শুক্রবার, ১৭ আগষ্ট, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সিলেটে ওয়ার্কার্স পার্টির সন্ত্রাস বিরোধী দিবস পালিত  » «   পল্লীবন্ধু এরশাদ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক : ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি  » «   বিয়ানীবাজার থানা থেকে ১৮ সাপ ধরলো সাপুড়ে  » «   কাল ঐতিহাসিক নানকার কৃষক বিদ্রোহ দিবস  » «   সরকার স্বল্প সময়ে তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তি সেবা পৌঁছে দিয়েছে : মিলাদ গাজী  » «   ইলিয়াস গুমের ৭৬ মাস, ফিরে পেতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল  » «   ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে শ্যামলী পরিবহণ ও ট্রাকের সংঘর্ষে আহত ১০  » «   নবীগঞ্জে ডাকাতিকালে ৫ ডাকাত আটক, বাড়ীর গৃহকর্তাকে কুপিয়ে জখম  » «   জুড়ীতে ১শ’ টাকার আশায় প্রাণ গেল মাদ্রাসা ছাত্রের  » «   শাবিতে ভর্তির আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর  » «  

স্মার্ট ব্যক্তির ১৩টি লক্ষণ

সুরমা নিউজ ডেস্ক:
আপনি হয়তো পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল করেন, কেউ হয়তো একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারে, কেউ আবার ভালো আবৃত্তি করতে পারে। তবে বুদ্ধিমত্তা এমন কিছু নয় যে আমরা সেগুলো বংশগতভাবেই পেয়ে যাব বা ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী আয়ত্ত করে ফেলব।

ইউটিউব চ্যানেল এসাপ সায়েন্স ১৩টি লক্ষণের কথা তুলে ধরেছে যাতে আপনি বুঝতে পারবেন আপনি গড়পড়তা মানুষের চাইতে স্মার্ট কি না।

পাঠকের সুবিধার্থে নিচে লক্ষণগুলো আলোচনা করা হলো :

১. উচ্চতা : লম্বা হওয়ার নিঃসন্দেহে অনেক সুবিধা রয়েছে। লম্বা মানুষেরা ভীড়ের মধ্যেও সবার নজরে পড়ে। ভালো বাস্কেটবল খেলতে পারে, খুব উঁচুতে জিনিসপত্র নামাতে পারে। আবার পাবলিক বাসগুলোতে ঝুলে থাকার ক্ষেত্রেও তাঁরা বেশি সুবিধা পান।

তবে এসাপ সায়েন্স ২০০৯ সালের একটি গবেষণায় দেখায় যে, লম্বা ছেলেমেয়েরা পরীক্ষায় অধিকাংশ সময়ই অন্যদের চাইতে বেশি নম্বর পায়। যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা এনসিবিয়াইয়ের (ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন) প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে লম্বা ছেলেমেয়েদের মধ্যে সাধারণ জ্ঞান বেশি থাকে।

২. মা-বাবার প্রথম সন্তান : পরিবারের বড় সন্তানেরা যাদের ছোটো ভাই বোন আছে প্রায়ই হয়তো আক্ষেপ করে ভেবে থাকেন, কেন যে বড় হলেন? কিন্তু লেখাটি পড়ে হয়তো বড় সন্তান হওয়ার একটি সুবিধাও খুঁজে পাবেন আপনি।

২০০৭-এ নরওয়ের আড়াই লাখ সেনা সদস্যের মধ্যে করা এক গবেষণায় দেখে গেছে মা-বাবার প্রথম সন্তানদেরই বুদ্ধিমত্তা সবচাইতে বেশি থাকে। এটা হয়তো বংশগত কারণে নয়, বরং প্রথম সন্তানের প্রতি মা-বাবাদের বেশি ও ছোট সন্তানের প্রতি কম মনোযোগের কারণেই এটা হয়ে থাকে।

৩. মাতৃদুগ্ধ : ২০১৫ সালে ব্রিটিশ সাময়িকী দি ল্যানসেটের এক গবেষণায় দেখা যায়, জন্মের প্রথম বছর মাতৃদুগ্ধ পানকারী ছেলেমেয়েরা বেশি স্মার্ট হয় এবং অন্যদের চাইতে বেশি উপার্জন করে থাকে। উল্টো দিকে, যারা এক মাসেরও কম মাতৃদুগ্ধ পান করে বা বোতলজাত পানীয় পান করে তাদের বুদ্ধিমত্তা কম থাকে—পিছিয়ে পড়ে অন্যদের চাইতে।

