শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শাল্লায় ছাত্রলীগ নেতার সংবাদ সম্মেলন


শাল্লা প্রতিনিধি:
শাল্লা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির কান্তি রায়ের নিত্যদিন মদ খেয়ে মাতলামি ও সামাজিক শৃংখলা ভঙ্গ এবং উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার হুমকি দেয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেন শংকর রায়। ৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার শাল্লা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত অভিযোগে বলেন আমি শংকর রায় শাল্লা উপজেলা ছাত্রলীগের একজন একনিষ্ঠকর্মী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করে যাচ্ছি।

গত বুধবার ৭ নভেম্বর গভীর রাতে মদ খেয়ে আমাকে, আমার ভাই অলক রায়সহ আমাদের পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়। সাথে সাথে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদেরকেও অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে সে সন্ত্রাসী ও চরিত্রহীন মিহির কান্তি রায়। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মতো একটি আদর্শবান দলের অঙ্গ-সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে মদ খেয়ে এমন অসামাজিক আচরণে আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন একনিষ্ঠকর্মী হয়ে লজ্জিত। দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন এমন একজন চরিত্রহীন, মাতাল ও সন্ত্রাস প্রকৃতির লোক মিহির কান্তি রায়কে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার অপরাধে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিস্কার করার জন্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অনুরোধ জানান শাল্লা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা শংকর রায়। তিনি থানায়ও অভিযোগ করবেন।

শাল্লা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির কান্তি রায় প্রতিদিন মদ খেয়ে সাধারণ মানুষ, এলাকার গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। এমনকি মদ খেয়ে মানুষকে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করেননি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির কান্তি রায়। তার আচরণ সন্ত্রাস প্রকৃতির লোকের মতো। এলাকার সাধারণ মানুষ তার রাজনৈতিক পরিচয়ে ও তার ভয়ে আতঙ্কিত। ২০১৪ সালে আমার ভাই অলক রায়কে বিনা অপরাধে তার লালিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে মদ খেয়ে দা দিয়ে কুপাতে থাকে অলক রায়কে হত্যার উদ্দেশ্যে। মিহির রায়সহ তার সন্ত্রাসীদের আক্রমণে আমার ভাই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সাথে সাথে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। যার বিপরীতে আমার বাবা রবীন্দ্র রায় বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিন মদ খেয়ে আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মন্টু রায়ের ছেলে চরিত্রহীন ও সন্ত্রাসী মিহির কান্তি রায় আমাদেরকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। গত বছর এক নারীকে নিয়ে আনন্দপুর বলনপুর আখড়া পাড়ায় এক বাড়িতে গিয়ে অসামাজিক কাজ করলে সেখানে গণধোলাই খায় সে। পরে গ্রামে সালিসের মাধ্যমে তাকে জুতাপেটা করা হয়। চলতি বছরে পল্লী বিদ্যুতের সাধারণ শ্রমিকরা আনন্দপুরে কাজ করার সময় মদ খেয়ে তাদেরকেও মারধর করে মিহির কান্তি রায়।
এবিষয়ে ওই ওয়ার্ডের সদস্য সুব্রত সরকার বলেন, এমন হলে তো নিন্দনীয় ঘটনা। আমি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এব্যাপারে মিহির কান্তি রায়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তিনি এসব কথা বলছেন। তবে আশপাশের লোকজন জানান মিহির রায় যে মাদকাসক্ত তা সত্য বলে তারা জানান। তারা আরো জানান মিহির রায় প্রায়ই মদ খেয়ে মাতলামি করে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
220Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!