শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ

রক্তচোষা জোঁক সারাবে ক্যান্সার, নিয়ন্ত্রণে রাখবে ডায়াবেটিস!

সুরমা নিউজ ডেস্ক:
মরণব্যাধী ক্যান্সারের কথা শুনলেই শরীর শীতল হয়ে আসে। আর জোঁককে ভয় পান না এমন মানুষ বিরল। অথচ ভয়ঙ্কর এই ক্যান্সারকে ভীতিকর জোঁক দিয়ে দূর করার পদ্ধতি চিকিৎসাসেবায় যুক্ত হয়েছে। যাকে বলা হচ্ছে-‘জোঁক থেরাপি’। বেশ কয়েকটি জটিল রোগের চিকিৎসায় জোঁককে কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে-

জোঁককে কাজে লাগিয়ে এই চিকিৎসা শুরু হয় যেভাবে : জোঁককে কাজে লাগিয়ে জটিল রোগ নিরাময়ের থেরাপির নাম ‘জোঁক থেরাপি’। এই অভিনব পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু হয় ২০০৪ সালে। এই সময় একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে, জোঁক বাস্তবিকই নানাভাবে মানবশরীরের উপকারে আসে।

হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায় : ২০১১ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, ঠিক পদ্ধতিতে জোঁককে ব্যবহার করলে সারা শরীরে রক্তের সঞ্চালন বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়তে থাকে। আসলে জোঁকের স্যালাইভা বা লালা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অলটারনেটিভ মেডিসিন রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ব্লাড ক্লট এবং পা ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা কমাতেও এই পদ্ধতি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ক্যান্সারের প্রকোপ কমায় : এই মরণ রোগের চিকিৎসায় বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে জোঁক। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, অন্য ওষুধের পাশাপাশি ক্যান্সার রোগীর শরীরে যদি জোঁকের স্যালাইভা প্রবেশ করানো যায়, তাহলে স্তন, মেলানোমা, ফুসফুস এবং প্রস্টেট ক্যান্সারের প্রকোপ অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে : বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ২০ বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে প্রায় ৩৬ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগবে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ডায়াবেটিসের কারণে হওয়া নানাবিধ জটিলতা কমাতে জোঁক থেরাপি দারুণ কার্যকর।

ছোঁয়াচে রোগের প্রকোপ কমায় : জোঁকের শরীরে থাকা ডেস্টাবিলেস নামক এক ধরনের প্রোটিন আমাদের শরীরে প্রবেশ করার পর সব ধরনের জীবাণুকে মেরে ফেলে রোগের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে।

প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে হওয়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জোঁকের শরীরে থাকা নিউরোসিগনালিং এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পেপটাইড যে কোনো ধরনের সংক্রমণকে কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

অস্টিওপোরোসিসের চিকিৎসা : জয়েন্টে ব্যথা হলে সেসব জায়গায় কিছু সময় জোঁককে রাখলে সেখানে রক্ত সরবরাহ প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটে। ফলে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগীরা অনেক উপকৃত হন।

কানের যন্ত্রণা কমায় : বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কানের ক্রণিক যন্ত্রণা কমাতে জোঁকের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে একটা জোঁক কানের পিছনে, আর একটি কানের সামনে কিছু সময় রেখে দিতে হবে। এমনভাবে ৩-৪ দিন করলেই যন্ত্রণা একেবারে কমে যাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!