শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিলাতি কন্যার বিয়ে… (শেষ পর্ব)

ফুজেল আহমেদ:
পলাশ (ভাতিজা ): স্লামালিকুম ইসলাম ভাই .বিয়ান সাবালা আকতা কিতা মনে করিয়া আমরার বাড়িতে .পথ বেরা লাগিয়া না কিতা …
ঘটক : না রে .হুনলাম তর লন্ডনী চাচা দেশো আইছইন পুড়ি বিয়া দিতা করিয়া .

পলাশ : ওয় ভুল হুনছো না .তবে আইজ না কাইল আইরা .রাতে আনতে যাইমু সিলেটে …

ঘটক : তে তুই নু হুনলাম লন্ডনে গেছলে…
তে আইল্লে খেনে …

পলাশ : ভিসার টাইম আছিল না ইসলাম ভাই .আর হিনোর মানুষের কস্ট দেখিয়া চিন্তা করলাম ই মেনত দেশে করি না খেনে …
আর ভাগিয়া রইলে বুলে চাচার পাসপোর্ট এ কালা দাগ পড়ি যাইবো .চাচিয়ে কইলা তাইন -তাইন সরকার থাকি প্রবলেমে পড়ি যাইবা .অউ সবতা চিন্তা করিয়া আইল্লাম …

ঘটক : অউ এক কথা অইলো নি .গাউর কত ফুয়াইন ইন লিগ্যাল বিলাত আছইন …
এখন পুড়িন ও আছইন …

পলাশ : কথা ঠিক তবে ঘরে বেংগা লাগাইয়া থাকতে ছাই নাই .আর লন্ডনে কসাইয়ের কাজ করিয়া দেশে আইয়া প্রাডো জীপ লইয়া যে তাফালিং মারোইন আমরার বিলাতি হখলে তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস ই হইতো না …
আর স্টুডেন্ট ভিসা আর ওয়ার্ক পার্মিটে আমরার পুয়াইন লন্ডনে যাওয়ায় এখন হাণ্ডির খবরাখবর সবে জানে .এর লাগি পুড়িন -পুয়াইন লইয়া এখন দেশে আইয়া আগের মতো বিয়া দিতে না পারিয়া ফিরত নিয়া যাইন.আমার চাচিয়ে এইবার ও মনে হর ফিরত যাইবা হা হা …

ঘটক: ইবার হাতে এক পাত্র আছে উকিল .সবদিক দিয়া ফিট .অই যাইবো মনে হয় .দেখি কাইল বিয়ানে আইমু …

পলাশ : অকে ইসলাম ভাই .স্লামালিকুম .

পরের দিন:
ঘটক : লন্ডনী সাব উঠছইন নি …

পাত্রীর বাবা : ওয় বা ইসলাম ব্যাটা .আইছো নি …
চা খাও .তোমার লগে মাতিয়ার .পুড়ির মায়ে ও কইবা সবতা .

ঘটক: পাত্র উকালতী পাস করছে .এখনো পড়ের আর ব্যবসা ও আছে …

পাত্রীর বাবা : অকে গুড .কাইল দেখা করাও .

ঘটক : আইচ্ছা .তে আইজ উঠলাম .

পরের দিন:
ঘটক : আছইননি ভালা লন্ডনী সাব …

পাত্রীর বাবা : ওয় বা ইসলাম ব্যাটা .আছি ভালা .তুড়া তুড়া সর্দিজ্বরে ছাতার …

ঘটক : অউ পাত্র আমার লগেই আইছইন .জহির তানোর নাম .বাড়ি আমরার এলাকাতেই …

পাত্রীর বাবা : তে বাবা জহির কিতা খরো .আর লন্ডনে গেলে প্ল্যান কিতা .মানে আল্লাহর হুকুমে বিয়া শাদি লাগলে …

জহির : আংকেল এলএলবি শেষ করছি দেশে .টুকটাক ব্যবসা ও করিয়ার .আর আমার আগের ই প্ল্যান ব্যারিস্টারী পড়ার .বিয়া অইয়া লন্ডনে যাওয়া হইলে ব্যারিস্টারী শেষ করমু ইনশাআল্লাহ .দেন দেশে বা বিলাতে পেশা হিসাবে এইটা ই চালাইবো …

পাত্রীর বাবা : আলহামদুলিল্লাহ .বিদেশে গিয়া ও পড়তায় ইখান হুনিয়া ভালা লাগছে .আমরা পারছি না নানা অভাব অনটনের কারনে তবে নিউ জেনারেশানকে পড়তে দেখলে উ ভালো লাগে …
মন ভরি যায় …
আচ্ছা বাবা আমরা খুজ খবরাখবর নিয়ে তোমারে জানাইমু .তোমার মা বাবা রে সালাম দিও …

জহির : জ্বি আচ্ছা আংকেল .আসসালামু আলাইকুম .

