রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
এবার ওমান থেকে নির্যাতিত হয়ে ফিরলেন সুনামগঞ্জের নারী  » «   বসন্ত উৎসব মাতাতে সিলেট আসছেন কুমার বিশ্বজিৎ  » «   ওসমানীর জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি  » «   কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মালিকের হাতে দিলেন জগন্নাথপুরের হাফিজ জিয়াউর  » «   মেহেদীর রং না মুছতেই সিলেটে ঘাতক বাস কেড়ে নিলো তাসনিমকে  » «   নাসায় ডাক পেলো বিশ্বের ৭৯ দেশকে পেছনে ফেলা শাবির ‘টিম অলিক’  » «   সিলেটের ভাষা নিয়ে যারা ব্যাঙ্গ করেন তাহারা নির্বোধ (ভিডিও) : ভারতীয় অধ্যাপক  » «   সিলেটে চুন দিয়ে জাহেদের চোখ নষ্ট করা ঘাতক ছানুর ফাঁসির দাবি  » «   বিনা খরচে রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের লাশ দেশে যাবে : অর্থমন্ত্রী  » «   সিলেটে এসে পৌঁছেছে লন্ডনী ফুটবল টিম  » «  

আমাদের বাতিঘর সুলতান মাহমুদ শরীফ

সাজিয়া স্নিগ্ধা:
রাজনীতিতে যে কজন মানুষের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে ঋণী তাঁর মাঝে অন্যতম সুলতান ভাই।এই মানুষটি না থাকলে রাজনীতির কঠিন পথটি সহজ হতো না কখনই। রাজনীতিবিদ হিসেবে, মানুষ হিসেবে, ব্যক্তি হিসেবে অসাধারন একজন মানুষ। মুজিব আদর্শের সৈনিক হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন অক্লান্তভাবে। সম্পূর্ণ নির্লোভ একজন মানুষ। চেয়ারের জন্য, নামের জন্য, পদের জন্য তৃষ্ণিন্ত হতে দেখিনি কখনও।যে কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উৎসাহ দেয়াটাই মুখ্য তাঁর কাছে। শুধু রাজনীতি নয় সামাজিক , সাংস্কৃতিক যে কোন ভালো কাজে সকলকে উৎসাহ দিয়েছেন সবসময়।

কবি সাহিত্যিক, শিল্পী, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক,বিলেতের সব অঙ্গনের যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব আমাদের সুলতান ভাই। ব্রিটেনে বাঙালি কমিউনটির একজন অভিভাবক হিসেবে দিকনির্দেশক হিসেবে তাকে সবসময় পাশে পেয়েছে। মাঝে মাঝে একগাদা অভিযোগ নিয়ে সুলতান ভাইকে ফোন করি । স্বভাবসুলভ ভাবগাম্ভীর্যে তিনি বলেন, ”রাজনীতি মহৎ পেশা।মনকে বিশাল সাগরের মত উদার করতে হবে। তোমাকে রাজনীতি কি দিলো তা বড় কথা নয় তুমি দেশকে দেশের রাজনীতকে কি দিলে সেটিই বড় কথা। ভুলে যেও না ভালবাসা শ্রদ্ধা কখনও বৃথা যায় না।কষ্টের ফল অবশ্যই পাওয়া যায়।আশাহত হওয়া যাবে না।কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে।”

