মঙ্গলবার, ২১ আগষ্ট, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ফোন ধরেন না পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা!

অসহনীয় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে নাকাল জনজীবন

শিপন আহমদ:
বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলায় অসহনীয় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে নাকাল জনজীবন। বিগত এক মাসের অধিক সময় ধরে দুই উপজেলার অধিকাংশ এলাকার কয়েক হাজার গ্রাহক নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অব্যাহত বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে খোদ বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মকর্তারাও ক্ষুব্ধ রয়েছেন। কেন এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট-এ বিষয়ে কথা বলার জন্য গত সোমবার রাতে পল্লী বিদ্যুতের কাশিকাপনস্থ বালাগঞ্জ জোনাল অফিসের অধীনে কর্মরত জনৈক্য এক কর্মকর্তার মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন-প্রাকৃতিক দূর্যোগ ব্যতিত একটা নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুতের লোডশেডিং করার কথা রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় না মেনে ঘন্টার পর ঘন্টা গ্রাহকদেরকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে। লোডশেডিং করা হলে গ্রাহকরা তেমন একটা ফোন দেয়না; কিন্তু কারণে-অকারণে বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের ফোন রিসিভ করতে-করতে আমাকেও হিমশিম খেতে হয়। গ্রাহকদের স্বার্থে এবিষয়গুলো পত্রিকায় লেখার অনুরোধ করেন ওই কর্মকর্তা।

দুই উপজেলার ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগ- রমজান মাস শুরুর পর সন্ধ্যার পূর্ব মুহুর্ত থেকে পরদিন সকাল ৮ থেকে ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিপর্যয় অব্যাহত থাকে। ১৪-১৫ ঘন্টার দীর্ঘ এই সময়ে গ্রাহকরা তিন ঘন্টাও বিদ্যুৎ সুবিধা পাননা। ফলে জৈষ্ট্যের এই তীব্র দাবদাহের মধ্যে ইফতার, তারাবীহ ও সেহরীতে মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র আওতাধীন কাশিকাপনস্থ বালাগঞ্জ জোনাল অফিস, বালাগঞ্জ সদরস্থ এরিয়া অফিস, মাদরাসা বাজার অভিযোগ কেন্দ্র, ওসমানীনগরের সাদিপুর অভিযোগ কেন্দ্র, উমরপুর অভিযোগ কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের চলমান এই বিপর্যয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো থেকে কাঙ্কিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ওঠেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট এসব অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অফিসিয়াল মোবাইল নাম্বারে কল দিলে সেবা পাওয়া তো দূরের কথা বরং উল্টো তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও হেনস্থার শিকার হতে হয়।

গ্রাহকরা জানান-ওসমানীনগরের উমরপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া, হামতনপুর, সিকন্দরপুর, কামালপুর, মাধবপুর, হাবসপুর, মজলিসপুর, মান্দারুকা, আব্দুল্লাপুর, মামনপুর, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের নিজ করনসী, জায়ফরপুর, জহিরপুর, তেরহাতী, নোয়ারাই, ভেরুখলা, ভাগলপুর, সাদিপুর ইউনিয়নের মোবারকপুর, লামা গাভুরঠিকি, হলিমপুর, গাভুরঠিকি, ইব্রাহীমপুর, মঙ্গলপুর, তাজপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া, চরইসবপুর, আইলাকান্দি, ভাড়েরা, সৎপুর, নাগেরকোণা, উছমানপুর ইউনিয়নের পাঁচপাড়া, রাউৎখাই, তাহিরপুর, উছমানপুরপুর, পড়িয়ারখাই, মির্জাপুর, লামাপাড়া, বেড়াখাল, রাঙ্গাপুর, আলীপুর, কবুলপুর, ধনপুরসহ বুরুঙ্গা ইউনিয়ন, দয়ামীর ইউনিয়ন ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের গ্রাহকরা বিদ্যুৎ যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। এছাড়া বালাগঞ্জের দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন, বোয়ালজুড় ইউনিয়ন, পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন ও পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে ক্রমাগত লোডশেডিংয়ে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ-একদিকে গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আর অপরদিকে কয়েক দফা বিদ্যুতের মূল্য (ইউনিট) বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলা সত্ত্বেও গ্রাহকদেরকে প্রতি মাসে ভূতুড়ে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়া বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় দুই উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ওসমানীনগরের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান, আপ্তাব আলী, উমরপুরের ডা: সুমন সূত্রধর, দয়ামীরের আবু নাসির, তানবীর ওসমানী, বালাগঞ্জের ব্যবসায়ী শিশির দেব, কৃপেষ রঞ্জনসহ অনেকেই সুরমানিউজকে বলেন- বিদ্যুতের এই লুকোচুরি খেলায় প্রতিদিন সরকারী ও বেসরকারী সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়েও মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি চালনায়ও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যুতের এমন লুকোচুরি খেলায় প্রশাসনিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। রাতের বেলায় অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকাগুলো অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকায় বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গ্রামাঞ্চলে চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুতের সমস্যার কারণে অনেক এলাকার মসজিদের মাইকে আজান দিতে এবং পানির অভাবে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে বিঘ্নতা ঘটছে।

ওসমানীনগরে জহিরপুর গ্রামের ফয়সল আহমদ, করনসী গ্রামের মুনির আহমদ, মোল্লাপাড়া গ্রামের বাবুল মিয়া, তাজপুর এলাকার মোল্লাপাড়া এলাকার রাসেল আহমদ, উছমানপুরের আকিক আহমদ, বালাগঞ্জের রাজাপুর গ্রামের সিরাজ খালিছাদার, সারশপুর গ্রামের ছদরুল হাসান নবীনসহ একাধিক গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সুরমানিউজকে বলেন- বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরে বিদুৎ সেবার নামে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

পবিত্র রমজান মাস শুরু পর থেকে বিদ্যুতের এই লুকোচুরি খেলা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে রাখা যেনো রমজান মাসের নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। এনিয়ে গ্রাহকরা ডিজিএম থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট সমস্যার কথা জানানো তো দূরের কথা তারা ফোনই রিসিভি করেন না। কোনো কোনো সময় ফোন রিসিভ হলে কিংবা গ্রাহকরা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে গ্রাহকরা হেনস্থার শিকার হন।

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র জেনারেল ম্যানেজার মাহবুবুল আলম সুরমানিউজকে বলেন, সিলেট কুমারগাঁও গ্রীডে সমস্যা হওয়ার কারণে কোথাও-কোথাও আধা ঘন্টা বা এক ঘন্টা বিদ্যুৎ সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটছে। ৮ জুনের মধ্যে তা সমাধান হয়ে যাবে। তবে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকার বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন- এখন আর আগের মত লোডশেডিং নেই। আর সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি গ্রাহকদের ফোন রিসিভ না করেন বা গ্রাহকদের সাথে অশালীন আচরণ করে থাকেন তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!