বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
টাঙ্গাইলের কিশোরীকে বিশ্বনাথে এনে ধর্ষণের পর হত্যা  » «   থানা পুলিশের প্রেসব্রিফিং বর্জন করল বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়ন  » «   ‘ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর অনুভূতি’ রচনা প্রতিযোগিতায় ওসমানীনগরের রিমা প্রথম  » «   সন্ধান মিলেছে নিখোঁজ এমসি কলেজ শিক্ষার্থী সাজ্জাদের  » «   সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ২ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার, থানায় জিডি  » «   কমলগঞ্জে বিশ্বকর্মা পুজায় দুষ্কৃতিকারীর হামলায় মহিলাসহ আহত ৬  » «   নবীগঞ্জে কুশিয়ারা বুকে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্বনাথে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আতঙ্ক ‘ভূতুড়ে বিল’  » «   বিশ্বনাথে ১২ দিনেই জমি নামজারির সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা  » «   মৌলভীবাজারের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক রাজাকার আনিছের মৃত্যু  » «  

হঠাৎ কী হয়েছে অর্থমন্ত্রীর?

সুরমা নিউজ ডেস্ক:
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আবুল মাল আবদুল মুহিত। এই দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ব্যাংক খাতে নানা কেলেঙ্কারি হয়েছে। ব্যাংক খাতের কেলেঙ্কারি ও অর্থমন্ত্রীর বিভিন্ন বক্তব্যের জেরে তাকে ওই মন্ত্রণালয় থেকে সরে যাওয়ার দাবি উঠেছে একাধিকবার।

সর্বশেষ গত শুক্রবার অর্থমন্ত্রীকে নিরাপদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তাব করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর (বি. চৌধুরী)। অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনীতিকে ‘ধ্বংস’ করে দিয়েছেন অভিযোগ করে বি. চৌধুরী বলেন, ‘উনি মনে করেন, ব্যাংকের দায়িত্ব ব্যাংকারদের, চুরি করলে চোরের দায়িত্ব। আপনি ফিন্যান্স মিনিস্টার, একদিন যদি আপনাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়…অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি হয়ে যায়।’ অর্থমন্ত্রীর স্টুপিড ও রাবিশের মতো ভাষা ব্যবহারের সমালোচনা করে বি. চৌধুরী বলেন, ‘এক সময় ব্রাইট স্টুডেন্ট ছিলেন। যে কোনো কারণে হোক তিনি প্রশাসন চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন। একটা ব্যাংকও ঠিকমতো চলে না, দেখতে পারেন নাই, ধরতে পারেন নাই, শাস্তি দিতে পারেন নাই, কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন নাই।’

তবে গতকাল শনিবার অগ্রণী ব্যাংকের বাৎসরিক ব্যবসা সম্মেলনের অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বহুদিন এক জায়গায় থাকলে পচন আসে, সত্যিকার অর্থে জানি, আমি অবসরে যাচ্ছি। এ বছরের ডিসেম্বরেই অবসরে যাব। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মনে হয় অবসর নিয়ে কোনো ধারণা নেই। তাকে উপদেশ দিতে চেয়েছিলাম, জীবনে একটা সময় আসে, তখন অবসরে যাওয়াই আমাদের জন্য ভালো। অবসরে যেভাবে থাকা যায়, সেভাবেই থাকা উচিত।’

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি ব্যাংকগুলোতে তুলনামূলক খেলাপি ঋণ বেশি। এটা কমানোর জন্য গ্রাহককে চিনতে হবে। তার ব্যবসা সম্পর্কে আগে জানতে হবে। যারা ব্যাংকের কর্মকর্তা আছেন তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন কি না।’

কয়েক বছর ধরে অবসরে যাবেন নাকি আবার আরেক দফা দল থেকে নির্বাচন করবেন তা নিয়ে অর্থমন্ত্রী নিজেই বিভিন্ন রকম মন্তব্য করে যাচ্ছেন। সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে আবার নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর জবাব দেবেন। এর আগে বলেছিলেন, তার আর প্রার্থী হওয়া বা রাজনীতিতে থাকার আগ্রহ নেই। তবে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা যদি নির্বাচন করতে বলেন সে ক্ষেত্রে তিনি বিষয়টি নিয়ে ভাববেন।
২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের ৩০টিরও বেশি ব্যাংক এখন আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব কারণে দেশের ব্যাংক খাত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ৪৮টি ব্যাংকের মধ্যে ১৩টির আর্থিক অবস্থা অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যাংকগুলোতে নামে-বেনামে ঋণের নামে অর্থ লোপাট করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় সংকট আরও বাড়ছে।

জানা যায়, দেশে সরকারি-বেসরকারি-বিদেশি মিলে মোট ৫৭টি ব্যাংক রয়েছে। আর্থিক অবস্থার অবনতি হওয়া ১৩টি ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও বিশেষায়িত ব্যাংক আটটি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে- বাংলাদেশ কমার্স, ন্যাশনাল, ফারমার্স ও এনআরবি কমার্শিয়ালের পরিস্থিতি কয়েক বছর ধরে খারাপ। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের একাধিক ব্যাংকের মালিকানা বদল নিয়েও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে- ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এবি ব্যাংক ইত্যাদি। ব্যাংক খাতে চলমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সেগুলো চালু রাখতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিদ্যমান বেসরকারি চালু ব্যাংকগুলো যেখানে ভালো চলছে না, সেখানে নতুন ব্যাংক অনুমোদনের তোড়জোড় চলছে।

২০০৯-২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে মোট সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণের অভিযোগ ওঠার পর অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঋণপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়াসহ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিধিবহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে। প্রায় চার বছর অনুসন্ধান শেষে এ অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনায় ২০১৫ সালে রাজধানীর তিনটি থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। আসামিদের মধ্যে ২৬ জন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বাকিরা ঋণগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক জরিপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। একইভাবে ফারমার্স ব্যাংকের অধঃপতনের জন্য অনেকেই দায়ী করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে।
তবে জনতা ব্যাংক থেকে এক গ্রাহককেই মাত্র ৬ বছরে ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার ঋণ ও ঋণ সুবিধা দিয়ে ব্যাংকটিকে ড. আবুল বারকাত শেষ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, জনতা ব্যাংক একসময় সেরা ব্যাংক ছিল। কিন্তু আবুল বারকাতই ব্যাংকটি শেষ করে দিয়েছেন।

হলমার্কের চার হাজার কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ওই টাকা কিছুই না বলে মন্তব্য করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। এমনকি তিনি হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের দুষ্টুলোক বলে আখ্যায়িত করেছেন। পরে তার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন দেশের বিশিষ্টজন ও সাধারণ নাগরিকরা। তারা বলেছেন, অর্থমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যে ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!