রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
আজ পবিত্র শবে বরাত  » «   ইলিয়াস কোথায়- সাত বছরেও উত্তর মেলেনি  » «   রমজানে ব্রিটেনের মসজিদগুলোতে নিরাপত্তা দেবে ব্রিটিশ সরকার  » «   সরকারের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের জনগণ উপকৃত হচ্ছেন : এম.পি মাহমুদ উস-সামাদ  » «   সিলেট-২ আসনের সাংসদ মুকাব্বির খানকে শোকজ করছে গণফোরাম  » «   চলে গেলেন সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম শফিকুল ইসলাম আমকুনি  » «   ওসমানীনগরে প্রবাসীদের উদ্যোগে পাকা ঘর পেল ৫টি দরিদ্র পরিবার  » «   নুসরাতকে নিয়ে ছোট ভাই রায়হানের আবেগঘন স্ট্যাটাস  » «   কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মেয়র নাইট, হিন্দি গানের সঙ্গে নাচ (ভিডিও)  » «   গোলাপগঞ্জে ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশার হিড়িক, বেড়েছে দুর্ভোগ  » «  

যে কথা বলার ছিলো…

খায়রুল হাসান রুবেল:
রাজধানীর ইস্কাটনে আলোচিত জোড়া খুনের মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও “খুন করার সময় মাতাল ছিলো ” এই কারন দেখিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনিকে ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।এবং সেই সাথে মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের জেল দেয়া হয়।

এখন কথা হচ্ছে,খুনের অপরাধ প্রমাণ হওয়ার পরও খুন করার সময় খুনী মাতাল ছিল এই অজুহাতে যখন মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়, তখনতো মদ্যপানেরও বৈধতা দেয়া হয়ে যায়। এটাতো একাধারে অপরাধীকে অপরাধ প্রবনতায়ও এই মর্মে উৎসাহিত করে যে,খুন করার আগে নেশাগ্রস্ত হয়ে খুন করলে মৃত্যুদন্ডের হাত থেকে বাচা যাবে।ভেবে দেখুনতো কত ভয়ঙ্কর এবং সাংঘাতিক বিষয় এগুলো।রাষ্ট্র, বিচারবিভাগ এদের কাজ হলো “দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন”।

আর তা না করে যদি এমন সব কান্ড ঘটানো হয় তাহলে মানুষ কোথায় বিচার চাইবে? একটা ভুল কিংবা পক্ষপাতদৃষ্ট বিচার সমাজে যে কি বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে তা বোঝার ক্ষমতা যদি কোন বিচারকের না থাকে তাহলেতো বিচারক তথা বিচার বিভাগের প্রতি চরম আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। এই যে রায়টা দেয়া হয়েছে এটাতো পরবর্তীতে এ ধরনের বিচারের ক্ষেত্রে একটা খারাপ নজির হয়ে থাকবে। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযোগ প্রমাণ হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র বয়স বিবেচনায় গোলাম আযম থেকে শুরু করে কয়েকজন অপরাধীকে মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়। একজন অপরাধীর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর সে বয়স্ক, নাকি অপরাধ করার সময় মাতাল ছিল এসব বিবেচনা হাস্যকর।এধরনের ধ্যান-ধারনা অপরাধের স্বীকার ব্যক্তি বা তার স্বজনদের সাথে বিচারের নামে প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা যখন অপরাধ সংগঠন করে তখন তো আর তারা এটা বিবেচনা করেনা যে, এর ফলে যার বা যাদের প্রতি অপরাধ করা হলো তারা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।তাহলে অপরাধীকে এসব অদ্ভুত বিবেচনায় রেয়াত দেয়ার কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে? মানুষ তার নিরাপত্তার জন্য কালক্রমে আদিম সমাজব্যবস্থা থেকে নিজেকে রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে হস্তান্তর করল।আর সেই রাষ্ট্র যদি তার কর্মকান্ডে আদিম যুগে ফিরে যায় তাহলে রাষ্ট্রতো অর্থহীন সংগঠনে পরিণত হবে। এই অসহায়ত্ব থেকে আমাদের পরিত্রান কবে হবে?

 (সুরমানিউজ এর পাঠককলামে প্রকাশিত সব লেখা পাঠক কিংবা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় সুরমানিউজ বহন করবে না। সুরমানিউজ এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।)

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!