শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক আমাদের কি দিচ্ছে, আমরা কি দিচ্ছি

সুমন মিয়া:

ফেসবুকে আপনার ব্যবহৃত একাউন্টের নিউজ ফিডে (মূল পৃষ্টা) বাহারি ও বৈচিত্র্যময় আয়োজনের উপস্থাপনা দেখতে গিয়ে ব্যস্ততম হয়ে উঠার কথা, আমরা সবার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি খুব স্বাভাবিক। ভেবে দেখবেন কখনো মনের অজান্তে অর্থাৎ আড়ালে নষ্ট করে ফেলা কিছু সময় আবার সময়ের প্রয়োজনে ঐ নষ্ট করা সময় আমার আপনার কাজে লেগে যায়, এই ভেবে আমি এক ব্যক্তির ক্ষুদ্র জ্ঞানে সুরমা নিউজ ২৪ এ ব্যাখ্যা করা লেখাটি পড়বেন প্রত্যাশা রইলো।

দুটো একাউন্ট এর মাধ্যমে প্রায় ১১ বছর অতিবাহিত করেছি ফেসবুক ব্যবহার করে এবং এখনো করছি, এর মধ্যে কয়েক বছর থেকে আমার বর্তমান একটি একাউন্ট ব্যবহার করে আসছি, পূর্বের অর্থাৎ প্রথম একাউন্টটি সিকিউরিটি জটিলতায় নষ্ট হয়ে-গিয়েছিল।

বিগত কয়েক বছর থেকে ধারাবাহিকতায় ব্যবহৃত আমার একাউন্টটি শুরু করা যাত্রা থেকে আজ অবধি টিক একই ভাবে একই অনুসরণে আমার দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসতেছে, এর মধ্যে অনেক অজানা মানুষের সাথে প্রথম পরিচয়ের মাধ্যমে সুপরিচিতি লাভ করে অনেকের সাথে সু-সম্পর্ক তৈরি হয়েছে যারা কেউ দেশে বাস করছেন আবার কিছু ব্যক্তিরা জীবিকার্জনের তাগিদে প্রবাসে অবস্থান করছেন। আমার এই পরিচতির সংখ্যাটা খুবই অল্প তবে উনাদের জ্ঞানের আসর আমার কাছে আমি অতি সাধারন ব্যক্তির তুলনায় বিশাল বড় ব্যাপার, এখানে প্রায় সবাই উনাদের জ্ঞানার্জনের যোগ্যতায় সম্মানজনক কাজে নিজেদের নিয়োজিত করে রেখেছেন…।

আমার ফ্রেন্ড-লিস্ট আবার অল্প তালিকায় সীমাবদ্ধ এত বছর পার করলেও এপর্যন্ত ৩০০’র কোটা পাড় হতে পারিনি যার একটি মাত্র কারণ, অকারণে অপরিচিতদের আমি কখনো আমার ফ্রেন্ড লিস্টে জায়গা দেয়ার কথা ভাবতেও পারিনা। ফুঁ দিয়ে মুড়ির মতো হাওয়ায় উড়তে থাকা অর্ধশত অথবা শতশত লাইক ও ভিত্তিহীন কয়েকটি কমেন্টের জন্য আমি আবার এতটা উদাসী এবং এই বিষয়ের উপর খুব উপবাসও নই। আমি কোনো রাজনীতিবিদ, লেখক, সাংবাদিক, খেলোয়াড়, হিরো, কবি সাহিত্যক ও ইতিহাস রচয়িতা কিংবা লেখক অথবা ছাত্রদের জনপ্রিয় শিক্ষকও নই আমি আমার মতো আমি কখনো কোনো ভাবেই উপরের বলা ব্যক্তিবর্গের মতো নিজেকে ভাবলেও যোগ্যতার কাছে আমি আমিই হয়ে থাকবো যা আমাদের সবার ক্ষেত্রে সবার যোগ্যতা অনুসারে এটাই ভাবা উচিৎ এর ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকাটা অধিক শ্রেয় সবার জন্য।

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খবর ও ছবি, ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, জন্ম ও মৃত্যু, বিবাহ ও বিবাহবার্ষিকী এবং উন্নয়নশীল বিভিন্ন সামাজিক কাজের বাস্তবতা সহ নানারকম খবর প্রকাশ ও তথ্য উপস্থাপনা করার সবচেয়ে সহজ দ্রুত ও কার্যকরী যোগাযোগব্যবস্থার মিডিয়া বলি আর সামাজিক সাইট যাই বলি ফেসবুক এই তালিকায় সবার পছন্দের তালিকায় প্রথম স্থানে। এখন একটু ভাবুন আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে আপনার বন্ধু, পরিবার পরিজন আত্নীয়স্বজন ও সুপরিচিতি ব্যক্তিদের সংখ্যা ১০০/২০০ অথবা ৩০০’র খানিকটা উপরে অতচ আপনার ফ্রেন্ড লিস্টের তালিকায় ফেসবুক ব্যবহারির সংখ্যা প্রায় ২৫০০ থেকে শুরু করে এর উপরে। কি? এবার অবাক হয়ে চোখ কপালে উঠার মতো কয়েকটি লাইন পড়লেন তাই-তো এটাই হচ্ছে বর্তমানের অধিকাংশ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বাস্তবতা।

