মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
বার্সেলোনায় বিশ্বনাথ আইডিয়েল এসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক  » «   নগরীর ধোপাদিঘী পরিষ্কারে আরিফের আধুনিক যন্ত্র  » «   নির্বাচন এলেই আমি রাজাকারের ছেলে হয়ে যাই : মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী  » «   ওসমানীনগরে মোটর সাইকেলের চাকায় শাড়ির আঁচল পেচিয়ে মহিলা ইউপি সদস্যর মৃত্যু  » «   নির্যাতনের ছক তৈরী করতেন এমপি কয়েস !  » «   ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করায় লন্ডনে বাঙালি কাউন্সিলর সাসপেন্ড  » «   গোলাপগঞ্জে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার, খাবার নিয়ে আসলেন স্ত্রী !  » «   লন্ডনে তরুণীকে অচেতন করে ধর্ষণ, দুই বাঙালি তরুণের ২৪ বছরের জেল  » «   বিয়ানীবাজারে শিমুল মুস্তাফার আবৃত্তি সন্ধ্যা ও প্রেরণা আবৃত্তি উৎসব সম্পন্ন  » «   ব্রিটেন ছাড়তে চান না বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যে কারনে…  » «  

সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ধর্ষণ, ব্যর্থ তদন্ত কমিটি

সুরমা নিউজ:
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক কর্তৃক রোগীর স্বজন এক কিশোরী ধর্ষণের এক মাস পার হলেও এখনো তদন্তই শেষ করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। তদন্তের স্বার্থে দুই দফা সময় নিয়েও এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে ব্যর্থতার মাঝেই ঘোরপাক খাচ্ছেন তারা।

তদন্ত কমিটির ব্যর্থতার পাশাপাশি পুলিশের তদন্ত টিমও বসে আছে ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায়। এ অবস্থায় ঘটনার এক মাস পরও পুরো বিষয়টি শূন্যে ঝুলে আছে।

তবে ব্যর্থতার দায় নিতে নারাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, অভিযুক্ত এবং ভিক্টিমের বক্তব্য গ্রহণে মহানগর আদালতের মুখ্য হাকিমের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বক্তব্য গ্রহণ হলেই তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। আর পুলিশ বলছে ফরেনসিক রিপোর্ট ছাড়া মামলার অগ্রগতি কোনোভাবে সম্ভব না।

গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে অসুস্থ নানির সাথে ওসমানী হাসপাতালের তৃতীয় তলার ৮নং ওয়ার্ডে ছিলো ওই কিশোরী। গভীর রাতে ফাইল দেখার কথা বলে ওই কিশোরীকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন নাক-কান-গলা বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক মাকামে মাহমুদ মাহী। পরদিন সকালে কিশোরী তার স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে কিশোরীর স্বজনরা বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে কর্তৃপক্ষ মাহীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, এ ঘটনার পর ওই দিন ১৬ জুলাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্তে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এন.কে সিনহাকে সভাপতি এবং হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. দেবপদ রায়, গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামিলা খাতুন, আরএস ক্যাজুয়ালটি ডা. শ্যামল চন্দ্র বর্মণ এবং সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী জান-ই আলমকে সদস্য করে মোট পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করেন। একই সাথে এ কমিটিকে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

কিন্তু তদন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে না পারায় গত ২৩ জুলাই পরিচালক বরাবর লিখিত চিঠি দিয়ে আরো ১৫ দিনের সময় চায় কমিটি। পরে পরিচালক তাদের সময় দিলেও এখনো তারা চূড়ান্তভাবে কোন প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। ফলে এখনো তদন্তের মাঝেই আটকে আছে তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত। সেই সাথে ধর্ষণের অভিযুক্ত ইন্টার্ন ডাক্তারের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপও নিতে পারেনি মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. দেবপদ রায় বলেন, তদন্ত কমিটি ওই ওয়ার্ডে ঘটনার সময়ে কর্মরত সকলের বক্তব্য গ্রহণ করেছে। একই সাথে সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখেছে। তবে কমিটি অভিযুক্ত মাকামে মাহমুদ এবং ভিক্টিম কিশোরীর বক্তব্য শোনার প্রয়োজন মনে করায় গত ২৯ জুলাই হাসপাতালের পরিচালক বরাবর একটি চিঠি লিখেন। হাসপাতালের পরিচালক তদন্ত কমিটির এ চিঠি পাওয়ার পর গত ৮ আগস্ট মহানগর আদালতের মুখ্য হাকিম বরাবর তাদের বক্তব্য গ্রহণের অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন পাঠিয়েছেন। কিন্তু মহানগর আদালতের মুখ্য হাকিম এ ব্যাপারে এখনো কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় বর্তমানে এটি এরকম অবস্থায়ই আটকে আছে।

উপ-পরিচালক আরো বলেন, পরিচালক দেশের বাইরে থাকায় এ ব্যাপারে আর কোন যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি। উনি দেশে আসলে এ ব্যাপারে মহানগর আদালতের মুখ্য হাকিম বরাবর আবার আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এ ঘটনার পরপর ১৬ জুলাই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মাহীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় সকল সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং মেডিকেলের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেলেও কেবল ফরেনসিক রিপোর্টের কারণে আটকে আছে মামলার চার্জশিট। ফলে ঘটনার এক মাস পার হলেও রিপোর্ট জটিলতায় এ মামলায় অগ্রগতি হচ্ছে না। সেই সাথে রিপোর্ট পেতে আরো ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আকবর হোসেন ভুঁইয়া।

ফরেনসিক রিপোর্ট পেলেই মামলার চার্জশিট গঠন করা হবে জানিয়ে আকবর হোসেন ভুঁইয়া বলেন, তদন্ত করে এবং হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন শুধু অপেক্ষা ফরেনসিক রির্পোটের। এ রিপোর্ট পেলেই চার্জশিট গঠন করা হবে।

ফরেনসিক রিপোর্ট পেতে আর কতো দিন সময় লাগতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগে। যেহেতু ঘটনার এক মাস চলে গেছে তাই আর ২ মাসের ভিতর রিপোর্ট পাওয়ার কথা। এছাড়া ভিক্টিম কিশোরী তার বাবা মায়ের কাছে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন এবং অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক মাকামে মাহমুদ মাহী কারাগারে আছেন বলে জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!