রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
এবার ওমান থেকে নির্যাতিত হয়ে ফিরলেন সুনামগঞ্জের নারী  » «   বসন্ত উৎসব মাতাতে সিলেট আসছেন কুমার বিশ্বজিৎ  » «   ওসমানীর জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি  » «   কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মালিকের হাতে দিলেন জগন্নাথপুরের হাফিজ জিয়াউর  » «   মেহেদীর রং না মুছতেই সিলেটে ঘাতক বাস কেড়ে নিলো তাসনিমকে  » «   নাসায় ডাক পেলো বিশ্বের ৭৯ দেশকে পেছনে ফেলা শাবির ‘টিম অলিক’  » «   সিলেটের ভাষা নিয়ে যারা ব্যাঙ্গ করেন তাহারা নির্বোধ (ভিডিও) : ভারতীয় অধ্যাপক  » «   সিলেটে চুন দিয়ে জাহেদের চোখ নষ্ট করা ঘাতক ছানুর ফাঁসির দাবি  » «   বিনা খরচে রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের লাশ দেশে যাবে : অর্থমন্ত্রী  » «   সিলেটে এসে পৌঁছেছে লন্ডনী ফুটবল টিম  » «  

ব্রিটিশ রানীর শরীরে বইছে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর রক্ত!

সুরমা নিউজ ডেস্ক:
ঐতিহ্যশালী ব্রিটেনের রাজ পরিবারের সঙ্গে বংশগত সম্পর্ক রয়েছে ইসলাম ধর্মের নবীর। কারণ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শরীরে বইছে স্বয়ং হযরত মোহাম্মদের (সা.) রক্তধারা।

এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিককালের একটি গবেষণায়। উক্ত গবেষণার কথা উল্লেখ করে সংবাদ পরিবেশন করেছে মরক্কোর একটি সংবাদপত্র।

যদিও রানি এলিজাবেথের সঙ্গে হজরত মোহাম্মদের পারিবারিক যোগসাজশের এই তথ্য নতুন কিছু নয়। ১৯৮৬ সালে সর্বপ্রথম এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে। সেই সময় ব্রিটেনের রাজ পরিবারের বংশতালিকায় বিষয়টির উল্লেখ করা হয়েছিল। বুর্কে’স পিরেজ নামের একটি ব্রিটিশ রাজবংশ তালিকা সংরক্ষণকারী সংস্থা বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে।

আর সম্প্রতি মরোক্কোর একটি পত্রিকা এ নিয়ে রিপোর্ট করায় বিষয়টি ফের সামনে আসল।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সরাসরি রক্তের সম্পর্ক রয়েছে মধ্যযুগের স্পেনের মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে। যাদের একটি অংশ ব্রিটেনের কেমব্রিজে এসে বসতি গড়েছিল ১১ শতকে। আর তাদের বংশধররাই পরে ১৪ শতকে ক্যামব্রিজের রাজপরিবার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। সেখান থেকেই সূত্রপাত হয় রানি এলিজাবেথের বংশের। যা সরাসরি হযরত মোহাম্মদের (সা.) এর নিজের মেয়ে ফাতিমার (রা.) বংশধারার সঙ্গে যুক্ত।

গবেষণায় আরও দাবি করা হয়েছে যে, রানি এলিজাবেথের পূর্ববর্তী ৪৩ তম প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে ফাতিমার (রা.)। যিনি হযরত মোহাম্মদের (সা.) কন্যা। অনেক ইতিহাসবিদ এই তত্ত্ব খারিজ করে দিলেও স্পেনের মধ্যযুগীয় কিছু রেকর্ড অবশ্য এর সমর্থন করছে। শুধু তাই নয়, একসময় মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি আলি গোম্মাও একমত হয়েছিলেন মরক্কোর সংবাদপত্রের ওই প্রতিবেদনের এই তথ্যের সঙ্গে।

১৯৮৬ সালে এই তথ্য উল্লেখ করে চিঠি দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারকে। সেই চিঠি লিখেছিল বুর্ক পাবলিশিং নামক ওই সংস্থা। যারা রাজ পরিবারের বংশতালিকা দেখাশোনা করত। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে ব্রিটেনবাসীর এটা জানা দরকার যে দেশের রানির শরীরে বইছে স্বয়ং হযরত মোহাম্মদের (সা.) রক্ত। সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসায় খুব খুশি হয়েছিলেন ওই দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা।

