সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

লুনায় নির্ভার বিএনপি, বিদ্রোহের মুখে এহিয়া

ওয়েছ খছরু:
সিলেট-২ আসনে শেষ পর্যন্ত নির্বাসিতই রইলো আওয়ামী লীগ। এবারো নৌকা বঞ্চিত হলেন প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের ভোটাররা। তবে স্বস্তিতেই নেই মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়াও। দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই করতে হবে তাকে। একই কারণে গতবার বিনাভোটেও তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি। আওয়ামী লীগ নেতা মুহিবুর রহমানের সঙ্গে লড়াই করে তাকে জয়লাভ করতে হয়েছিল। মহাজোটের এই টানাপড়েনে নির্ভার রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ওই আসনের বিএনপিতে সুসহংত অবস্থানে রয়েছেন তিনি। তার কোনো বিদ্রোহীও নেই।

সিলেট-২ (ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ) আসনে আওয়ামী লীগের দুই শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন সাবেক এমপি ও জেলার সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। দুই জনের মতবিরোধে শেষ পর্যন্ত এবারো এ আসনটি মহাজোট থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি এহিয়া চৌধুরীকে। তবে ক্ষোভ কমেনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। এহিয়াকে ছাড় না দিতে দু’জন প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। এরা হচ্ছেন- বিশ্বনাথ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মুহিবুর রহমান ও ড. এনামুল হক সর্দার। এর মধ্যে মুহিবুর রহমান হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান ও এনামুল হক সর্দার হচ্ছে শফিকুর রহমান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন। ফলে মহাজোটের ভেতর থেকে খুব সহজেই ছাড় পাচ্ছেন না এহিয়া চৌধুরী। বিদ্রোহের মুখোমুখি পড়তে হচ্ছে তাকে। মহাজোট প্রার্থী এহিয়া চৌধুরী জানিয়েছেন, জোটের কেন্দ্রীয় সিদ্বান্তে আসনটি জাতীয় পার্টিকে দেয়া হয়েছে। সুতরাং আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা ছিল, সেটি বিরোধের পর্যায়ে যায়নি। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। আমরা তার সিদ্ধান্ত মতো কাজ করছি, করবোও।

সিলেট-২ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি ছিলেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী। তিনি গুম হওয়ার পর এ আসনে বিএনপির হাল ধরেছেন তারই স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। লুনা এবার বিএনপির টিকিট নিয়ে এ আসনে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। লুনা এ আসনে আগে থেকেই নির্ভার। অবস্থানও সুসংহত। কারণ এ আসনের ভোটাররা এখনো ইলিয়াসের জন্য অপেক্ষায়। ইলিয়াস গুমের বিষয়টিও স্বাভাবিকভাবে নেননি আসনের বাসিন্দারা। ফলে লুনার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি। আর গত ৪ বছরে লুনার নির্দেশনার দুটি উপজেলা নির্বাচন ও বেশির ভাগ ইউনিয়ন নির্বাচনে জয় পেয়েছে বিএনপি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিতেও লুনার আধিপত্য রয়েছে। লুনা ছাড়া এ আসনে ডামি প্রার্থী রাখা হয়েছে তার ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াসকে। ছেলের মনোনয়ন কৌশলগত কারণে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

ইলিয়াসপত্মী তাহসিনা রুশদীর লুনা জানিয়েছেন, বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের বিএনপি নয়, সাধারণ মানুষও ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। এর কারণ ইলিয়াস আলী ছিলেন বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের মাটি ও মানুষের নেতা। এখনো ইলিয়াসের জন্য অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। ইলিয়াস গুমের জবাব দিতে এলাকার মানুষ এবার ভোট বিপ্লব করবে বলে মনে করেন তিনি। সূত্র: মানবজমিন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
1.1kShare on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!