রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
এবার ওমান থেকে নির্যাতিত হয়ে ফিরলেন সুনামগঞ্জের নারী  » «   বসন্ত উৎসব মাতাতে সিলেট আসছেন কুমার বিশ্বজিৎ  » «   ওসমানীর জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি  » «   কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মালিকের হাতে দিলেন জগন্নাথপুরের হাফিজ জিয়াউর  » «   মেহেদীর রং না মুছতেই সিলেটে ঘাতক বাস কেড়ে নিলো তাসনিমকে  » «   নাসায় ডাক পেলো বিশ্বের ৭৯ দেশকে পেছনে ফেলা শাবির ‘টিম অলিক’  » «   সিলেটের ভাষা নিয়ে যারা ব্যাঙ্গ করেন তাহারা নির্বোধ (ভিডিও) : ভারতীয় অধ্যাপক  » «   সিলেটে চুন দিয়ে জাহেদের চোখ নষ্ট করা ঘাতক ছানুর ফাঁসির দাবি  » «   বিনা খরচে রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের লাশ দেশে যাবে : অর্থমন্ত্রী  » «   সিলেটে এসে পৌঁছেছে লন্ডনী ফুটবল টিম  » «  

বই, বই কেনা এবং লাইব্রেরী

বদরুল আলম :
শিরোনাম নিয়ে কথা বলার ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু শিরোনামে একটা ভুল করে আটকে গেছি। শিরোনামে’পাঠাগার”না লিখে ইংরেজি “লাইব্রেরি ” শব্দটা ব্যবহার করেছি। আমরা মুখে কথা বলার সময় দু ‘চারটা ইংরেজি কথা বলে ফেলি। কিন্তু যখন বাংলা লিখি তখন চেস্টা করি, সেখানে যেন ইংরেজি শব্দ ঢুকে না যায়। তারপরও এই লেখাটার শিরোনামে বাংলায় পাঠাগার না লিখে ইংরেজিতে “লাইব্রেরি” লিখেছি। তার একটা কারণ আছে-পাঠাগার কথাটার একটা গাম্বীযর্ আছে, একটা ঐতিহ্য আছে। আমার হাল্কা কথাবাতর্তা দিয়ে এত সুন্দর শব্দটার অপমান করতে ইচ্ছে করছে না।

বই হচ্ছে জ্ঞানের বাহক। বই ছাড়া জ্ঞান অর্জন সম্ভব না। তাই আমাদের বেশি বেশি বই পড়তে হবে। যখন লেখা ছাপার অক্ষরে, বই আকারে প্রকাশিত হয়নি তখনও জ্ঞান —পিপাসু মানুষ জ্ঞানার্জনের জন্য এক দেশ থেকে আর এক দেশে ছুটে বেরিয়েছে, অর্থ ব্যয় করে জ্ঞানী মানুষদের একসঙ্গে জড়ো করে এক একটি বিশবিদ্যালয় গড়ে তুলেছে । এখন আর সে প্রয়োজন নেই। মানুষ তার লব্ধ জ্ঞান যুগ যুগ ধরে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছে বিপুল জ্ঞানের আধার গ্রন্থাগার । তবে মানুষ যেমন খাবারের জন্য বেঁচে থাকে না,বেচে থাকার জন্য-ই খায়, তেমনি মানুষ বই পড়ার জন্য বেঁচে থাকে না, বেঁচে থাকার জন্য বই পড়ে। কাজেই বেশি করে বই পড়তে হবে। প্রিয় লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখায় ওমর খৈয়ামের কথা জেনেছি। তিনি বলেছিলেন,’–

Here with a loaf of bread
beneath the bough.
A flash of wine, a book of
verse and thou,
Beside me singing in the wilderness
And wilderness is paradise enow.

“রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, কিন্তু বইখানা অনন্ত-যৌবনা-যদি তেমন বই হয়”।

মজার একটা বিষয় আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি-অনেক পিতা-মাতার ধারণা ছাত্রীবস্থায় বিশেষত বিদ্যালয়, কলেজে পাঠরত অবস্থায় পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বই পড়ে ছেলে-মেয়েরা অযথা সময় নষ্ট করে, তার চেয়ে যদি ঐ সময়টাতে পাঠ্য বিষয়ে পড়াশোনা করে তবে পরীক্ষার ফলাফল যা করেছে তার চেয়ে আরও ভালো করত পারতো । এ ধারণা একশ ভাগই ভ্রান্ত। অনুর্বর মাটির সঙ্গে সার মিশে গিয়ে যেমন জমিকে অলক্ষে ভর্বর করে, তেমনি শিশু মনেও পাঠ্য পুস্তকের বাইরের বই পড়া ভবিষ্যতে তাদের চিন্তা চেতনা ও মননে সুস্পষ্ট ছাপ রাখে। আমরা যদি মনে করি পাঠ্যপুস্তক নিরেট সাদা ভাতের মতো আর এর সঙ্গে পাঠ্য বিষয় বহিভূত বিভিন্ন প্রকার বই বিভিন্ন প্রকার মজাদার ব্যঞ্জনের মতো খাবারকে সু প্রাচ্য উপাদেয় করে তুলে। তাই বুঝতে পারা যায় য়ে, পাঠ্য পুস্তকের পাশাপাশি কেন অন্য বইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

বেশ আগে খবরের কাগজে দেখেছিলাম ভেনিজুয়েলার বামপন্থী রাষ্ট্রনায়ক হুগো শাভেজ তাঁর দেশে “পাঠ বিপ্লব” শুরু করেছিলেন। এর অংশ হিসেবে তিনি মাকর্িন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে একটি বাম বিপ্লবাত্নক বইও উপহার দিয়ে বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। বারাক ওবামাকে তিনি যে বইটি উপহার দিয়েছেন তা এডুয়াডর্ো গ্যালিয়ানোর একটি বিখ্যাত বাম বিপ্লব ক্লাসিক । হুগো শাভেজ বেশ আগে রাষ্টীয় টেলিভিশনে সরাসরি প্রচারিত এক ভাষণে তাঁর দেশের জনগণকে পাঠে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছিলেন। তিনি তাঁর বিপ্লবে , ভাষণে নিদর্িষ্ট করে একটি শ্লোগান জনগনের সামনে তুলে ধরেছিলেন। তা হল ‘পাঠ’ এবং ‘পাঠ’। এতদিন বিশ্বনেতারা তাদের জনগনকে কাজ করতে উৎসাহিত করেছেন, কৃষিতে সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে , খাদ্যে স্বয়ংসম্পূণর্ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো নেতা জনগনকে পড়াশুনার নিদর্েশ দিয়েছেন , তাও আবার সরাসরি প্রচারিত ভাষণে। এমনটা বিশ্ব আর কখনো অবলোকন করেনি। আমাদের দেশে ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পাঠ বিপ্লব খুবই প্রয়োজন । সেই স্বপ্ন দেখি।

পৃথিবীর অনেক দেশে লাইব্রেরির জন্য আলাদা মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়, এমনকি পাশের দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও একজন লাইব্রেরী মন্ত্রী রয়েছেন। আমাদের দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় লাইব্রেরিগুলো অথচ মজার ব্যাপার হলো এই মন্ত্রনালয়ের কোন যোগসুত্র নেই।

বিখ্যাত রোমান দার্শনিক সিসেরো বলেছিলেন, ” বাড়িতে একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করার মানে হচ্ছে বাড়িটিতে প্রাণের যোগ ঘটানো। তাহলে প্রত্যেক বাড়িতে পাঠাগার গড়ে তোলা মানে নতুন একটি প্রাণ সৃষ্টি করা। তিনি আরও বলেছিলেন, যদি তোমার একটি বাগান ও একটি গ্রন্থাগার থাকে, তবে প্রয়োজনীয় সবই তোমার আছে।।

বদরুল আলম
লেখক: শিক্ষক ও গবেষক ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!