৃক পরীক্ষার্থীদের প্রতিহিংসা মূলক মানসিক হয়রানীর কারণে উক্ত পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে এসব পরীক্ষার্থীরা চলতি এসএসসি পরীক্ষা দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে জানান শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

জানা যায়, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কেন্দ্র-১ (নবীন চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে মোট ২ হাজার এক জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।

অভিযোগ স‚ত্রে জানা যায়, কুলাউড়া পরীক্ষা কেন্দ্র-১ এর উপকেন্দ্র কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের সহকারী কেন্দ্র সচিব ও এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন এন,সি হাই স্কুলের পরীক্ষার্থীদের নানা ভাবে মানসিক হয়রানী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। সাবেক কাউন্সিলর শামীম আহমদ চৌধুরী তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমার মেয়ে ওই কেন্দ্রের ১৮ নং কক্ষের একজন পরীক্ষার্থী। প্রধান শিক্ষক মো.আব্দুল মতিন ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার দিন পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন-‘তোমাদের এন.সি স্কুলের শিক্ষক আমার স্কুলের পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছেন, আমিও তোমাদের বহিষ্কার করে ছাড়বো।’ এমনকি এ কেন্দ্রে দায়িত্বরত হল পর্যবেক্ষক (শিক্ষকদেরকে) তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথাবার্তা বলেন। এমতাবস্থায় পরীক্ষার্থীরা এই উপ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে ভয় পাচ্ছে এবং অনেকে অনীহা প্রকাশ করছে। এছাড়াও অভিভাবক সাথী রাণী দেব বলেন, আমার মেয়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামউল্লেখ করে উদ্দেশ্য প্রণোদিত উক্ত প্রধান শিক্ষক ভাবে নানারকম কটাক্ষ ও নাজেহাল করছেন। এতে সে মানসিকভাবে ভীষন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। সে পরীক্ষা দিতে অনীহা প্রকাশ করছে।

এদিকে আরেক অভিভাবক দিপালী বেগম অভিযোগে করেন, প্রতিদিন পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে আমার মেয়ে কান্নাকাটি করছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বলে, আমার মেয়েকে উদ্দেশ্য করে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, তাকে বহিষ্কার করবেন, তার ঘাড় ধরে বের করে দিবেন, তারা কি ভাবে ভালো পরীক্ষা দেয় তিনি দেখে ছাড়বেন। এমন নানা রকম আক্রমনাত্মক ও হুমকি দিয়ে কথাবার্তা বলেন তিনি।

শিক্ষক আব্দুল মতিন আমার মেয়েকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, এই মেয়ে তোমার এতো লিখতে হবে না, তুমি তো এমনিতেই এ প্লাস পেয়ে যাবে। এরকম কথাবার্তা বলার কারনে আমার মেয়ের হাত-পা কাঁপতে থাকে। সে ভয়ে জানা উত্তর পরীক্ষায় লিখতে পারেনি। সে এখন বাকি পরীক্ষা গুলো দিতে ভীষণ ভয় পাচ্ছে।
পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক শামীম আহমদ চৌধুরী, দিপালী বেগম ও সাথী রাণী দেব মোবাইল ফোনে বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের বাকি পরীক্ষাগুলোর ব্যাপারে আমরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছি।

ইংরেজী ১ম পত্রের পরীক্ষায় কুলাউড়া বালিকা বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অসুদাপায় অবলম্বনের দায়ে নবীন চন্দ্র মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বহিষ্কার করা হয়। এরই জের ধরে ইংরেজি ২য় পত্রের দিন এনসি হাই স্কুলের পরীক্ষার্থীদের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নানাভাবে হয়রানী করছেন উক্ত প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগিরা। এছাড়া সহকারি কেন্দ্র সচিব পরীক্ষা শুরু প্রথম দিন থেকেই নির্দিষ্ট কিছু কক্ষে কঠোর নজরদারি চালিয়ে আসছেন বলে পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব মো. আমির হোসেন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আরও অনেকগুলো মৌখিক অভিযোগও পেয়েছি। আমি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাচনা করবো।

কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার বলেন, অভিযোগের ব্যাপারে কোন সত্যতা পাইনি আমি। ৯ ফেব্রুয়ারি গণিত পরীক্ষার দিন আড়াই ঘন্টা তিনি (মো. আব্দুল মতিন) আমার সাথে ছিলেন।
এবিষয়ে অভিযোগকারীরা বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার শুধু গনিতের দিনের কথা বললেন, এর পূর্বের চারটি পরীক্ষার দিন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন কিভাবে পরীক্ষার্থীদের মানসিক নির্যাতন করেছেন তা কি তিনি দেখেননি? তিনি তো সেই কেন্দ্রেই দায়িত্বরত ছিলেন।

কেন্দ্র সহকারী সচিব ও কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগুলো অস্বীকার করেন।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে আমি প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!