মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
বার্সেলোনায় বিশ্বনাথ আইডিয়েল এসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক  » «   নগরীর ধোপাদিঘী পরিষ্কারে আরিফের আধুনিক যন্ত্র  » «   নির্বাচন এলেই আমি রাজাকারের ছেলে হয়ে যাই : মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী  » «   ওসমানীনগরে মোটর সাইকেলের চাকায় শাড়ির আঁচল পেচিয়ে মহিলা ইউপি সদস্যর মৃত্যু  » «   নির্যাতনের ছক তৈরী করতেন এমপি কয়েস !  » «   ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করায় লন্ডনে বাঙালি কাউন্সিলর সাসপেন্ড  » «   গোলাপগঞ্জে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার, খাবার নিয়ে আসলেন স্ত্রী !  » «   লন্ডনে তরুণীকে অচেতন করে ধর্ষণ, দুই বাঙালি তরুণের ২৪ বছরের জেল  » «   বিয়ানীবাজারে শিমুল মুস্তাফার আবৃত্তি সন্ধ্যা ও প্রেরণা আবৃত্তি উৎসব সম্পন্ন  » «   ব্রিটেন ছাড়তে চান না বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যে কারনে…  » «  

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন প্রকৃতির অপরুপ লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন স্থান


স্বপন কুমার দেব,মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা দেশের সবচেয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত পর্যটন এলাকা বলে বিবেচিত, দেশী বিদেশীদের কাছে রয়েছে পাহাড় ঘেরা পরিবেশের আলাদা কদর। প্রকৃতি যেন এই শ্রীমঙ্গল কে সাজিয়েছেন নিজ হাতে প্রকৃতির কারুকার্যে। তাই এই ঈদের ছুটিগুলোকে স্মরণীয় করে রাখতে ঘুরে আসুন পর্যটন নগরী এবং চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে। এছাড়া রয়েছে কমলগঞ্জ,কুলাউড়া ও বড়লেখায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিভিন্ন চা বাগান, জল প্রপাত, আদিবাসী পল্লী। শ্রীমঙ্গলের আর্কষণীয় স্থানগুলো হচ্ছে-

চা বাগান: চা বাগান মানেই সবুজের অবারিত সৌন্দর্য। পূরো শ্রীমঙ্গল শহরটা ঘিরে রয়েছে শুধু চায়ের বাগান। শ্রীমঙ্গল নাম শুনলেই প্রথমেই স্মরণ হবে চা বাগানের কথা। এ দেশে চায়ের রাজধানী’র কথা বললেই প্রথমে মনে পড়বে শ্রীমঙ্গলের নাম। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে যে কোন সড়ক ধরে হাটাপথ দুরত্বে পৌছা মাত্র চোখে পড়বে মাইলের পর মাইল পাহাড় ঘেরা চা বাগান। সবুজের মেলা চা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে অতি অবশ্যই বাগান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। ইচ্ছে করলে কর্তৃপর্ক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এসব চা বাগানের চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় প্রবেশ করে কাচাঁ চা পাতা থেকে চা তৈরীর প্রক্রিয়াও দেখা যেতে পারেন।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান : ছোট্ট শহর শ্রীমঙ্গল। দৃষ্টিজুড়ে সবুজ, উটের পিঠের মতো টিলা আর মনোরম চা বাগান- কোন স্থান ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে মেলে ধরবার জন্য যথেষ্ট। আরও যা রয়েছে তা হচ্ছে লাউয়াছড়া বন যা এক কথায় অনবদ্য। রেইন ফরেষ্ট হিসেবে খ্যাত এই বনে রয়েছে হরেক প্রজাতির বন্যপ্রাণী আর বৃক্ষাদি। রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির বৃক্ষরাজি। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। শ্রীমঙ্গল হতে মাত্র ১০ কিঃমিঃ আর ঢাকা থেকে ১৯৬ কিঃমিঃ। এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর। মোট ১৬টি উল্লুক পরিবার হাজারো পর্যটকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভারত, চায়না, মায়ানমার এবং বাংলাদেশসহ ৪টি দেশে ওদের প্রজাতি সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গা ঘেষা রয়েছে ৩টি আদিবাসী পললী। ( মাগুরছড়াও লাউয়াছড়া) ও ১টি ত্রিপুরাদের পাড়া। আদিবাসীদের জীবনযাত্রা সাধারণত পাহাড়ী কৃষ্টি কালচারের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠে যা সাধারনের থেকে অনেক আলাদা। আদিবাসিদের জীবনযাত্রা, কৃষ্টি, ঐতিহ্য ইত্যাদি দেখাও পর্যটকদের জন্য বাড়তি পাওনা।

