শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ

কাঁঠালচাঁপার আর্তনাদে হারিয়ে যাওয়া প্রহর (৯ম খণ্ড)

জাকির মোহাম্মদ:
এভাবেইতো সময় গড়িয়ে দুপুর আসে বারবার। আসে জন্মদিন, আসে বিবাহ দিন। আসে জীবনের নানা অনুসঙ্গকে বুকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার দিন। সেরকম একটি দিনের তালিকায় যোগ হয়েছিলো অনুর বিয়ে। ফেরদৌসির বান্ধবী অনু। খুব কাছের বান্ধবী। আর স্কুল, কলেজ জীবনের নানা খুঁনসুটি এখানে নোঙ্গড় গেড়েছে নিজেদের নিয়মে। সে নিয়ে পরম আত্মজ আনন্দ আর বেঁচে থাকার নানামাত্রিক স্বপ্ন একে অন্যকে নিজের করেছিলো। অনু দেখতে কোরিয়ান মানুষের মতো-সুন্দরী, বেটে, কিন্তু নাক বোঁচা। এ নিয়ে অসম্ভব ক্ষ্যাপাতাম আমি। সেও কি কম গেছে। নারকেল গাছ বলে তিনহাত দিয়েছে আমায়। একবার দেখা হয়েছিলো বিয়ের আগে অনুর সাথে। আহারে! সে কি আহ্লাদ। বান্ধবীর বিয়ে খাবার বায়নার সেসব কথা আজ বৃষ্টিভেজা মরা কলাপাতার মতো জঙ্গলে পড়ে আছে মনে হয়। অনু হয়তো জানে আজ ফেরদৌসির সাথে আগের মতো কোন যোগাযোগ নাই। শুধু আগের মতো কেন?
কোন ভাবেই তো যোগাযোগ হচ্ছে না। এক পক্ষ যোগাযোগ রাখতে না চাইলে আরেক পক্ষ জীবনেও রক্ষা করা সম্ভব না। আর সম্পর্কের পর্যায় যদি হয় শুধুমাত্র দেখাদেখি আর মোবাইল মাধ্যম সেক্ষেত্রেতো সম্ভাবনা জিরো টলারেন্স। এই অবস্থায় ও মনের বারান্দা জোড়ে ফেরদৌসির যে আনাগোনা তার পরিমাপ কি আবহাওয়াবিদরা দিতে পারেন? না পারবে অনু?
জানা সম্ভব অনেক কিছু, ভেতরের রক্তক্ষরণের দায় নিতে পারে কে? কেবা নেবেই?
বকুল আর আমি অনুর বিয়েতে যাবার জন্য ট্রেন ধরলাম। ট্রেন ছুটে চলছে তার গন্তব্যে, আমরা এক অপার আনন্দের ভেতর হারিয়ে যেতে যেতে সেন্টারে গিয়ে উপস্থিত হলাম। চারদিকে তাকিয়ে দেখি অনু খুব স্বলাজ হাসিতে ব্যাকুল হয়ে চেয়ে আছে আমাদের দিকে। বকুল বিনম্র ইশারায় জানতে চায় কাছে যাওয়া যাবে কি না? অনুর ছোটবোন আসে আমাদের কাছে। সালাম আর প্রাথমিক শুভেচ্ছা বিনীময়ের পর অনুর ডাক এসেছে জানায়। আমরা কাছে যাই। অভিনন্দন জানাই। সকল বিবাহিত দম্পতিদের নির্দিষ্ট কোডে আমরা এই অভিনন্দন জানাতাম। আগেও এরকম আয়োজনে অনেকে হকচকিয়ে গেছেন আজ অনুও। আমরা হাসছি। তখন অনুর বান্ধবী ফেরদৌসি আমাদের হাসির সাথে তাল মিলাতে আসে। আমরা এখানেও পরিচিতির মাত্রা বাড়িয়ে দেই। হাত সামনে প্রসারিত করি। যেন আজই প্রথম পরিচয়-ওগো তোমার সাথে প্রথম দেখা।
না না আসলে তা নয়। আমাদের সাক্ষাতকারের সময়টুকু আরেকটু স্মরনীয় করে রাখতেই আজকের আসা। অনুর জামাই মধ্যপ্রাচ্য ফেরত আসামি। আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম সে হয়তো আবার মধ্যপ্রাচ্যেই তিতু হবে। অরে বাপরে! ফেরদৌসির বান্ধবীর ছোঁয়া পেয়ে বেছাড়া আর প্রবাসের নাম মুখে নেয়নি। যার ফলে অনুর পড়ার টেবিল থেকে বেড়ে গেলো বড় দুরত্ব। আর রাত্রের জীবন আসরে জমে উটলো প্রেমের অবগাহন। সে প্রেম এমন যে অনু অনেকটা বিরক্ত নিয়ে এক সময় আমাদের কাছেও নানা অনুযোগ করেছে। এ জীবন সইবার ভার তারে কেমনে কে দিয়েছে? ফেরদৌসি সেখানে পরম মমতায় হাত বুলিয়েছে চিন্তা আর মননে। কখনো হয়তো আমিও ছিলাম। আজকের এই বর্ষার বাদল সন্ধ্যায় বারবার কোন এক দুঃখভেজা রাতের কথা মনে পড়ছে?
অনুর কী মনে পড়ে সে সব দিন? ফেরদৌসির মনে পড়ে না আর অনু?
ফেরদৌসির কর্মক্ষেত্র আর অনুর পরিবারের বাসা একই শহরে। সুতরাং সকল বিপদে আপদে অনু যে ভরসা করবে ফেরদৌসিকে এটা জানা কথা। সে কথার রঙ চামড়া বেড়ে যায় কাসেম যখন অনুর বিষয়ে ফেরদৌসিকে বলতে শুরু করে। অনুকে সামাল দেবার দায়িত্ব ফেরদৌসি নিতে পারলেও কোন এক অজানা আশংকার ভেতর হারিয়ে কোন জবাব দিতে পারে না কাশেমের কথার। কিইবা করতে পারে ফেরদৌসি?
রাত্রির চাহিদার কাছে যে জীবন উচ্ছল, কোন এক জীবন নে চাহিদার কাছে মাঝে মাঝে ম্লান হতেই পারে। হওয়াটা স্বাভাবিক। আমাদের পারিবারিক কিছু শাসন আছে যার বাইরে বেরোনু যায় না কখনো। ঠিক সে কারণে- কখনো অনুরা অসুখি হয় রাত্রির চাহিদার কাছে আবার কখনোবা অন্যকোন পীড়িত জন খাদ্য পায় না এই রাত্রির কাছেই। জীবনের এই জটিল সমীকরণ কখন কোনদিকে মোড় নেয় সে হিসেবের ধারা আমার জানার বাইরে। আর জেনেই কতটুকু শান্তি পাওয়া যায়। যে ঝিঁঝিঁ রাতে ডাকে,যে ব্যাঙ ডাক দেয় বৃষ্টির সে ঝিঁঝিঁ কখনো ডাকবেনা সন্ধ্যার কোলাহলে। সে ব্যাঙ ধরবে না সুর শীতের কোন কুয়াশাভেজা রাতে।

চলবে….

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
56Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!