শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ

একটি ইউনিয়ন পরিষদ ও কিছু কথা…

সারওয়ার চৌধুরী
বাংলাদেশে একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাসিক বেতন এক বছর আগেও ছিল সাড়ে তিনহাজার টাকা, বর্তমানে দশহাজার! সদস্যদের ছিল দুই হাজার বর্তমানে আটহাজার টাকা৷ উপজেলা অথবা সাধারন পৌরসভার কথা উল্লেখ না করেই বলছি সেগুলোও আহামরী কিছু নয়৷ আবার তাদের এই বেতন ভাতাও কোন স্হায়ী আয় নয়, মেয়াদের পর যদি পুনরায় নির্বিচিত হতে না পারেন তবে এই সীমিত আয় রোজগারও এখানেই শেষ৷

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন আর টাকা শব্দ দুটো যেন একে অপরের পরিপুরক! কেউ নির্বাচন করবে অথচ ব্যক্তিগত টাকা ব্যয় করবেনা, এটা খুবই অস্বাভাবিক৷ অনেকেরই শখ হয় চেয়ারম্যান মেম্বার হওয়ার, তাই তারা নির্বাচন করেন! নির্বাচিত হওয়ার আগে উনাদের দায়িত্ব কর্তব্য আর ক্ষমতা সম্পর্কে কতটুকু ধারণা রাখেন সেটা একটা বিরাট প্রশ্ন৷ তারা কি খোঁজ খবর নেন ঐ সেক্টরে বেতন কত? ভাতা সুবিধা কি কি? এগুলো পর্যালোচনা না করেই যদি কেউ নির্বাচন করে তবে বুঝতে হবে ঐ ব্যক্তি ধরেই নিয়েছেন নির্বাচনী ব্যয়টা নির্বাচিত হতে পারলে কয়েকগুন বর্ধিত হয়ে রিটার্ণ আসবে৷

একটা সহজ উত্তর, জনসেবার জন্যে নির্বাচন করা, নির্বাচিত হতে পারলে জনসেবার পথ সহজেই উন্মুক্ত হয়! উনারা কি কখনও নির্বাচনের আগে নিজের আর্থিক অবস্হান সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন? উনারা কি পরিমাপ করেন জনসেবার আগে নিজের সেবা করার জন্যে উনাদের সামর্থ কতটুকু? নিজে সামর্থবান না হলে তো সহজেই নজর যাবে জনগনের জন্যে বরাদ্ধকৃত সরকারী অনুদানের প্রতি, সুযোগ সুবিধার প্রতি৷

উন্নত দেশগুলিতে আমরা দেখি, প্রার্থী নয় বরং প্রার্থীকে মনোনয়ন দানকারী রাজনৈতিক দলগুলোই মুলত নির্বাচনী ব্যয় সংগ্রহের জন্যে তহবিল গঠন করে! সমাজের বিশিষ্ট এবং সঙ্গতি সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের দানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় নির্বাচনী ব্যয়,তাই প্রার্থীর আর্থিক অবস্হা এখানে গৌণ , যোগ্যতাটা মুখ্য৷ কিন্তু বাংলাদেশের বেলায় ভিন্ন চিত্র—- এখানে দু একটা ব্যতিক্রম ছাড়া বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে প্রার্থীকেই হতে হবে আর্থিকভাবে শক্তিশালী৷ সুতরাং যোগ্যতার চেয়েও আর্থিক অবস্হাটা মুখ্য৷

যারা চেয়ারম্যান মেম্বার হতে চান অথবা হন তারা মনে করেন জনগন তাদেরকে ভালবাসে, পছন্দ করে অথচ পরবর্তীতে উনাদের বেশীর ভাগের ভাগ্যেই জোটে চোর ডাকাতের তকমা৷ অপরদিকে আমরা যাদেরকে আত্বসাৎ আর লুটপাটের অভিযোগে অভিযুক্ত করি তারা কিন্তু আমাদের ভোটেই নির্বাচিত হন!

কারও ব্যক্তিগত খায়েশ পুরণ আর দু চারজন প্রভাবশালীর মতামতের ভিত্তিতে কাউকে প্রার্থী করা উচিত হবেনা৷ বাংলাদেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ইউনিয়ন ওয়ার্ড এমনকি পাড়া মহল্লা পর্যন্ত সক্রিয় কমিটি রয়েছে , সুতরাং নিবন্ধনকৃত তৃনমুলের সক্রিয় কর্মিদের গোপন মতামতের ভিত্তিতে যদি প্রার্থী বাছাই করা হয় তবে সহজেই যোগ্য প্রার্থী বেরিয়ে আসবেন— একইভাবে দলের তত্ত্বাবধানে তহবিল গঠনের মাধ্যমে যদি নির্বাচনী ব্যয় সংকুলান করা হয় তবে প্রার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হয়না ৷

নির্বাচনে কারও ব্যক্তিগত ব্যয় যদি প্রচুর পরিমাণে হয় এবং সেই সাথে ঐ প্রার্থীর যদি অন্যকোন শক্তিশালী আয়ের উৎস না থাকে তবে নির্বাচিত হলে সে অবশ্যই বাধ্য হবে চুরি আর লুটপাট করতে , মনযোগ থাকবে কিভাবে নিজের ব্যয়ের অংশটা লাভ সহ উঠানো যায়৷

তাই বাংলাদেশে যারা চেয়ারম্যান মেম্বার অথবা কোন জনপ্রতিনিধি হতে চান আমার দৃষ্টিতে তাদেরকে অবশ্যই আর্থিকভাবে শক্ত হতে হবে অথবা প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার গুণগত পরিবর্তন করতে হবে যেখানে ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়গুলো দলীয়ভাবে ব্যবস্হা করা হবে! আর আমরা যারা সাধারন জনগন তাদেরকেও ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেগের পরিবর্তে বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!