শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নের জন্য নৌকার মাঝি হতে চান শফিক চৌধুরী

আনোয়ার হোসেন আনা:
এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য সিলেট-২ (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) আসনে আবারও নৌকার মাঝি হতে চান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি সকল প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতি দিন ছুটে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকায়। প্রতিটি এলাকায় গঠন করছেন নির্বাচনী সেন্টার কমিটি।

গত নির্বাচনে এই আসনটি শরীক দল জাপার পছন্দের শীর্ষে থাকায় দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং নেত্রীর নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এতে আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ইয়াহইয়া চৌধুরী। কিন্তু বিগত ৫ বছরে এলাকায় আশানুরূপ উন্নয়ন না হওয়ায় তিনি ব্যথিত। অতিসম্প্রতি একটি সভায় সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরীর সামনেই এলাকা উন্নয়ন বঞ্চিত থাকার কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আগামীতে এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই আসনের নৌকার বিকল্প নেই বলে মনে করেন এই রাজনীতিবিদ।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করে জয়ী হন তিনি। ইলিয়াস আলী নিজের বিজয় নিশ্চিত ভাবলেও ৩হাজার ৩শ ১৬ ভোটের হারতে হয়। শফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়ে এলাকায় অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত করেন। নির্বাচন পূর্বে তিনি ওসমানীনগর উপজেলা বাস্তবায়ন এবং জনগণকে গ্যাস সুবিধা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় ২০১৫ সালে উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। একই সাথে গ্যাস সংযোগ প্রদানের জন্য গ্যাস পাইপ লাইনও স্থাপন করা হয় । তবে দেশে পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে সারা দেশে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় গ্যাস সুবিধা এখনো ভোগ করতে পারেনি এলাকাবাসী।

গত সংসদ নির্বাচনে আসনটি জাপাকে ছেড়ে দেয়ায় তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনিত হন। প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি দলের জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যরা প্রবাসে থাকলেও তিনি রাজনীতির টানে পড়ে রয়েছেন দেশের মাটিতে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে দিন রাত ছুটে বেড়াচ্ছেন দলীয় স্বার্থে। যার কারণে এলাকার নেতাকর্মীদের কাছে তিনি এখন ‘২৪ ঘন্টার রাজনীতিবিদ’ হিসেবে পরিচিত। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন দূর্নীতির অভিযোও উঠেনি।

এই আসন থেকে শফিকুর রহমানের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা এম.এ সালাম দলীয় মনোনয়ন দাবি করছেন।

ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামী লীগ পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। এক পর্যায়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দিয়ে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করলেও সেখানেও দলীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকেন। সংসদ সদস্য হওয়ার পূর্বে তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ওয়ান ইলিভেনের সময় কারাবরণও করতে হয় তাকে।

শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, গত নির্বাচনে দলের স্বার্থে এবং নেত্রীর নির্দেশে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়াই। তখন জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য পরবর্তী নির্বাচনে না আসা এবং আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকের সাথে নিয়ে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নের কথা দিয়ে কথা রাখেননি। ৫ বছরে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও এই এলাকা উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। এলাকার সার্বিক উন্নয়নে এই আসনে নৌকার বিকল্প কিছু নেই। তাই এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আসন্ন নির্বাচনে নৌকা নিয়ে লড়তে চাই। এলাকার স্বার্থে নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার জন্য দলীয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!