সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিলেটে জোট মহাজোটে নানা সমীকরণ

ওয়েছ খছরু:
মনোনয়ন জমা দেয়ার পর কঠিন সমীকরণে আবর্তিত হচ্ছে সিলেটে জোট-মহাজোটের রাজনীতি। স্বস্তিতে নেই কোনো পক্ষই। উভয় শিবিরেই একই আসনে একাধিক প্রার্থী নিয়ে টানাপড়েন চলছে। আর এসব মিটমাটে পর্দার আড়ালে থাকা কুশীলবরাও ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। শুরু করা হয়েছে আলোচনাও। তবে- সিলেটে আওয়ামী লীগকে সহজেই ছাড় দিতে চায় না জাতীয়পার্টি।

এ কারণে ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতে তারা নিজেদের প্রার্থী রেখেছে। মহাজোট থেকে বিকল্পধারাও চায় একটি আসন।
২৩ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামী দুটি আসনে তাদের প্রার্থী রেখেছে। যে দুটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে সে দুটি আসনে বিএনপিরও একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। গণফোরামও ঐক্যফ্রন্ট থেকে একটি ও শরিক খেলাফত মজলিসও দুটি আসনে প্রার্থী রেখেছে। ফলে সিলেটের ভোটের মাঠের কোনো সমীকরণ এখন মিলছে না। সব দল থেকে প্রার্থী থাকায় জোটগত একক প্রার্থী নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন ভোটাররা।

সিলেটে মহাজোটের শরিকদল জাতীয়পার্টি এবার ছাড় দিচ্ছে না মূল দল আওয়ামী লীগকে। সিলেটের চারটি আসনে তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে শক্তিশালী প্রার্থী রেখেছেন। এখন পর্যন্ত সিলেটে মহাজোট থেকে জাতীয়পার্টিকে একটি আসন দেয়া হয়েছে। সেই আসনটি হচ্ছে সিলেট-২। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেননি। দুই জনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ওই আসনে জাতীয়পার্টির বর্তমান এমপি এহিয়া চৌধুরী একক প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগের দুটি বলয় থেকে দুই ডামি প্রার্থী রাখা হয়েছে। এর মধ্যে শফিকুর রহমান চৌধুরী বলয়ের প্রার্থী হচ্ছেন ড. এনামুল হক সর্দার ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বলয়ের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান। শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

সিলেট-৫ আসনে জাতীয়পার্টির বর্তমান এমপি ও হুইপ সেলিম উদ্দিন জাতীয়পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি গত নির্বাচনে এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ থেকে এখানে প্রার্থী করা হয়েছে সাবেক এমপি হাফিজ আহমদ মজুমদারকে। জাতীয়পার্টি সিলেট-২ আসনের মতো সিলেট-৫ আসনটি এবার মহাজোটের কাছে দাবি করেছে। শেষ পর্যন্ত মহাজোটের সমর্থন না পেলে এ আসনে সেলিম উদ্দিন নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। আর অনড় অবস্থানে রয়েছেন হাফিজ আহমদ মজুমদারও। সেলিম উদ্দিন নিজ এলাকা সিলেট-৬ আসনেও জাতীয়পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সিলেট-৪ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান এমপি এমরান আহমদ। এ আসনে জাতীয়পার্টির প্রার্থীর কথা না শোনা গেলে শেষ মুহূর্তে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রভাবশালী নেতা তাজ রহমান এসে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি মনোনয়ন দাখিলের পরপরই এ আসনে মহাজোটের টানাপড়েনের দৃশ্যটি প্রকাশ্যে এসেছে। সিলেট-৩ আসনে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসকে ছাড় দেননি জাতীয়পার্টির জেলার সদস্য সচিব উসমান আলী। তিনিও জাতীয়পার্টি থেকে এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। উসমান জানিয়েছেন- তিনিও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

জাতীয়পার্টি ছাড়াও সিলেট-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদকে ছাড় দেননি বিকল্প ধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য সমশের মবিন চৌধুরী। এ আসনে সমশের মবিনকে প্রার্থী করতে আওয়ামী লীগের কাছে আসনটি দাবি করেছিল বিকল্পধারা। কিন্তু আওয়ামী লীগ থেকে ছাড় না পাওয়ায় বিকল্পধারার প্রার্থী হিসেবে এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সমশের মবিন চৌধুরী। আর মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সমশের মবিন চৌধুরী জানিয়েছেন- একক প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সময় হলে সিদ্ধান্ত জানা যাবে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন- সিলেটে মহাজোটের ভেতরে কোনো বিরোধ নেই। জোটের শীর্ষ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটি সবাই মেনে নেবেন। আমরা তো জোটের স্বার্থে সি থেকে ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন- কৌশলগত কারণে আমরা বেশি প্রার্থী দিয়েছি। শেষ মুহূর্তে একক প্রার্থীই ভোটের মাঠে থাকবেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন- সিলেট বিএনপিতে এখন কোনো বিভক্তি বা বিরোধ নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। সুতরাং এখানে দূরত্ব থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না।

সিলেটে দুটি আসনে এবার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ দুটি আসন হচ্ছে সিলেট-৫ ও সিলেট-৬। সিলেট-৫ আসনে প্রার্থী মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। আর সিলেট-৬ আসনে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা হাবিবুর রহমান। জামায়াতে ইসলামী এ দুটি আসনে তাদের প্রার্থীকে ২৩ দলীয় জোটের প্রার্থী বলে দাবি করেছে। এ দুটি আসনে বিএনপিরও রয়েছে শক্তিশালী একাধিক প্রার্থী। বিএনপি থেকে সিলেট-৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মামুনুর রশীদ মামুন ও সিলেট-৬ আসনে জমা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী ও চিত্রনায়ক হেলাল খান। গতকাল ফয়সল আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন- তার আসনে জামায়াতের প্রার্থী থাকবে না। এবার বিএনপি থেকে এ আসনে নির্বাচন করা হবে। আর মামুনুর রশীদ মামুন জানিয়েছেন- তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এখন দল থেকে মনোনয়ন দেয়ায় তিনি ধানের শীষের প্রার্থী বলে জানান।

সিলেট-২ আসনে এবার সুসংহত অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও তার ছেলে আবরার ইলিয়াস। এ আসনে গণফোরাম থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মোকাব্বির খান। সিলেটে বিএনপির কাছে এবার দুটি আসন চায় ২৩ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিস। এ দুটি আসন হচ্ছে সিলেট-২ ও সিলেট-৩। সিলেট-২ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. মুনতাছির আলী ও সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী দলের সিলেট জেলার যুগ্ম সম্পাদক দিলওয়ার হোসেন। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুনতাছির আলী জানিয়েছেন- প্রায় দেড় যুগ ধরে খেলাফত মজলিস জোটের সঙ্গে আছে। কিন্তু এখনো ন্যায্য হিস্যা পায়নি। জোট থেকে প্রার্থী না দিলে তারা স্বতন্ত্র হয়ে প্রার্থী থাকবেন বলে জানান। সূত্র – মানবজমিন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!