পাত্রীর বাবা : কই গো এই পাত্র তো সবদিক দিয়েই আলহামদুলিল্লাহ .দেখতে হুনতে যেমন লেখাপড়ায় ও তেমন .মাত আগানি যায়নি দেখো চিন্তা করিয়া …

পাত্রীর মা: ওয় পাত্র ভালো দেখতে হুনতে .আর পড়ালেখার কথা হুনলেউ তুমি ফেটফেটা অই যাও .বিলাতে যে বাড়ি লইছো পুড়ির নামে হিখানের মরগেইজ কে দিতো হুনি…
বিলাতে গিয়া দামান্দবেটা ব্যারিস্টার অইতা পড়তা তে রুজি কে করতা …
খাইতা -মরগেইজ যে দিতা তোমাতান হি ছিন্তা আছে নি খালি পড়িয়া বারিস্টার …

ই পুয়ায় এখনই কর গিয়া পড়িতো .ইগুর মতলব ভালা নায় …
লন্ডনে গিয়া পড়িয়া অদাইলাইবো …

দেখি আমার বইনের ছেলে এগু আছে .
হুরুবালা ডুবাই গেছিল গিয়া .
এখন একেবারে আইচ্ছে .
কাইল চলিও দাওয়াতে গিয়া তারে ও দেখিলাইলাম .অইলে নিজের মাঝে উ ভালা …
আজকালকার পুয়াইনতর মতলব ভালা নায় .

পাত্রীর বাবা : ওয় .যেতা ভালা মনে করো অতাউ করো .ভাতিজা পলাশ ফাস্ট ব্লাড ইগু অইতোনা বাট মইর ঘরের ভাই ইগু কিজাত ব্লাড তে হুনি.আর লেখাপড়ার দরকার নাই না কিতা .তোমাতান মা পুড়ির যা ইচ্ছা করো .লন্ডনে ভিজিটে পলাশ যাওয়া পর ভাতিজার লগে বিয়া দিলাইলে ই লেফ রাইট মারা লাগতো না .আমারে আর মাতাই ও না …

বাড়ি হতে বের হবার পথে:
ঘটক ইসলাম উদ্দিন :কিতা রে পলাশ নি .বিয়াতো মনে হয় অই যাইবো তর চাচীর বইনের ছেলের সাথে .জানছন নি ঘটনা
পলাশ :জানি সবতা উ .মাথলেউ বেংগা এর লাগি জানিয়া উ মাতিয়ার না .চাচায় কস্ট পাইবা এর লাগি চুপচাপ আছি .
ঘটক :কিতা ব্যাপার .ইনো বিয়া দিতা ইতা ঠিক করিয়া আইলা তবে খেনে আমারে লেফট রাইট মারাইলা …

পলাশ: ই খালার ঘরের ভাই প্রেমের টানে দুবাই থাকি এগ্রিমেন্ট এর চাকরি ছাড়িয়া দেওয়ানা মজনু অইয়া দেশে আইছে কিন্তু আইয়া ও লাভ অইছে না তার প্রেমিকার আরেক প্রেমিকে বিয়া করিয়া আমেরিকার নেওয়ার পথে .এপ্লাই আলা দামান্দবেটা .আওয়ার পরে গেছলাম চাচীর বাপের বাড়ি .গিয়া দেখি হাই ভলিউমে মমতাজের #বুকটা_ফাইট্টা_যায় গান বাজের .
এখন নাকি নচিকেতার #শুধু_বিষ_দেও_বিষ_অমৃত চাই না অতা গান হুনের .অউ বইনের চোখের পানি থামানির লাগি নাকি এখন চাচিয়ে তান মেয়েরে বিয়া দিয়া বইন ফুতরে লন্ডনী বানাইতা …
ইতা মাতিও না ইসলাম ভাই সবতার বাদে আমার ই চাচার ঘরের বইন একটা বাজু লউক .ঘুলা ডিসপ্লে পাসপোর্ট দিয়া বেছার দিন মনে হয় শেষ …

লেখক: কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!