শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যে কারণে খুন হন ছাত্রদল নেতা রাজু …

সুরমা নিউজ:
সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ প্রচার সম্পাদক ফয়জুল হক রাজুর নিহত হবার ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বকে দায়ী করছেন সিলেট বিএনপির নেতারা। তবে কমিটি নিয়ে কোন্দলই একমাত্র কারণ হিসেবে মানতে নারাজ রাজুর বন্ধুরা।

মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল হোসেন আজিজ বলেন, ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পর একটি গ্রুপ সেটা মেনে নেয় নি সত্য। তা নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিদ্রোহীদের নিয়ে বসে ৩০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন।

আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কথা মতো নির্বাচনে আরিফ ভাইয়ের পক্ষে কাজ করেছি। নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর আরিফ ভাইকে বাসায় পৌঁছে ফেরার পথে হামলার শিকার হয় রাজুসহ ৩ জন। এটা পুর্ব পরিকল্পিত ছিলো। তারা আগে থেকেই ওঁত পেতে ছিলো।

আজিজ আরো বলেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা রকিব নিজে এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সাথে নয়ন, সাগর, এনাম, মোস্তাফিজ, ফরহাদ, জাবেদ, পান্না, মোর্শেদ, সাহেদসহ মুক্তাদির গ্রুপের ৩০ থেকে ৩৫ জন ছিলো। এরা সবাই রামদা, স্ট্যাম্পসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি কয়েকজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রও ছিলো। হামলা শেষে ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।

রাজু হত্যার কারণ হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাইরে বাকবিণ্ডার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩০ তারিখ সন্ধ্যায় নির্বাচন অফিসের সামনে রাজুর সাথে রকিব গ্রুপের কর্মীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। ৯ তারিখে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাসায় রকিবের নেতৃত্বে একটি গোপন বৈঠক হয় বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, এই বৈঠকেই রাজুর উপর হামলার ছক কষে তারা।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে গত (৯ জুলাই) ছাত্রদলের পদবঞ্চিত কর্মীদের দ্বারা নগরীর রোজ ভিউ হোটেলে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী আরিফুল হকের সমর্থনে ডাকা সংবাদ সম্মেলন পণ্ড করে দেয়ার বিষয়টি তুলে আনেন মহানগর ছাত্রদলের পদত্যাগী সহ সভাপতি মাশরুর রাসেল। তিনি বলেন- ওই দিন তারা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে লাঞ্চিত করেন। সে সময় পদবঞ্চিত কর্মীদের নেতৃত্বে ছিলেন রাজু। তারই প্রতিশোধ হিসেবে খন্দকার মুক্তাদিরের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে মনে করেন তিনি।

মাশরুর রাসেল জানান, খন্দকার মুক্তাদির সেই ঘটনার জের ধরেই রাজুর উপর হামলা করিয়েছেন এবং এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রকিব চৌধুরী। রাজু হত্যার বিচার চেয়ে পাঁচদিনের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে সিলেট ছাত্রদলের পদবঞ্চিত বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

সিলেট মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সালেহ আহমদ খসরু এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বলেন, আমি একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ক্ষুব্ধ। বিএনপির ভেতরে থাকা দালালরা যারা আরিফুল হকের বিজয় চায় নি তারাই বিএনপিকে বিতর্কিত করতে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমরা অবিলম্বে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে রাজুর মৃত্যুর ঘটনা শুনেই হাসপাতালে ছুটে যান মেয়র আরিফুল হক। তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি তাঁর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

এ সময় আরিফুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধী যেই হোক আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। তিনি আরো বলেন, তাঁর বিজয়কে বিতর্কিত করতেই কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ দিকে রোববার (১২আগস্ট নিহত) ছাত্রদল নেতা ফয়জুল হক রাজুর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিকেল ৩ টায় উপশহর এ-ব্লক জামে মসজিদে জানাজার নামাজ শেষে দাফনের জন্য লাশ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে এখনো মামলা দায়ের হয়নি বা জড়িত কাউকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, এখনো এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, শনিবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত সদ্য নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হকের বাসা থেকে ফেরার পথে ছাত্রদলের দুগ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদলকর্মী ফয়জুল হক রাজু নিহত হন। এ সময় সংঘর্ষে আহত হন আরো ২ জন।

নিহত ফয়জুল হক রাজু গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার শাহপুর গ্রামে। সিলেটের উপশহরে চাচার বাসায় থেকে লেখাপড়া করতো সে। রাজু সিলেট ল’কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
1.9kShare on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!