রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
এবার ওমান থেকে নির্যাতিত হয়ে ফিরলেন সুনামগঞ্জের নারী  » «   বসন্ত উৎসব মাতাতে সিলেট আসছেন কুমার বিশ্বজিৎ  » «   ওসমানীর জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি  » «   কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মালিকের হাতে দিলেন জগন্নাথপুরের হাফিজ জিয়াউর  » «   মেহেদীর রং না মুছতেই সিলেটে ঘাতক বাস কেড়ে নিলো তাসনিমকে  » «   নাসায় ডাক পেলো বিশ্বের ৭৯ দেশকে পেছনে ফেলা শাবির ‘টিম অলিক’  » «   সিলেটের ভাষা নিয়ে যারা ব্যাঙ্গ করেন তাহারা নির্বোধ (ভিডিও) : ভারতীয় অধ্যাপক  » «   সিলেটে চুন দিয়ে জাহেদের চোখ নষ্ট করা ঘাতক ছানুর ফাঁসির দাবি  » «   বিনা খরচে রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের লাশ দেশে যাবে : অর্থমন্ত্রী  » «   সিলেটে এসে পৌঁছেছে লন্ডনী ফুটবল টিম  » «  

‘প্লিজ গিভ মি ওয়ান পাউন্ড, আই এম হাংরি’ (ভিডিওসহ)

সুরমা নিউজ :
‘প্লিজ গিভ মি ওয়ান পাউন্ড, আই এম হাংরি’। ‘ লন্ডনি ছাব, আই এম হাংরি, প্লিজ গিভ মি ওয়ান পাউন্ড’- বলতে বলতে রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন মধ্যবয়সী এক নারী ভিক্ষুক। কখনো এই আবেদন নিয়ে চলন্ত গাড়ির দিকে দৌঁড় দেন। গাড়ির গ্লাসে ঠুকা দিতে দিতে বলেন- ‘প্লিজ গিভ মি ওয়ান পাউন্ড’।

তাঁর নাম নুরজাহান বেগম। সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় ভিক্ষা করেন তিনি। তবে তাঁর ভিক্ষা চাওয়ার কৌশল অন্য ভিক্ষুকদের মতো নয়। ব্যক্তিক্রমিভাবে ভিক্ষা চাওয়ার জন্য নগরীর বেশিরভাগ মানুষের কাছেই পরিচিত তিনি।

সিলেট প্রবাসীবহুল অঞ্চল। প্রবাসীদের বেশিরভাগই যুক্তরাজ্যের লন্ডনের বাসিন্দা। সিলেটে এরা ‘লন্ডনী’ নামে পরিচিত। আদতে সিলেটে সকল প্রবাসীরাই ‘লন্ডনী’ নামে পরিচিত, তা যে দেশেই তারা থাকুন না কেনো। সারাবছরই শহর সিলেটে লেগে থাকে এই ‘লন্ডনী’দের আনাগোনা। আর সিলেট শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হলো জিন্দাবাজার। ফলে প্রবাসীরা সিলেট আসলে জিন্দাবাজার আসতেই হয়।

নুরজাহান বেগমের টার্গেট এই ‘লন্ডনী’রাই। সকাল থেকে জিন্দাবাজার এলাকায় অবস্থান নেন তিনি। আর পোষাক-আসাক, চেহারা কিংবা কথা বলার স্টাইলে কাউকে ‘লন্ডনী’ মনে হলেই নুরজাহান বেগম দৌঁড় দেন তাঁর দিকে। তারপর সেই আবদার, ‘প্লিজ গিভ মি ওয়ান পাউন্ড’, ‌’লন্ডনী ছাব, আই এম হাংরি, প্লিজ গিভ মি ওয়ান পাউন্ড’।

তাঁর ভিক্ষার চাওয়ার এই অভিনব কৌশলের কারণে অনেকেই খুশি হয়ে টাকা পয়সা দিয়ে যান। প্রবাসীদের কেউ কেউ উপহারও দেন নাসিমা বেগমকে। আবার পথচারীদের অনেকেও তাঁর সাথে যেচে গিয়ে কথা বলেন।

নুরজাহান বেগম বলেন, আমি যখন ভিক্ষা করা শুরু করি তখন আরো অনেক ভিক্ষুকের কারণে টাকা পয়সা কম মিলতো। তখন প্রবাসীদের কয়েকজনই আমাকে ‌’গিভ মি ওয়ান পাউন্ড’ কথা শিখিয়েছে। এমন করে ভিক্ষা চাওয়ার ফলে আয় রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। অনেকে খুশি হয়ে, কেউ কেউ মজা পেয়েও টাকা পয়সা দিয়ে যায়- বলেন নুরজাহান। স্যরি, থ্যাংকইউ-এর মতো ইংরেজি শব্দও জানেন নুরজাহান।

নুরজাহান বলেন, জিন্দাবাজার এলাকায় নগরীর অন্যান্য স্থানের চেয়ে ভিক্ষুকের পরিমাণ বেশি থাকায় আগের চেয়ে আয় রোজকার কমে গেছে।

কথা প্রসঙ্গে নুরজাহান বলেন, ‘বেটিইনতে (মহিলারা) বাইচ্চাইন ছাড়ি দেয় ভিক্ষা করাত। ইতা বাচ্চাইন্তে মানুষরে পায়ে ধরি বইথাকে, মানুষে তারারে ভিক্ষা দিব না আমারে ভিক্ষা দিব।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!