শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মেয়র, একটি লাশ এবং কিছু প্রশ্ন…

ইকবাল মাহমুদ:
আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে তার দলের সবচেয়ে বড় অভিযোগ তিনি দলকে পাত্তা দেন না। ছাত্রদল, যুবদলকে গুরুত্ব দেন না। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন ৫ জন। তাঁরা সমস্বরে হাইকমান্ডকে বলেছেন আরিফ বিএনপির নন, দলের নেতা-কর্মীদের তিনি মূল্যায়ন করেন না।

বিএনপি নেতাদের এ অভিযোগ অনেকাংশেই সত্য। ২০১৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আরিফ দলীয় বৃত্তের অনেকটাই উর্ধে ওঠে যান। বিএনপির আরিফ হয়ে ওঠেন জনগণের। নগরসেবার প্রয়োজনে তিনি বহু ইস্যুতে নাগরিক ঐক্যমত প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন। নাগরিক ও সুশীল সমাজের বহু লোক বিএনপির রাজনীতিকে পছন্দ করেন না, কিন্তু আরিফের কাজ পছন্দ করেন, তাকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন দল-মতের উর্ধে ওঠে। কাজের জন্য সরকারের বহু কর্তাব্যাক্তিও আরিফকে পছন্দ করেন, পিঠ চাপড়ান, সহযোগিতা করেন।

                  ইকবাল মাহমুদ

নগর ভবনে ছাত্রদল, যুবদলকে ঘেঁসতে দেননি আরিফ। রাজনীতির বাইরে রেখেছেন নগরসেবার এ প্রতিষ্ঠানকে। যে কারণে ঠিকাদারী, টেন্ডারবাজি, তদবিরবাজিসহ নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বিএনপি, ছাত্রদলের বাঘা, বাঘা সিন্ডিকেট। দলের ভেতরে তাঁর বিরুদ্ধে এ নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই দানা বাঁধে। নির্বাচনের আগে এই সমস্ত ক্ষোভ, অসন্তোষের বিস্ফোরণ ঘটা শুরু হয়। সব মনোনয়ন প্রত্যাশী জোট বেঁধে বলেছিলেন ‘অন্য যে কাউকে দিয়ে দিন; তবুও আরিফকে নয়’। রাজনীতির ম্যাজিকম্যান আরিফ সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ ঠান্ডা মাথায় মোকাবেলা করেছেন। দলের মনোনয়ন, নির্বাচন এবং বিজয় সবই হয়েছে তাঁর। কিন্তু নির্বাচনের প্রয়োজনে বিএনপি জড়িয়েছে, ছাত্রদল ভিড়েছে। ছাত্রদলের এই কাছে ভিড়ার খেসারত দেয়া শুরু হলো আরিফের। একটা লাশ দিয়ে শুরু। কি আছে ভবিষ্যতে, কে জানে? তবে, বিগত মেয়াদে বিএনপি, ছাত্রদলকে নগর প্রশাসনের ত্রি সীমানার বাইরে রাখায় যারা আরিফের সমালোচনায় মুখর ছিলেন তাদের জন্য এ হত্যাকান্ড একটি আত্মোপলব্ধির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। জাতির বিবেকের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন আজ খুবই প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • ১. মেয়র আরিফ কি দলের না জনগণের হবেন?
    ২. নগর ভবনকে দলের প্রভাব বলয়ের উর্ধে রাখার তাঁর অতীতের দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক, না ভুল ছিলো?
    ৩. জনগণের বিপুল আস্থার প্রতীক আরিফুল হক তথাকথিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দলের জন্য অলংকার বৃদ্ধিতে সময় ব্যায় করবেন, নাকি নগর উন্নয়নে নতুন নতুন ডায়নামিকস কর্ম ও পরিকল্পনায় ব্যস্ত থাকবেন।

আমি জানি, বিএনপির নেতাকর্মীরা চাইবেন তিনি একটা ভারসাম্য বজায় রেখে চলুন। কিন্তু এই ভারসাম্যের প্রয়োজনে কতটা ছাড় দিতে হবে আরিফকে, সেটা নির্ধারিত হওয়া আজ খুবই জরুরী।প্রতিশ্রুত ‘নতুন সিলেট’ বিনির্মাণে আরিফুলকে কতটা সিলেটবান্ধব আর কতটা দলবান্ধব দেখতে চান নাগরিক সমাজ?

সূত্র: একাত্তর টিভির সিলেট ব্যুরো  প্রধান ইকবাল মাহমুদ’র ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!