রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
আজ পবিত্র শবে বরাত  » «   ইলিয়াস কোথায়- সাত বছরেও উত্তর মেলেনি  » «   রমজানে ব্রিটেনের মসজিদগুলোতে নিরাপত্তা দেবে ব্রিটিশ সরকার  » «   সরকারের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের জনগণ উপকৃত হচ্ছেন : এম.পি মাহমুদ উস-সামাদ  » «   সিলেট-২ আসনের সাংসদ মুকাব্বির খানকে শোকজ করছে গণফোরাম  » «   চলে গেলেন সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম শফিকুল ইসলাম আমকুনি  » «   ওসমানীনগরে প্রবাসীদের উদ্যোগে পাকা ঘর পেল ৫টি দরিদ্র পরিবার  » «   নুসরাতকে নিয়ে ছোট ভাই রায়হানের আবেগঘন স্ট্যাটাস  » «   কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মেয়র নাইট, হিন্দি গানের সঙ্গে নাচ (ভিডিও)  » «   গোলাপগঞ্জে ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশার হিড়িক, বেড়েছে দুর্ভোগ  » «  

গবেষক ফারুক আহমদের গোলাপগঞ্জের ইতিহাস

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল:
ইতিহাস চর্চার একটি বিশেষ ভাগ হল ‘আঞ্চলিক ইতিহাস’। আঞ্চলিক ইতিহাস বলতে বোঝায় কোনো একটি নির্দিষ্ট ভৌগলিক অঞ্চলের অতীত চর্চা। সেক্ষেত্রে সামগ্রিক ইতিহাস চর্চায় একটি অঞ্চলের ভৌগলিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিবর্তনের অনেক তথ্য ও তার বিশ্লেষণই উপেক্ষিত থেকে যায় যা আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চায় নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধ হয়। ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এই চর্চা বিশেষ প্রসার লাভ করেছে। সিলেটের শিক্ষা-সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা, গবেষণা অনেক হয়েছে। বাদ যায়নি অঞ্চলভিত্তিক ইতিহাসও। আর এ কাজে পথিকৃৎ হয়ে আছেন শ্রী অচ্যুৎচরণ তত্বনিধি চৌধুরী। তার অসামান্য সৃষ্টিকর্ম শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত, যা দুই খ-ে রচিত। এ দু’টি গ্রন্থ ব্যতিত তাঁর পরবর্তী গবেষকরা কোনোভাবেই তাদের গবেষণাকর্ম সমৃদ্ধ করতে পারেন নি। ভবিষ্যতে যে পারবেন না তাতে সন্দেহ নেই।

যার বই নিয়ে আজকের এই আলোচনা তিনি ফারুক আহমদ। অত্যন্ত ধীমান-নিরলস একজন গবেষক। তাঁর গবেষণাকর্ম দেশে-বিদেশে মর্যাদা পেয়েছে। স্বদেশে জাতীয় পর্যায়ে অকৃতদার মানুষটি পেয়েছেন গৌরবজনক সম্মান। প্রবাসী বিলাতবাসী হয়েও তিনি শেকড়ের উৎসমূল চষে গেছেন বারবার। এমনই শেকড়সন্ধানী একটি কাজ ‘গোলাপগঞ্জের ইতিহাস’। লেখক তার অনুসন্ধিৎসু প্রচেষ্টায় প্রলম্বিত সত্য ঘেটে বাস্তবসত্য উদঘাটন করেছেন।

গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগে আসুন জেনে নিই কে এই গ্রন্থের লেখক। তিনি স্বনামেই সমুজ্জ্বল। তাঁকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই। ফারুক আহমদ। জন্মেছেন সিলেটে। তার গ্রামের বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার গোয়সুপুর। গত শতাব্দির আশির দশকে লেখালেখি শুরু করেন। সাংবাদিকতা করেছেন দীর্ঘদিন। এক সাক্ষাৎকারে ফারুক আহমদ জানান ছোটবেলা তাঁর ইচ্ছে হয়েছিল বাস ড্রাইভার হবেন। বাড়ির সামনে দিয়ে মহাসড়ক ধরে বাস চলতে দেখে তাঁর এই সাধ জেগেছিল মনে। অন্য একটি সাক্ষাৎকারে ফারুক জানান, কণ্ঠশিল্পী হতে চেয়েছিলেন তিনি। বাল্যকালে, যখন তিনি হাইস্কুলে পড়ছেন, একটি অনাকাংখিত ঘটনা তার সে সাধ পূর্ণ হতে দেয়নি। মানসিকভাবে খুবই বিব্রত হয়েছিলেন। শিল্পী হতে না পারলেও গান লিখে গেছেন। রচনা করেছেন নাটক। বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার ও নাট্যকার ছিলেন তিনি। যা হোক, তিনি শেষপর্যন্ত বাস ড্রাইভার হননি। হয়েছেন লেখক, গবেষক।

সিলেটের ঐতিহ্যে লালিত একটি অনিন্দ্য সুন্দর জনবসতি গোলাপগঞ্জ উপজেলা। উঁচু-নিচু পাহাড় আর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর গোলাপগঞ্জের রূপ-সৌন্দর্য সকল ভ্রমণপিয়াসী মানুষের হৃদয় আকৃষ্ট করে। এবার আসি মূল আলোচনায়। ‘গোলাপগঞ্জের ইতিহাস’ গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক আমাদের জানাচ্ছেন কাজটি তিনি শুরু করেছিলেন মুহম্মদ নুরুল হকের প্রেরণায়। সেই ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে। মুহম্মদ নুরুল হক কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। লেখক যখন তাঁর কাজ শুরু করেন নুরুল হক ছিলেন কেমুসাসের সেক্রেটারী। ফারুক আহমদের ইতিহাস পাঠের আগ্রহ নুরুল হকের দৃষ্টি কেড়েছিল। তিনি তাঁকে পড়ার সময় নোট নিতে বলেছিলেন। কেমুসাস প্রতিষ্ঠানটি ইতিহাস লেখার জন্যও তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। মুহম্মদ নুরুল হকের সঙ্গে সেদিনের সেই সাক্ষাৎ ফারুক আহমদকে এতই উজ্জীবিত করে, তারপর আর তিনি থেমে থাকেন নি। নিরলস পড়াশোনা আর নোট নেয়ার কাজ চলতে থাকে। গোলাপগঞ্জের ইতিহাস লিখতে এলাকার খুঁটিনাটি তথ্য প্রয়োজন। সেই সুযোগটিও আসে। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে মাসিক খেদমত ও পাক্ষিক গোলাপ-দর্পণের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব নেন তিনি। গ্রন্থের কাজ শেষ করেন ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে। মুখবন্ধ লিখিয়ে নেবার জন্য মুহম্মদ নুরুল হককেই বেছে নেন। তাঁর সে মনোবাসনা সেদিন পূর্ণ হয়নি। নুরুল হক তাঁকে আরো ছয়মাস অপেক্ষা করতে বলেন। ছয়মাস পর দেওয়ান আজরফকে দিয়ে তাঁর গ্রন্থের মুখবন্ধ লিখিয়ে দেবেন। তা আর হয়ে ওঠেনি। তার আগেই লেখকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাখা পা-ুলিপি পুড়ে যায়। নুরুল হকের প্রতি ক্ষোভ মনে রেখে লেখক পাড়ি জমান বিলেতে। সেখানে যাবার পর তাঁর সেই ক্ষোভ আর থাকেনি। এর কারণ হিসেবে লেখক জানিয়েছেন, বিলেতের সমৃদ্ধ গ্রন্থশালা তার গবেষণা কাজের জন্য নবদিগন্ত খোলে দিয়েছিল। লেখক বুঝতে পারেন, মুহম্মদ নুরুল হক ছিলেন একজন দ্রষ্টা। তাঁর বেধে দেয়া ছয় মাসে সম্পূর্ণ দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। এ সময় লেখক তাঁর অন্য গবেষণা কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। নিভৃত মনের কোণে বয়ে যায় গোলাপগঞ্জের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা রচনার আকাংখা। অপেক্ষার দিনক্ষণ শেষ হয় ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে এসে। ঢাকার ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ ‘গোলাপগঞ্জের ইতিহাস’ বের করে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে। মহান একুশে গ্রন্থমেলায়। বইটির প্রথম সংস্করণে মূল্য রাখা হয়েছে পাঁচশ’ টাকা। প্রচ্ছদ করে দিয়েছেন সময়ের প্রথিতযশা শিল্পী ধ্রুব এষ। ভূমিকা লিখেছেন লেখক নিজেই।

