মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শাবিপ্রবি’র মেডিকেল সেন্টার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ

সুরমা নিউজ :
শাবিপ্রবি’র মেডিকেল সেন্টার থেকে দেয়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির এক শিক্ষার্থী। সেই সাথে এর সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবিও করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর দায়ের করেছেন তিনি।

জানা যায়, সঞ্জয় ঘোষ নামের ইংরেজী বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ^বিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার থেকে ওষুধ নিয়ে সেবন করার পর সুস্থতার বদলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অসুস্থতার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখতে পান মেডিকেল সেন্টার থেকে দেয়া ‘বেকসুল গোল্ড’ নামের সেই ক্যাপসুলের মেয়াদ কয়েকমাস আগেই পেরিয়ে গেছে। পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক ও প্রক্টর বরাবর স্বাস্থ্যহানী জনিত ক্ষতিপূরণ ও সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করে অভিযোগপত্র দায়ের করেন তিনি। পরে তা রেজিস্ট্রার হয়ে মেডিকেল সেন্টারে পৌঁছে। যেখানে অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন রেজিস্ট্রার।

যোগাযোগ করলে সঞ্জয় ঘোষ বলেন, আমি অভিযোগ দিয়েছি। আমি দেখতে চাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

তবে বার বার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দিয়ে বিষয়টি অনাকাঙ্খিত ভুল বলে পার পেয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে মডিকেল সেন্টারের ওষুধ সংরক্ষণ ও সার্বিক দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ফার্মাসিস্ট সৈয়দ আবুবকর বলেন, আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সাধারণত দেই না। অনেক সময় দেখা যায়, রোগী কম থাকে এ ধরনের ওষুধ সাপ্লাই হয় না সেসব ওষুধ মাঝে মাঝে ভুলে চলে যায়। যদি ভুলবশত ওষুধ চলে যায়, তাহলে আমাদের কাছে নিয়ে আসলে আমরা ফেরত নিয়ে নিবো। যদিও মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ কেনার বিধিতে স্পষ্ট লেখা আছে অন্তত দুই বছর মেয়াদ আছে এমন ওষুধ কিনতে হবে। অন্যথায় কেনা যাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. কৃষ্ণপদ আচার্য্য বলেন, আমার কাছে একটা চিঠি এসেছে। আমি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। এতো কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার ভুল হচ্ছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সংবাদপত্রে খবরের প্রেক্ষিতে কর্মরত চিকিৎসকদের সময় ও মেডিকেল সেন্টারের মান মনিটরিং এর জন্য অধ্যাপক ড. কবির হোসেন এবং অধ্যাপক ড. এসএম হাসান জাকিরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন তৎকালিন ভিসি অধ্যাপক আমিনুল হক ভূইয়া। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ১৯৯১ সালের ২৩ নভেম্বর স্থাপিত এই সেন্টারটির প্রতিনিয়ত দৃশ্য এটি। শিক্ষার্থীদের কাছে ‘প্যারাসিটামল সেন্টার’ নামে খ্যাত এই মেডিকেল সেন্টার নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে এখন নিজেই রোগী। চরম অব্যবস্থাপনা ও যাচ্ছেতাই ব্যবহারের ফলে মেডিকেল সেন্টার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। মেডিকেল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিপরীতে কর্তৃপক্ষ প্রতি তিন মাসে সেন্টারটিতে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার ঔষধ সরবরাহ করছেন। সে হিসেবে প্রত্যেকের জন্য প্রতি মাসে বরাদ্দ থাকছে মাত্র ৪ টাকার ঔষধ। যদিও ‘মেডিকেল ফি’ বাবদ একজন শিক্ষার্থী প্রতি ছয়মাসে প্রায় ১১০ টাকা দিচ্ছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!