সে সময় বলা হয়েছিল যে রাজকন্যা জায়দার বংশধর হচ্ছেন রানি এলিজাবেথ। জায়দা আবার স্পেনের সেভিল-এর মুসলিম রাজা আল মুতামিদ ইবনে আব্বাদ এর চতুর্থ স্ত্রী ছিলেন। অনেকের মতে এই জায়দা হলেন সরাসরি হজরত মোহাম্মদের (সা.) মেয়ের বংশধর।

একাদশ শতকে তিনি নিজ শহর সেভিল থেকে পালিয়ে কেমব্রিজে আসেন এবং খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন।

রাজা আল মুতামিদের সঙ্গে জায়দার একটি ছেলে সন্তান জন্ম নিয়েছিল। যার নাম স্যাঞ্চো। এই স্যাঞ্চোর বংশধরের সঙ্গেই বিয়ে হয় ক্যামব্রিজ রাজ পরিবারের সদস্যদের। আর সেখান থেকেই ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের বংশধারা আসে।

তবে ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্য স্পেকটেটর এর মতে, জায়দার বংশধারা নিয়ে বিতর্ক আছে। অনেক ঐতিহাসিক বিশ্বাস করেন, তিনি ছিলেন এক মাতাল খলিফার মেয়ে। যার বংশধারার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর। অনেকে আবার বলেন, ওই খলিফার পরিবারে বিয়ে করেছিলেন জায়দা।

তবে এই তথ্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী মিশ্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে।

আল আওয়াসবু (Al-Ousboue) নামের মরোক্কোর ওই পত্রিকার প্রতিবেদক আব্দুল হামিদ আল আওয়ানি বলেছেন, ‘এই তথ্য আমাদের দুই ধর্ম ও রাজত্বের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেছে।’

আল-আওয়াসবুর সাংবাদিক আব্দুল হামিদ আল আওয়ানি লিখেছেন, ‘ভাগ্যের কী বিদ্রুপ দেখুন, যখন যুবরানি ডায়না মারা যান, তখন বলা হয়েছিল মিশরীয় ডোডি ফায়েদের সন্তান তাঁর গর্ভে এসেছিল বলেই ব্রিটিশ রাজপরিবার তাঁকে হত্যা করে। রাজবংশ মেনে নিতে পারেনি ভবিষ্যতে কোনও ইসলাম ধর্মাবলম্বী রাজসিংহাসনের দাবিদার হবেন। এদিকে এখন দেখা যাচ্ছে খোদ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথই ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতার সরাসরি বংশধর!’

আব্দুল হামিদ আল আওয়ানি আরো লিখেছেন, ১১ শতাব্দীতে সেভিলের রাজা আবু আল-কাসিম মোহাম্মদ ইবন আবাদ ছিলেন মোহাম্মদের মেয়ে ফাতিমার বংশধর। আল-কাসিম ১০২৩ সালে সেভিলের রাজা হন এবং প্রতিষ্ঠা করেন আবাসি সাম্রাজ্য। তাঁর মেয়ের নাম ছিল জায়দা। আলমোরাভিদরা আল-কাসিমের সাম্রাজের ওপর আক্রমণ করলে, তাঁর মেয়ে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন লিওন, ক্যাস্টিল ও গালিসিয়া-র স্পানিশ রাজা ষষ্ঠ আলফোনসো-র রাজ্যে। নাম পাল্টে হন ইসাবেলা এবং রোমান ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষিত হন। ষষ্ঠ আলফোনসো ও তাঁর একটি পুত্র সন্তান হয়, নাম স্যাঞ্চো। সেই পুত্র সন্তানেরই বংশোধর কেমব্রিজের তৃতীয় আর্ল রিচার্ড অফ কনিসবার্গ। এই রিচার্ড অফ কনিসবার্গ হলেন ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় এডওয়ার্ডের নাতি।

আরব নাস্তিক নেটওয়ার্ক এর ফোরামে মন্তব্য করা হয়েছে, ‘রানী এলিজাবেথের উচিত মুসলিমদেরকে শাসনে তার অধিকার রয়েছে এই দাবি করা।’

তবে রেড্ডিটে কেউ কেউ একে ভুয়া প্রচারণা বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘পশ্চিমাদের ওপর ক্ষুব্ধ মুসলিমদেরকে শান্ত করার জন্যই শুধু এই প্রচারণা চালাচ্ছে ব্রিটিশ রাজপরিবার।’

তবে বাকিংহাম প্রাসাদের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আমরা এই ধরনের দাবি নিয়ে কোনও মন্তব্য করি না।’

সূত্র: ডেইল মেইল

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!