শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আতঙ্ক ‘ভূতুড়ে বিল’


নিজস্ব প্রতিবেদক,  বিশ্বনাথ:

এমনিতেই নিয়মিত লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। এর মধ্যে সিলেটের বিশ্বনাথে পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে ‘ভূতুড়ে বিল’। কখন কার নামে দুই গুণ তিন গুণ বাড়তি বিল চলে আসে রীতিমত এমন আতঙ্কে রয়েছেন গ্রাহকেরা। অনেকেই আবার ভূতুড়ে বিলের কারণে ভোগান্তি পোহানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থও হচ্ছেন। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তোলপাড়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। তবে, এতকিছুর পরও লা-জওয়াব রয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ বিশ্বনাথ জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ। তারা গ্রাহকদেরকে দিতে পারছে না কোনো সদুত্তর।

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে বিশ্বনাথ উপজেলার পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকেরা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ করে আসছেন। জানিয়ে আসছেন তাদের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থতার দিকটাও। গত ১৩ আগস্ট উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায়ও এমন অভিযোগ করেন গ্রাহকেরা। এর প্রেক্ষিতে সভায় বিদ্যুৎ বিল তৈরীতে সতর্কতা অবলম্বনসহ জনসাধারণ যাতে ভোগান্তির শিকার না হন এবং বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অসংখ্য গ্রাহক ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ তুলেন ফের। অনেকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেখা যায়, রামপাশা ইউনিয়নের পুরানগাঁও গ্রামের আব্দুর রহিমের ৪৩১০৪৭ নং মিটারে জুন মাসে বিল আসে ১২০০টাকা, জুলাই মাসে আসে ২৮০০টাকা এবং আগষ্ট মাসে বিল আসে ৩৫৬৫টাকা।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল কালাম মোহাম্মদ মনোওর আলী বলেন, আমি নিজেই ভূতুড়ে বিলে ভুক্তভোগী। গত জুলাই মাসে আমার নামের মিটারে ব্যবহৃত ৪৫০ ইউনিটে বিল আসে ২৮৬৪টাকা। আমার ছেলে দিলোয়ার হোসেনের নামের মিটারে ব্যবহৃত ২৬০ ইউনিটে বিল আসে ১৪২৬টাকা। কিন্তু আশ্চর্য্যজনকভাবে, আগস্ট মাসে আমার নামের মিটারে ব্যবহৃত ৭৭৫ ইউনিটে বিল এসেছে ৬২৯৬টাকা এবং আমার ছেলের নামের মিটারে ব্যবহৃত ৪৩৫ ইউনিটে বিল এসেছে ২৬৪০টাকা। যা জুলাই মাসের বিলের দ্বিগুণেরও বেশি।

পল্লীবিদ্যুৎ বিশ্বনাথ জোনাল অফিসের এজিএম নাজমুল হাসান বলেন, যে সকল গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, আমরা তাদের বিষয়টি সমাধান করে দিচ্ছি।

এদিকে, গতমাসের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় লোডশেডিং ও ভূতুড়ে বিলের সমস্যা সমাধানের জন্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় গতকাল বৃহষ্পতিবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রাহকেরা । এসময় গ্রাহকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিলের সমস্যা সমাধান করতে জোর দাবী তুলেন সভার বক্তারা। পাশাপাশি, একটি তদন্ত কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেয়া হয়।

প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার পল্লীবিদ্যুৎ বিশ্বনাথ জোনাল অফিসের ডিজিএমের সাথে আলোচনা করে সমস্যাটি দুর করবেন বলে জানান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!