বিটিআরআই : বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিটিআরআই) পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষনীয় স্থান। দেশের চা শিল্পের উন্নয়নে কাজ করছে এ প্রতিষ্ঠানটি। বিটিআরআই কমপ্লেক্স-এর সামনে অপরূপ ফুলকুঞ্জ, শত বছরের চা গাছ, চা পরীক্ষাগার, চারদিকে চা বাগান, চা নার্সারী, চা ফ্যাক্টরী, অফিসার্স ক্লাব ভবনের পেছনে অবস্থিত চোখ ধাঁধানো লেক, রোবাস্টা কফি গাছ, নানা জাতের অর্কিডসহ ভেষজ বাগান আপনার মনকে চাঙ্গা করবেই। কতৃপর্ক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে আপনি ঘুরে দেখতে পারেন বিটিআরআই’র পুরো ক্যাম্পাস। প্রতিদিন বিকেলে ও সরকারি ছুটির দিনে পর্যটকদের ঢল নামে বিটিআরআই-তে।

বধ্যভূমি ৭১: শ্রীমঙ্গলের ‘বধ্যভূমি ৭১’ আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত বধ্যভূমিতে ২০১০ সালে স্মৃতিস্তম্ব নির্মাণের পর দর্শনার্থীরা এখানে উপচেপড়ে। এছাড়াও প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসেন বধ্যভূমি দেখতে। শ্রীমঙ্গলে শহরের ভানুগাছ সড়কে বিজিবি’র সেক্টর হেড কোর্য়াটার সংলগ্ন বটকুঞ্জের নিচ দিয়ে প্রবাহিত ভুরভুরিয়া ছড়ার পাশে এর অবস্থান। সম্প্রতি এখানে পর্যটকদের সুবিধার্থে নির্মিত হয়েছে ‘সীমান্ত ৭১ ফ্রেশ কর্নার’সহ মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘মৃত্যুঞ্জয়ী ৭১’। ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধনের পর দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিস্তম্ব ও একাত্তরের স্মৃতি বিজরিত বধ্যভূমিটি দেখতে মানুষ আসতে থাকেন এখানে। বর্তমানে এ স্থানটি এখন আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

হাম হাম জলপ্রপাত: মৌলভীবাজারের মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের চেয়ে তিনগুণ বড় হামহাম জলপ্রপাতটি। কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা বনা লের ভারতীয় সীমান্তে গহীণ অরণ্যের হামহাম জলপ্রপাতটির সংবাদ সম্প্রতি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হলে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়। পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে ১৬০ ফুট উচ্চতা থেকে প্রবাহিত হামহাম জলপ্রপাত।হাম হামে।

নীলকন্ঠ চা কেবিন: একই গ্লাসে সাত স্তরে সাত রঙের চায়ের কথা অনেকেরেই জানা। এ চা জিভে জলের বদলে বিস্ময় জাগায় বেশি। শৈল্পিক ও আকর্ষণীয় এ চায়ের নামডাক অনেক আগেই বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়েগেছে। শ্রীমঙ্গলে যারা বেড়াতে আসেন তারা সাত রঙা চায়ের স্বাদ নিতে ভুলেন না। রমেশ রাম গৌড় (৪২) প্রায় ১২ বছর ধরে সপ্তবর্ণের এ চা বানিয়ে যাচ্ছেন। তার দুইটি দোকান রয়েছে- শ্রীমঙ্গলের মণিপুরী অধ্যুষিত রামনগর ও কালিঘাট রোডের ১৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ক্যান্টিনে। তার দোকান দুটির নাম নীলকন্ঠ কেবিন। তিনি ক্লোন টি ও বিভিন্ন ধরনের মসলার সংমিশ্রণে এ চা তৈরি করেন নীলকণ্ঠ কেবিনে।
বাইক্কা বিল: হাইল হাওরে অবস্থিত সংরতি মৎস্য অভয়াশ্রম ‘বাইক্কা বিল’। ইউএস আইডি’র র অর্থায়নে মাচ প্রকল্পের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে মৎস্য ও পাখির অভয়াশ্রম। অপরূপ সৌন্দর্য্যমন্ডিত এ বিল এখন আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে। নয়নাভিরাম জলাভূমিতে হাজারও শাপলা আর পদ্মফুল ফুঁটে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!