ইতিহাসের বিষয়বস্তু হচ্ছে মানুষ, তার পারিপাশির্^কতা (প্রকৃতি ও পরিবেশ) সমাজ, সংস্কৃতি, সভ্যতার বিকাশ, পরিবর্তন ও পতন। যেমনÑশিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি, দর্শন, স্থাপত্য, রাজনীতি, যুদ্ধ, ধর্ম, আইন সামগ্রিকভাবে যা কিছু সমাজ সভ্যতা বিকাশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করেছে তাই ইতিহাসের বিষয়বস্তু। মানুষ কর্তৃক সম্পাদিত সব বিষয় ইতিহাসের পরিসরের আওতাভুক্ত। মানুষের চিন্তা- ভাবনা, পরিকল্পনা, কার্যক্রম যত শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত, ইতিহাসের সীমাও ততদূর পর্যন্ত বিস্তুত। তবে এ বিস্তৃতির সীমা স্থিতিশীল নয়। মানুষের চিন্তা-ভাবনা, কর্মধারা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের পরিসরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

পাঠক, চলুন বইয়ের ভেতরে চোখ বুলিয়ে আসি। লেখক আটটি অধ্যায়ে বইটি লিখেছেন। গোলাপগঞ্জের নামকরণ, প্রাক ইতিহাস দিয়ে শুরু বইটির প্রথম অধ্যায়। দ্বিতীয় অধ্যায়ে এসেছে থানাকেন্দ্রীক প্রশাসন ব্যবস্থার সূচনা, উত্তরণের ইতিহাস। ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে প্রতিটি সরকারের সুবিধাবাদ অধ্যায়টিতে বিশদভাবে তুলে আনা হয়েছে। তৃতীয় অধ্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক রাজনৈতিক ইতিহাস ও প্রতিনিধিদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি স্থান পেয়েছে। চতুর্থ অধ্যায় আন্দোলন-সংগ্রামে গোলাপগঞ্জের ইতিহাস। এ অধ্যায়ে লেখক দাবি করেছেন ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে আসাম পারলামেনটে মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গোলাপগঞ্জের প্রতিনিধি আবদুল হামিদ চৌধুরী (সোনা মিয়া)। সেই ধরাবাহিকতা তারা অব্যাহত রেখেছিলেন বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়ে। লেখক আরো জানাচ্ছেন, আমাদের মাতৃভূমি বাংলা আর দেশকে জুড়ে বাংলাদেশ নামকরণের শব্দটিও দিয়েছিলেন গোলাপগঞ্জের এক কৃতিসন্তান। খেলাফত আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, নানকার বিদ্রোহসহ অন্যান্য আন্দোলনে গোলাপগঞ্জ স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নিয়েছে। এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গ্রন্থের পঞ্চম অধ্যায়ে আলোচনা এসেছে। ষষ্ঠ অধ্যায়ে স্থান পেয়েছে আমাদের অস্তিত্বের লড়াই, মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন লেখক। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা খেতাবপ্রাপ্ত সূর্যসন্তানদেরও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তিনি তুলে এনেছেন।

সপ্তম অধ্যায়ে সাহিত্য ও সাংবাদিকতা নিয়ে লেখক আলোকপাত করেছেন। স্থান পেয়েছে সংস্কৃত, বৈষ্ণব, উর্দু, ফারসি, মরমি, পুথি ও আধুনিক বাংলা সাহিত্য। সাংবাদিকতা, সংবাদপত্র ও সাময়িকী নিয়েও আলোচনা এসেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসেছে এ অধ্যায়ে। সামাজিক পরিবর্তনে নারী সমাজের ভূমিকা। এ বিষয়টি আলোচিত না হলেও অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধই থেকে যেত ইতিহাস গ্রন্থটি। গ্রন্থের শেষ অধ্যায়ে হাট বাজারের ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থার প্রতি নজর দেয়া হয়েছে। ওঠে এসেছে গোলাপগঞ্জের দর্শনীয় স্থানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

