রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বালাগঞ্জের সাকিব পেলো অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের দলে ডাক

রায়হান আহমদ:
এবারের অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে বাংলাদেশ যুব দলে ডাক পেয়েছে সিলেটের বালাগঞ্জের তানজিম হাসান সাকিব। বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তিলক চাঁনপুর গ্রামের কাতার প্রবাসী মোঃ গৌছ আলী ও সেলিনা পারভিন দম্পতি একমাত্র পুত্র সাকিবের জন্ম ২০০২ সালে।

ছোটবেলাই ক্রিকেট ছিলো সাকিবের ধ্যান-জ্ঞান। বাবা প্রবাসে থাকলে মা-ই ছিলেন তার একমাত্র অভিভাবক। বার বার নানা বাহানার মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সে ক্রিকেট সামগ্রী কিনতো।  তার স্বপ্ন ছিলো নিজেকে একজন ভালোমানের ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার।

নাওয়া খাওয়া ভুলে ক্রিকেটে মত্ত থাকায় একাধিকবার তার মা খেলার সরঞ্জাম বটি দা দিয়ে কেটে ফেলেন। তারপরও অদম্য সাকিবকে আটকায় কে! আবারো নানা ছুঁতোয় মায়ের থেকে টাকা নিয়ে সে ক্রিকেটে মত্ত হতো।

সাকিবের বিদ্যার হাতেখড়ি আদিত্যপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পড়াশোনায়ও ছিলো দারুণ মেধাবী। পঞ্চম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি নিয়ে ভর্তি হয় বালাগঞ্জ ডি এন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে অধ্যয়নত অবস্থায় (২০১৬ সালের প্রথম দিকে) বিকেএসপির তৃণমূল বাছাইয়ে অংশ নেয়। মৌলভীবাজার জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত বাছাইয়ে শাকিব ফাস্ট বোলার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে।

সে বছরই বিকেএসপি থেকে তার ডাক এলে তাকে ঢাকার সাভারস্থ বিকেএসপিতে ভর্তি করা হয়। সেখানে পড়ালেখার পাশাপাশি চলে নিয়মিত ক্রিকেট অনুশীলন। ওই বছর বিকেএসপি স্কুল জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাকিব গোল্ডেন-এ প্লাস পায়। বর্তমানে সাকিব বিকেএসপি স্কুলের দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।

এর কিছুদিন পরে সে অনুর্ধ্ব-১৮ ডিভিশন টুর্নামেন্টে বোলিংয়ে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করায় নির্বাচকদের নজরে পড়ে। ডাক পায় বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৭ দলে। গত মার্চে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনুর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে অসাধারণ বোলিং করে সাকিব। তাঁর এই পারফরম্যান্স দেখে তাকে সরাসরি আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের অনুষ্ঠিত অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের বাংলাদেশের প্রাথমিক দলে ডাকা তাকে।

তানজিম হাসান সাকিবের বাবা মোঃ গৌছ আলী সুরমানিউজ কে বলেন, সাকিব বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পাওয়ায় তিনি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। তাঁর বিশ্বাস সাকিব এশিয়াকাপে দেশের হয়ে ভালো কিছু করবে।

সাকিবের মা বলেন, আমার একমাত্র ছেলে দেশের হয়ে খেলবে এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে। তিনি ভবিষ্যতে সাবিককে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলতে দেখতে চান। এ জন্য তিনি সবার দোয়া কমনা করেছেন।

সাকিবের শৈশবের খেলার সাথী ফালাক এবং নাহিদ জানান, সাকিবকে আমরা ‘ক্রিকেট পাগল সাকিব’ বলে ডাকতাম। সে ছোটকাল থেকেই বুলেট গতির বোলিং করত। আমাদের বন্ধু আগামী এশিয়া কাপে দেশের হয়ে খেলবে এতে আমরা সবাই আনন্দিত।

তানজির হাসান সাকিবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বলে, ‘এখন আমি ঢাকায় প্রাথমিক দলের সাথে অনুশীলন ক্যাম্পে ঘাম ঝরাচ্ছি। আমার ফিটনেন্স ভালো থাকলে নির্বাচকমণ্ডলীরা আমাকে প্রধান দলে ডাকবেন বলেই আমি আশাবাদী। আগামী এশিয়াকাপ টুণার্মেন্টে অংশ নিয়ে আমি দেশের হয়ে লড়তে চাই।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
3.1kTweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!