আপনার অপরিচিত দেশের বিভিন্ন জেলার ফেসবুক ব্যবহারকারী সহ দেশের বাহিরের অসংখ্য ব্যক্তিদের নিজের ফ্রেন্ড-লিস্টে জায়গা দিয়ে রেখেছেন এটা আসলে কতটা যৌক্তিক আপনাদের বিবেকের সর্বোচ্ছ পরিশর থেকে ভেবে দেখবেন, এমনকি খেয়াল করে দেখলে দেখতে পারবেন এমন অনেক অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী আছেন যাদের ফ্রেন্ড লিস্টে ইংলিশ সহ অন্যান্য ভাষার ব্যক্তিরাও আছেন যাদের ব্যাপারে জানা কল্পনাতীত এদের ভাষা পর্যন্ত বুঝা কষ্টকর অথচ এদের দিয়ে আপনার একাউন্টটি ভারী করে রেখেছেন শুধুমাত্র কয়েকটি অকার্যকরী লাইক ও কমেন্টের জন্য। একবার কি ভেবে দেখেছেন যে আপনার আশেপাশের অনেক মানুষজন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা তাৎক্ষনিক ভাবে একার পক্ষে সবার সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে ফেসবুকে শেয়ার করে রেখেছেন কিন্তু, অপরিচিত ও অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিরা আপনার ফ্রেন্ড লিষ্টে থাকায় উনাদের অবান্তর পোস্ট গুলোর জন্য আপনার খুব পরিচিত মানুষগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট গুলো সম্পর্কে জানতে পারছেন না কেননা আপনার পুরো নিউজ ফিড অপ্রয়োজনীয় উপস্থাপনায় ভরপুর।

কেন এসকল ফ্রেন্ডদের দিয়ে আপনার একাউন্টটি ভরপুর করে রেখেছেন যে ব্যক্তিরা আপনাকে জানেননা আপনিও তাদেরকে চেনেননা উভয়ের প্রয়োজন একটাই লাইক ও কমেন্ট বিনিময় যেগুলো প্রকৃতপক্ষে হাস্যকর ও ভিত্তিহীন। খোঁজে দেখবেন এমনও মানুষ আছেন যারা উনার ছবিতে অথবা স্ট্যাটাসে লাইক ও কমেন্ট নিয়ে গর্ব করেন কিন্তু, খতিয়ে দেখবেন যারা লাইক ও কমেন্ট করছেন এরা কোথাকার এবং কি নামের ব্যবহারিকারী তখন বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা কি। এমনও আছে খোঁজলে পাওয়া যাবে যে পরিচিত কারো মৃত্যুর খবর জেনেছেন এক-দুদিন পর কারণ একটাই অপরিচতদের ঘন্টার পর ঘন্টা অযাচিত পোস্টের কারণে। আমাদের স্বাভাবিক বুদ্ধি ও কার্যকলাপেও আজ ধুলোয় ময়লা জমে গেছে কেন জানি এই ধুলো পরিস্কার করতে অসুবিধা হচ্ছে, তা-না হলে কোন রেস্টুরেন্টে বসে কি খাচ্ছি, কোন যানবাহন দিয়ে কোথায় আরোহন করছি কতজন বসে একসাথে আড্ডা দিলাম কার সৌজন্যে কে খাওয়ালো, কার ছবিতে কতটা লাইক হচ্ছে এসবের প্রতিযোগিতা করা। সকালে আমি কোথায় ছিলাম এবং রাতে কোথায় আছি কি করছি এসব জানান দিতে হয় এমনকি এমনও ব্যাবহারকারী আছেন যারা প্রতিটি নতুন জামা কাপড় পরিধান করলে এই চিত্রটি ফেসবুকে না দেখালে ভেবে থাকেন তিনি কাপড়ই ক্রয় করেননি। ছবি প্রকাশ করবেন, কোথায় আছেন বা যাচ্ছেন কেন-নয় অবশ্যই শেয়ার করবেন তবে, তার পূর্বে ভেবে দেখবেন এগুলো গুরুত্বপূর্ণ নাকি গুরুত্বহীন, মনে রাখবেন সুন্দর্য মানুষকে কখনো ফুঠিয়ে তুলে না বরং মানুষই সুন্দর্যকে ফুঠিয়ে তুলে।

মঙ্গলজনক ও কল্যাণকর বিষয়বস্তুর উপর পরিচিত ও অপরিচিতদের মিলনমেলায় একে ওপরের সাথে সখ্যতায় সুসম্পর্ক গড়ে উঠার গুরুত্বপূর্ণ ও খুব জনপ্রিয় একটি মাধ্যম ফেসবুক। একটু সহজতর ব্যাখ্যা হচ্ছে পুরো বিশ্বে মূহুর্তে যোগাযোগের এক আকর্ষণীয় উদ্ভাবন মার্ক জোকারবার্গের “ফেসবুক”। ফেসবুকের কল্যাণে হারানো ও নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষ পেয়েছে আপনজনের ঠিকানা, ফেসবুক ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করেছে অনেকের জন্মস্থান ও জন্মভূমির ঠিকানা, ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক ভুক্তভোগী পেয়েছেন ন্যায়ের বিচার এই ফেসবুক ব্যবহারের কারণেই হাজার হাজার রোগী খোঁজে পেয়েছেন রক্তদাতাকে, ফেসবুকের ভেতরেই সুসংঘটিত হয়েছে অনেক সমাজসেবা ও দেশ এগিয়ে নেওয়ার সামাজিক সংঘটন সহ নানান উত্তম কাজের অগ্রযাত্রা। সর্বোপরি সবার ব্যবহারের মাধ্যমেই ফেসবুক হবে আমাদের সুফলতা ও কুফলতা, যা বেছে নেওয়ার দায়িত্ব আমার, আপনার আমাদের সবার।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
360Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!