গত বছরের জুলাই থেকে গবেষণার কাজ করছি স্টাডি সার্কেলে। চেয়ারপার্সন সৈয়দ মোজাম্মেল আলী, জামাল খান এবং আমাকে নিয়ে তিন জনের ছোট একটি সংগঠন স্টাডি সার্কেল। বাংলাদেশের গত ১০ বছরের উন্নয়নের গল্পগাঁথা নিয়ে প্রবাসীদের জন্য বাংলায় একটি প্রকাশনা বের করি অক্টোবরে । এরপর ডিসেম্বরে ইউরোপ এবং ব্রিটেনের জনপ্রতিনিধিদের জন্য আরেকটি প্রকাশনার কাজে হাত দেই। এই প্রকাশনার কাজে বহুবার সুলতান ভাই কে বিরক্ত করেছি।একবার এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে গেছেন সুলতান ভাই । বসে বক্তব্য শুনছেন। এরই মাঝে কাগজ ধরিয়ে দিলাম প্রুফ দেখার জন্য। একটু বিরক্ত হলেন বটে কিন্তু পুরো কাজটি শেষ ও করলেন। কয়েক জায়গায় বানান, দাঁড়ি কমা সহ সবকিছু ঠিক করে দিলেন।দু একটি জায়গার ভুলে বকাও দিলেন। এভাবে কেন লিখেছিস। আরও সুন্দর করে গুছিয়ে বলতে হবে এ কথা। তথ্য নির্ভুল কিনা তা পরীক্ষা করতে কয়েক জায়গায় ফোনও দিলেন। কত রাতে যে ফোন দিয়ে ঘুম থেকে উঠিয়ে বিরক্ত করেছি বলার মত নয়। কিন্তু সাহস, উৎসাহ এবং পরামর্শ দিয়েছেন সবসময়। প্রবাসের রাজনীতিতে নারীদের সংখ্যা খুব বেশি নয়।বলতে গেলে হাতে গোনা।তাঁদের সুবিধা অসবিধার দিকে সুলতান ভাই এর রয়েছে অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি।মিটিঙে তাঁদের ঠিকমতো বসতে দেয়া, সভা সমাবেশে আসা থেকে শুরু করে ঠিকমতো বাড়ি পৌঁছাতে পেরেছে কিনা সেটিও খবর নেন পরম স্নেহে। ছোট বাচ্চা ঘরে রেখে আসতে পারছে না আবার মিটিঙে নিয়ে আসলে সবাই বিরক্ত হবে এমন মায়েদের ভাবনাতেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন সুলতান ভাই।মেয়েদের যেন সকলে শ্রদ্ধার চোখে দেখে এ ব্যপারে সবসময় সোচ্চার তিনি। অযাচিত কথন আর বিরক্ত করার সুযোগ যাতে কেউ না পায় এমন ব্যাপারেও রয়েছে পুরো সতর্কতা। পুরুষ শাসিত সমাজে নারীদের কাজের ক্ষেত্র সবসময় কণ্টকাবৃত। সুলতান ভাই এর মত মানুষরা যদি আরও এগিয়ে আসে তাহলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের পথ আরও সুগম হবে।

৩০ শে ডিসেম্বর ছিল বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন।নির্বাচনের দু মাস আগে থেকে দেখেছি সুলতান ভাই এক দিনের জন্যও বিশ্রাম নেননি। প্রতিদিন কোন না কোন মিটিঙে গিয়েছেন। শরীর স্বাস্থ্য , মন কোনকিছুকেই প্রাধান্য দেননি। আমরা যারা ওনার স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কিত হয়ে বিশ্রামের কথা বলেছি রাগান্বিত কণ্ঠে একটি কথাই বলেছেন বারবার, ”শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় আসতে হবে না হলে দেশ বাঁচবে না।নির্বাচনের পরে বিশ্রাম করা যাবে।এখন বিশ্রামের সময় না।”চোখের সামনে এমন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ দেখলে কাজের স্পৃহা বেড়ে যায় হাজারগুণ।বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠণই তার একমাত্র লক্ষ্য। সুলতান ভাই কে যত দেখি ততই বিস্মিত হয়। উনি যেন পুরো একটি গবেষণাগার।

মা মাটি, ইতিহাস ,রাজনৈতিক জ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডার তিনি। কত কিছু যে জানার আছে, শেখার আছে তাঁর কাছ থেকে।প্রবাসে ওনার মত মানুষ আমাদের কাছে পাওয়া পরম সউভাগ্যের।মানুষ মরে গেলে আমরা তাকে নিয়ে গবেষণাগার, মিউজিয়াম করি কিন্তু জীবিত অবস্থায় যে কত কিছু করা যায়।সুলতান ভাই আমাদের কাছে অমূল্য সম্পদ।তাঁকে নিয়ে অনেক কাজ করার এখনও বাকি আছে।মহান আল্লাহতালা তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন। আমিন। জীবন বিত্তান্ত সুলতান মাহমুদ শরীফ রাজনীতির মাঠে তিনি সরব ৬০ বছরের অধিক সময় ধরে। সুলতান মাহমুদ শরীফের জন্ম ১৯৪১ সালে বরিশালে। স্কুল জীবনেই তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ইকবাল হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৩ সালে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে লন্ডনে আসেন।৬৬র ৬ দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে লন্ডনে একজন ছাত্রনেতা হিসেবে সবসময় ছিলেন সামনের কাতারে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাঙালিদের নিয়ে বিশ্ব জনমত গড়তে তাঁর ভুমিকা ছিল অনবদ্য।বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যেরও দায়িত্ব পালন করেছেন এক সময়। বর্তমানে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি।

লেখকঃ যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!