রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলের ধলাই সেতুর সাইড স্লিপার ভেঙ্গে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন


স্বপন দেব, মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-শমশেরনগর-ব্রাহ্মণবাজার ব্যস্ততম সড়কের ২৬তম কিঃমিঃ এলাকায় কমলগঞ্জের ভানুগাছ বাজার সংলগ্ন সড়ক ও জনপথ বিভাগের ধলই নদীর উপর প্রায় ১৪ বছর আগে নির্মিত সেতুটি হঠাৎ করে পূর্ব অংশের সাইড স্লিপার ভেঙ্গে পড়েছে। এই পথ দিয়ে এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারী) সকাল থেকেই ঝুঁকি নিয়েই যান চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে লাল নিশানা টাঙিয়ে বিপদজনক হিসেবে চিহ্নিত করলেও এখন পর্যন্ত সংস্কারের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এদিকে কয়েক বছরের মধ্যে ব্রীজটি এভাবে ভেঙ্গে পড়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কমলগঞ্জের ধলাই সেতুর পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানা খন্দ।

শ্রীমঙ্গল-শমশেরনগর-ব্রাহ্মণবাজার সড়কের কমলগঞ্জের ধলাই সেতুটির ১৯৯৮ সালের ১লা ডিসেম্বর তৎকালিন যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর উপস্থিতিতে তৎকালিন হুইপ উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ এমপি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ঢাকার রূপায়ন নামক একটি কোম্পানী ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ধলাই সেতুর নির্মাণ কাজ পায়। রাজনৈতিক কারণে পরে কাজটি সাব কণ্ট্রাক হিসাবে হাতিয়ে নেন আওয়ামী ঘরণার সিলেটের জনৈক ঠিকাদার। সেতু নির্মাণের কাজের শুরুতেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। নির্মাণ কাজের সিডিউলের নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে সাব ঠিকাদার রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে কাজ করায় কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। এ বিষয়ে তখন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। নানা অনিয়ম দুর্নীতির মধ্যে তারাহুরো করে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হলে ২০০৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তৎকালিন অর্থমন্ত্রী এম, সাইফুর রহমান ধলাই সেতুটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের ৬ বছরের মাথায় গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই সেতুটির পূর্ব অংশের পিচ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হলে রাতের আধারে পাথর গালা দিয়ে তা সংস্কার করে স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। বর্তমানে সেই সংস্কারকৃত গর্ত গুলোর পিচ উঠে যাওয়ার পাশাপাশি পাশে আরো ৪-৫টি স্থানে পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় নতুন গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বড় বড় সেতুগুলোর স্থায়ীত্ব ৬৫-৭০ বছর হলেও কমলগঞ্জের ধলাই সেতুটি উদ্বোধনের ৬ বছরের মাথায় একাধিক স্থানে গর্ত সৃষ্টি ও পিচ উঠে গেলেও কোন মাথাব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ সোহেল বলেন, আমরা এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
78Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!