শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথের মৃত ছেলেটি ওসমানীতে গিয়ে জীবিত!

সুরমা নিউজ ডেস্ক :
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের মৃত ঘোষণা দেয়ার পর সুন্দর আলী ওরফে শাহাব উদ্দিন (২৪) নামের ছেলেটি এখন সুস্থ।

মঙ্গলবার (২০ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ অবস্থায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন তাঁর মা খয়রুন নেছা ওরফে নুরুন নেছা ও ছোটভাই জায়েদ আলী।

মৃত ঘোষণার ছেলেটি বেঁচে যাওয়ায় তাকে একনজর দেখতে আজিজ নগরের বাড়িতে এখন এলাকার লোকজন ভিড় করছেন।

এর আগে সোমবার রাতে প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ে দেয়ার জন্য পেট্রোল পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন আজিজ নগরে বসবাসকারী সিকন্দর আলীর ছেলে পিকআপ চালক সুন্দর আলী ওরফে শাহাব উদ্দিন। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে বিশ্বনাথের কাদিপুরস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকিলা আফরিন মিথি তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাঁর পিতা সিকন্দর আলী, মাতা খয়রুন ওরফে নুরুন নেছা প্রায় পাগল হয়ে পড়েন।

এ সময় তাদের নিকটাত্মীয় চকরাম প্রসাদের (উপরের চক) মখতার আলী (৫০) ও হুসিয়ার আলী (৩৫) তাদের সান্তনা দেন এবং সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পেট্রোল পান করা সুন্দর আলীকে জীবিত ঘোষণা করেন এবং চিকিৎসার জন্যে দ্রুত ভর্তি করার নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে সুন্দর আলীর বাবা সিকন্দর আলী বলেন, পছন্দের মেয়েরে সঙ্গে ছেলেকে বিয়ে করাতে রাজি না হওয়ায় সোমবার রাতে সে পেট্রোল পান করে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে। পরে তাকে কাদিপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডা. সাকিলা আফরিন মিথি তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার ছেলেকে জীবিত দেখে দ্রুত ভর্তি করেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিকরা মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে গেলে ‘টিএইচও’ আব্দুর রহমানকে না পেয়ে ফাহিমা ইয়াছমিন নামের এক চিকিৎসককে পান। তাঁর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কোন তথ্য দিতে রাজি হননি।

এদিকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুরো বিষয়টি জানতে স্থানীয় আরও কয়েকজন সাংবাদিক কাদিপুরস্থ হাসপাতালে গিয়ে ইমার্জেন্সিতে দেখা পান ঝাড়ুদার বেগম নামের একজনের। প্রথমে তিনি নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে সমস্যার কথা জানতে চান। পরক্ষণে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নিজের আসল পরিচয় (ঝাড়ুদার) জানিয়ে সেখান থেকে ছিটকে পড়েন।

এ সময় সাংবাদিক শুনে এক নারী চুপিসারে এসে বলেন, বাবারা দয়া করে উপরে (যেখানে রোগী ভর্তি) যান। দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা গেল পুরুষ ওয়ার্ড শুন্য, তবে মহিলা ওয়ার্ডে শিশুসহ ৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁরা সকলেই শ্বাসকষ্টের রোগী। ৬ জনের মধ্যে কেউ ৬ দিন আগে এসেছেন আবার কেউ মঙ্গলবার এসেছেন।

হাসপাতালে ৬ দিন আগে ভর্তি হওয়া ধলী পাড়ার রেহান উদ্দিনের স্ত্রী রানী বেগম বলেন, ৬ দিন থেকেই সকালে ৪ পিস ব্রেড আর সামান্য চিনি দেয়া হয়। এছাড়া প্রতিদিনই চানার ডাল আর বাসি ভাত পাচ্ছেন, যা খাওয়ার অনুপযোগী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ‘টিএইচও’ ডা. আব্দুর রহমান রোগীর খাবার দাবারের ব্যাপারে ত্রুটির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে হাসপাতালের সকল সমস্যা দূর করা হবে।

তবে মৃত ঘোষণার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ডা. শাকিলা আফরিন মিথি। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, একটু মিসআন্ডাস্ট্যান্ডিং (ভুল বুঝাবুঝি) হওয়াতে এ রকম হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