সোমবার, ২৩ জুলাই, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন : দোষলেন কামরান, উড়িয়ে দিলেন আরিফ  » «   তামিমের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৭৯  » «   ওসমানীনগরে অর্ধ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল আটক  » «   বিশ্বনাথে বাসের ছাদ থেকে পা ফসকে হেলপারের মর্মান্তিক মৃত্যু  » «   মৌলভীবাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল থেকে ৫ জন আটক  » «   এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের পিতা জামায়াতের রুকন ছিলেন !  » «   নবীগঞ্জে অধ্যক্ষের ওপর হামলাকারী মুন্নার আদালতে আত্মসমর্পণ  » «   কমলগঞ্জের ৩৩৫ পরিবারের মাঝে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধন  » «   সিলেটে ডাক্তারের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ  » «   নাটক সাজিয়ে মানুষের মন জয় করা যায় না : কামরান  » «  

‘শ্মশানের জন্য একটু জায়গা এনে দিতে পারেন?’

নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘যুদ্ধর সময় যেরা রাজাকার আছিল, যেরা মারিয়া খাইছে, হেরা অকন ভালা আছে। আর আমার মতো যেরা জীবন বাজী রাখিয়া পাকিস্তানীর লগে যুদ্ধ করছে তারা অকন খানি পায় না। হায়রে দেশ-হায়রে স্বাধীনতা!’

মুক্তিযুদ্ধ ৭১-এ শেষ হলেও মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র দাসের সংগ্রাম কিন্তু থেমে নেই। দারিদ্রতায় ধূকতে ধূকতে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘জীবন বাজি রাখি যুদ্ধ করলাম আর অকন কেউ আমরারে মানুষ কয় না।’

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন বাজী রেখে মুক্তি-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়া অকুতোভয় যোদ্ধা বালাগঞ্জের চাঁনপুর গ্রামের রসুমনি দাসের পুত্র রাখাল চন্দ্র দাস স্বাধীনতার ৩৬বছর পরেও যোগ্য সম্মানটুকু পাচ্ছেন না। সরকারী কয়েক ছত্রের সনদ আর মাসিক ভাতা সম্ভল টুকু নিয়ে বিষয়-বৈভব হীন রাখাল চন্দ্রের জীবনের ইতিমধ্যে ৬২টি বছর কেটে গেছে।

বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ভাষনের পর দেশ জুড়ে যখন চরম নৈরাজ্য ঠিক তেমন সময়ে এপ্রিল মাসের শেষ দিকে রাখাল চন্দ্র যুদ্ধের ট্রেনিংয়ের জন্য মৌলভী বাজার জেলার ফুলতলা সীমান্ত পেরিয়ে করিম গঞ্জের লোহার বন্দে যান। সেখানে দেড়মাস ট্রেনিং নেন ভারতীয় এক কমাণ্ডারের কাছে। প্রথম সন্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন কানাইঘাটে হরিপুর এলাকায়। ৪নং সেক্টরের অধীনে মেজর সাদীর নেতৃত্বে ১২০জন মুক্তিযোদ্ধার সাথে তিনি ছিলেন। এখানে মারা যায় প্রায় ২০জন মুক্তিযোদ্ধা। পাক সেনাদেরও ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। ৪নং সেক্টরের কমাণ্ডার ছিলেন মেজর সিআর দত্ত।

স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানী বুলেট থেকে অনেকবার বেঁচে যাওয়া রাখাল চন্দ্র দাস দুর্ভোগ থেকে নিস্কৃতি পাচ্ছেন না স্বাধীনতার ৪৭বছরেও। ৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্তের সুপারিশে রাখাল চন্দ্র ঢাকা পিলখানায় বিডিআরে চাকুরী পান। কিন্তু ১০ বছর চাকুরীর পর এরশাদের আমলে ১৯৮২ সালে বিনা কারণেই চাকুরীচ্যুতি ঘটে। এরপর নানা জায়গায় ধর্ণা দিয়েও চাকুরী ফেরৎ পাননি তিনি। চাকুরী হারানোর পর চারিদিক থেকে ঘিরে বসে অভাব। বাস্তুহীন রাখাল চন্দ্র দাস দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে গোয়ালা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে সরকারী ভূমিতে বাস করছেন।

রাখাল চন্দ্র দাস বলেন, ‘ছোট একটা শরীরে হাজার রকমের অসূখ বাসা বেঁধেছে। অসুখের কারণে কাজ করতে পারি না। সরকার থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের খাস ভূমি বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা ছিল-তা পাইনি। বলে-কয়ে সরকার থেকে আমার শ্মশানের জন্য একটু জায়গা এনে দিতে পারেন?’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!