একটি উপন্যাস লিখতে যেয়ে লেখক যেমন তার চরিত্রগুলোর প্রতি সজাগদৃষ্টি রাখেন, গোলাপগঞ্জের ইতিহাস রচয়িতা ফারুক আহমদ সেই একই কাজ করেছেন। তবে এটি উপন্যাস নয়! ইতিহাস। আর উপন্যাসের মতোই এটি সুখপাঠ্য। ফারুক আহমদের আগে গোলাপগঞ্জের ইতিহাস নিয়ে অনেকে কাজ করেছেন। সে কথা তিনি অকুণ্ঠচিত্তে স্বীকারও করেছেন। আগের লেখকদের ইতিবৃত্ত লেখক তাঁর যুক্তি প্রমাণ ও দলিল-দস্তাবেজ ঘেটে অনেকটাই হালকা করে দিয়েছেন। কিংবদন্তীগুলো তিনি শুনেছেন। আমলে নিয়েছেন প্রমাণ। তাঁর ধীশক্তি দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে তারপর লিপিবদ্ধ করেছেন। গ্রন্থটি বাংলাদেশের অঞ্চলভিত্তিক ইতিহাসচর্চায় মূল্যবান ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।

ফারুক আহমদ বর্তমানে বিলেতবাসী। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডন থেকে প্রকাশিত মাসিক লন্ডন বিচিত্রার প্রধান সম্পাদক ছিলেন। প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছেÑ বিলাতে বাংলা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা (১৯১৬-২০০১), সাপ্তাহিক জনমত মুক্তিযুদ্ধের অনন্য দলিল, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, এ মাটির বাউল (গীতিকবিতা) ও বিলাতে বাংলার রাজনীতি। সম্পাদনা করেছেন বিলেতবাসী সাংবাদিক ও বামরাজনীতিক তাসাদ্দুক আহমদের জীবনীগ্রন্থ ‘জীবন খাতার কুড়ানো পাতা’। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে গবেষণা কাজের স্বীকৃতি পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা একাডেমী প্রবাসী লেখক পুরস্কার। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর জন্ম ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ জানুয়ারি। কৃতি এই লেখক তাঁর আরো নতুন কাজ নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাবেন এটাই প্রত্যাশা।

গোলাপগঞ্জের ইতিহাস গ্রন্থপাঠের মাধ্যমে আমরা মানব সমাজের শুরু থেকে তার যাবতীয় কর্মকা-, চিন্তাভাবনা ও জীবনযাত্রার অগ্রগতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারি। ইতিহাসের প্রধান উপজীব্য বিষয় হল, ‘মানবসমাজের অগ্রগতির ধারণা’। সভ্যতার প্রধান সূত্র, সভ্যতার সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের কথা সম্পর্কে ইতিহাস থেকে জানা যায়। বাংলাদেশের একজন বাসিন্দা এবং ইতিহাস সচেতন মানুষ হিসেবে, আমার প্রত্যাশা এদেশে পথে প্রান্তরে, গ্রাম নগরে মণিমুক্তোর মতো ছড়িয়ে থাকা আঞ্চলিক ইতিহাস নথিবদ্ধকরণ ও ওয়েবভিত্তিক আর্কাইভ নির্মিত হোক যা আমাদের মতো আত্মবিস্মৃত জাতিকে তার জাতির ঐতিহাসিক বিবর্তনের ও বিপুল বৈচিত্র্যময় অতীত যা স্থানিক বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত তা সমন্ধে সচেতন করুক। বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তিগত সংগ্রহে তালাবন্ধ আঞ্চলিক ইতিহাস নতুন প্রযুক্তিকে আশ্রয় করে মুক্ত হোক, তা না-হলে আমরা আত্মজ্ঞান লাভ করতে পারব না।
লেখক : প্রাবন্ধিক, প্রকাশক ও সংগঠক

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!