শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর


সুরমা নিউজ:

প্রাইমারী স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে ছাত্রলীগ নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের ধাওরাই বাজারে গত বুধবার এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের তাৎক্ষনিক হস্থক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কিন্তু হামলার চারদিন পেরিয়ে গেলেও এলাকায় সন্ত্রাসীরে সশস্ত্র মোটরসাইকেল মহড়া এবং এখন পর্যন্ত হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনমনে অস্বস্তি বিরাজ করছে।

সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় খছরু মিয়া ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ছাব্বির খানের লোকজনের মধ্যে স্থানীয় জামালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বেশ কয়েকমাস ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে সম্প্রতিকালে স্থানীয় ধাওরাই বাজারে ভূমি নিয়ে ছাব্বির ও খছরু পক্ষের লোকজনের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। সম্প্রতি পূর্বে বিরোধের জের ধরে খসরু মিয়ার ভাই কাওচার মিয়া, আশারকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির খান ছাব্বিরের নিজ মালিকাধীন জায়গায় অবস্থিত ব্যক্তিগত কার্যালয় জোর দখল করতে দাওরাই বাজারের সিএনজি ড্রাইভারদের স্বাক্ষর জালিয়াতী করে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগের তদন্তের জন্য আশারকান্দি ইউপির তফসিল অফিসারকে দায়িত্ব দেন। তফসিল অফিসার তদন্তের জন্য স্পটে আসলে দাওরাই বাজারের সিএনজি ড্রাইভারগণ তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে বলে প্রতিবাদ করেন। তখন কাওচার মিয়ার সাথে সিএনজি ড্রাইভার এবং ছাব্বির খানের লোকজনের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কাওচার মিয়া, সুহেল মিয়া ও কয়েছ মিয়া তাদের সিএনজিতে থাকা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করতে চাইলে সাব্বির খানের পক্ষ তা প্রতিহত করে। এসময় দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষনিক মুহুর্তে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এই ঘটনার কিছু সময় পর কাওচার পক্ষের খসরু, কয়েছ ও সুহেল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে মহড়া দেয় এবং বিভিন্ন হুমকি দিয়ে ছাব্বির পক্ষকে না পেয়ে তার দলীয় একান্ত অফিসের চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে। তাদের হামলা ও ভাংচুর থেকে বাদ যায়নি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও। তারপর ছাব্বির খানের পক্ষে দুইজন মুরুব্বি দাওরাই বাজার থেকে রিক্সা যোগে ফেরার পথে খসরু পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল দিয়ে রিক্সার গতিরোধ করে গুরুতর আহত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। তখন স্থানীয় লোকজন তাদেরকে নিয়ে বাড়িতে দিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ীতেই রয়েছে। এখনও রাতের আধারে কিছু অপিরিচিত লোক হেলমেট পড়ে মোটরসাইকেল দিয়ে সাব্বির খানের বাড়ীর আশেপাশে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে যাচ্চে। এতে এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশংকা রয়েছে।

এব্যাপারে আশরাকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আবু ইমানী বলেন- ঐ জায়গায় ছাব্বির খানের দলীয় একান্ত অফিস অনেক আগ থেকে ছিল। সে এখানে বিভিন্ন দলীয় মিটিং করে থাকেন। বিভিন্ন সময় লোকজন নিয়ে দলীয় অফিসে বসেন। এমন একটি স্থানে হামলা ও ছবি ভাংচুর খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এধরনের ঘটনা এলাকার শান্তি বিনষ্ট করবে।

এব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা খছরু মিয়া বলেন- প্রতিপক্ষের লোকজন বাজারে সরকারী ভূমি জোরপূর্বক দখল করে ভোগদখল করে আসছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়া হয়। যার প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন তফশীল অফিসের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে জায়গায় মাপ-ঝোক করেন। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন আমার ছোট ভাইকে দলবদ্ধ হয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেছে। আমাদের লোকজন কাউকে মারধর বা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত নয়।

ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির খান বলেন, স্থানীয় বাজারে আমাদের নিজস্ব ভূমিতে র্দীঘদিন পূর্বে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। পূর্ব শক্রতার কারনে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে খছরু মিয়ার লোকজন আমাদের দুইজন বৃদ্ধ লোককে মারধর করেছে। সন্ধ্যায় আমার ছাত্রলীগের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও ভাংচুর করেছে। আমরা কাউকে মারধর করিনি।

জগন্নাথপুর থানার এসআই লুৎফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করেছি। দুই পক্ষের মধ্যেই পূর্ব বিরোধ চলছিল। যার জের ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
790Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!