রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
আজ পবিত্র শবে বরাত  » «   ইলিয়াস কোথায়- সাত বছরেও উত্তর মেলেনি  » «   রমজানে ব্রিটেনের মসজিদগুলোতে নিরাপত্তা দেবে ব্রিটিশ সরকার  » «   সরকারের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের জনগণ উপকৃত হচ্ছেন : এম.পি মাহমুদ উস-সামাদ  » «   সিলেট-২ আসনের সাংসদ মুকাব্বির খানকে শোকজ করছে গণফোরাম  » «   চলে গেলেন সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম শফিকুল ইসলাম আমকুনি  » «   ওসমানীনগরে প্রবাসীদের উদ্যোগে পাকা ঘর পেল ৫টি দরিদ্র পরিবার  » «   নুসরাতকে নিয়ে ছোট ভাই রায়হানের আবেগঘন স্ট্যাটাস  » «   কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মেয়র নাইট, হিন্দি গানের সঙ্গে নাচ (ভিডিও)  » «   গোলাপগঞ্জে ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশার হিড়িক, বেড়েছে দুর্ভোগ  » «  

‘প্লিজ গিভ মি ওয়ান পাউন্ড, আই এম হাংরি’ (ভিডিওসহ)

সুরমা নিউজ :
‘প্লিজ গিভ মি ওয়ান পাউন্ড, আই এম হাংরি’। ‘ লন্ডনি ছাব, আই এম হাংরি, প্লিজ গিভ মি ওয়ান পাউন্ড’- বলতে বলতে রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন মধ্যবয়সী এক নারী ভিক্ষুক। কখনো এই আবেদন নিয়ে চলন্ত গাড়ির দিকে দৌঁড় দেন। গাড়ির গ্লাসে ঠুকা দিতে দিতে বলেন- ‘প্লিজ গিভ মি ওয়ান পাউন্ড’।

তাঁর নাম নুরজাহান বেগম। সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় ভিক্ষা করেন তিনি। তবে তাঁর ভিক্ষা চাওয়ার কৌশল অন্য ভিক্ষুকদের মতো নয়। ব্যক্তিক্রমিভাবে ভিক্ষা চাওয়ার জন্য নগরীর বেশিরভাগ মানুষের কাছেই পরিচিত তিনি।

সিলেট প্রবাসীবহুল অঞ্চল। প্রবাসীদের বেশিরভাগই যুক্তরাজ্যের লন্ডনের বাসিন্দা। সিলেটে এরা ‘লন্ডনী’ নামে পরিচিত। আদতে সিলেটে সকল প্রবাসীরাই ‘লন্ডনী’ নামে পরিচিত, তা যে দেশেই তারা থাকুন না কেনো। সারাবছরই শহর সিলেটে লেগে থাকে এই ‘লন্ডনী’দের আনাগোনা। আর সিলেট শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হলো জিন্দাবাজার। ফলে প্রবাসীরা সিলেট আসলে জিন্দাবাজার আসতেই হয়।

নুরজাহান বেগমের টার্গেট এই ‘লন্ডনী’রাই। সকাল থেকে জিন্দাবাজার এলাকায় অবস্থান নেন তিনি। আর পোষাক-আসাক, চেহারা কিংবা কথা বলার স্টাইলে কাউকে ‘লন্ডনী’ মনে হলেই নুরজাহান বেগম দৌঁড় দেন তাঁর দিকে। তারপর সেই আবদার, ‘প্লিজ গিভ মি ওয়ান পাউন্ড’, ‌’লন্ডনী ছাব, আই এম হাংরি, প্লিজ গিভ মি ওয়ান পাউন্ড’।

তাঁর ভিক্ষার চাওয়ার এই অভিনব কৌশলের কারণে অনেকেই খুশি হয়ে টাকা পয়সা দিয়ে যান। প্রবাসীদের কেউ কেউ উপহারও দেন নাসিমা বেগমকে। আবার পথচারীদের অনেকেও তাঁর সাথে যেচে গিয়ে কথা বলেন।

নুরজাহান বেগম বলেন, আমি যখন ভিক্ষা করা শুরু করি তখন আরো অনেক ভিক্ষুকের কারণে টাকা পয়সা কম মিলতো। তখন প্রবাসীদের কয়েকজনই আমাকে ‌’গিভ মি ওয়ান পাউন্ড’ কথা শিখিয়েছে। এমন করে ভিক্ষা চাওয়ার ফলে আয় রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। অনেকে খুশি হয়ে, কেউ কেউ মজা পেয়েও টাকা পয়সা দিয়ে যায়- বলেন নুরজাহান। স্যরি, থ্যাংকইউ-এর মতো ইংরেজি শব্দও জানেন নুরজাহান।

নুরজাহান বলেন, জিন্দাবাজার এলাকায় নগরীর অন্যান্য স্থানের চেয়ে ভিক্ষুকের পরিমাণ বেশি থাকায় আগের চেয়ে আয় রোজকার কমে গেছে।

কথা প্রসঙ্গে নুরজাহান বলেন, ‘বেটিইনতে (মহিলারা) বাইচ্চাইন ছাড়ি দেয় ভিক্ষা করাত। ইতা বাচ্চাইন্তে মানুষরে পায়ে ধরি বইথাকে, মানুষে তারারে ভিক্ষা দিব না আমারে ভিক্ষা দিব।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!