৪. অ্যালকোহল পান : ১৯৫৮ সালে করা জাতীয় শিশু উন্নয়ন জরিপ অনুযায়ী অধিক বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন শিশুরা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হয়তো বেশি অ্যালকোহল পান করবে। এর মানে এই নয় যে, বুদ্ধিমত্তার দোহাই দিয়ে অ্যালকোহল পান করতে থাকবে। নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি দায়িত্ব রেখেই পান করা উচিত।

৫. ধূমপান : প্রথমত, এটা ২০১৮ এবং ধূমপান করা কোনো কাজের কথা নয়।

অনেকেই এই ধূমপানের অভ্যেস হয়তো এখনো চালিয়ে যাচ্ছে, আর আপনি হয়তো বন্ধ করতে চাইছেন। ২০০৯-এ ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে করা গবেষণায় দেখা যায়, ধূমপায়ীরা অন্যদের চাইতে কম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন হয়।

৬. সংগীতজ্ঞান : কোনো বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা বুদ্ধিমত্তার অন্যতম একটি লক্ষণ। সাইকোলজিক্যাল সায়েন্সের ২০১১ সালে করা একটি অসাধারণ গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়। গবেষণায় তারা স্কুলের দুটি আলাদা শ্রেণির বাচ্চাদের দুটি আলাদা দল করে। এক শ্রেণিতে তারা গান বা সংগীতের শিক্ষা দেন। অন্য শ্রেণিতে ভিজুয়াল কোনো শিল্প শেখান। মাত্র ২০ দিন পরে সংগীত শিক্ষাপ্রাপ্ত শিশুরা চমৎকার মৌখিক বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়।

৭. রাত জাগা: গভীর রাত কারো কারো জন্য কাজ করার এক পছন্দের সময়। দেখা গেছে নিশাচররা বেশি বুদ্ধিমান হয়, যেহেতু কাজ করার জন্য তাঁরা অন্যরকম এক সাহিত্যিক পরিবেশ পছন্দ করে।

এক গবেষণায় দেখা যায়, রাত জেগে কাজ করার বিষয়গুলো প্রাচীনকালে একেবারে দেখাই যেত না। এও দেখানো হয়, নিজেদের রাস্তা নিজেরা বের করার জন্যে কেউ কেউ এই রাত জাগা শুরু করে।

৮. দুশ্চিন্তা : অতিরিক্ত চিন্তা করা কোনো কাজের কথা নয়। তবে ২০১৪ সালে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, বেশি দুশ্চিন্তা করা মানুষগুলোর মধ্যে বুদ্ধিমত্তা বেশি থাকে। উল্টোদিকে কিছু মানুষ যারা চিন্তা করে না, মাঝে মাঝে হয়তো পরীক্ষায় বেশি নম্বর পায়, তবে তাদের মৌখিক বুদ্ধিমত্তা কম থাকে।

৯. আকাশ কুসুম কল্পনা : ২০১৭-তে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, আকাশ কুসুম কল্পনা করা ছেলেমেয়েরা বেশি বুদ্ধিমান হয়। কল্পনা করা কর্মক্ষম মস্তিষ্কের একটি লক্ষণ। এ ধরনের কল্পনা হয়তো কোনো কাজে আসে না। তবে নিজস্ব কল্পনার মাঝে ঘুরে বেড়াতে সাহায্য করে। আর এই ঘুরে বেড়ানোকে তরল বুদ্ধিমত্তা আর সৃজনশীলতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে গবেষণায়।

১০. বাঁহাতি : ২০০৭-এ ৬৪৩ জনের মধ্যে করা গবেষণায় দেখা যায় যে, যেই সমস্ত মানুষেরা বাঁ হাতে কাজ করে তাঁরা খুব চটপটে ও বুদ্ধিমান হয়। তবে এতে ডান-হাতিদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেননা, তাদের মধ্যে সময়ের হিসাব জ্ঞান বেশি দেখা যায়।

১১. যৌন সম্পর্ক : এনসিবিয়াইয়ের করা গবেষণায় দেখা যায়, কুমারিরা এবং যারা সব ধরনের যৌন সম্পর্কে অনীহা প্রকাশ করে তাদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তার হার বেশি থাকে।

১২. মাদকাসক্তি : ১১ থেকে ৪২ বছর বয়সী মানুষদের মধ্যে করা গবেষণায় দেখা যায়, যারা খুব কম বয়সেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে, প্রায়ই তারা মাদক নেয়। পুরুষের চাইতে উচ্চ বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন নারীদের মাদকের সাথে জড়িত থাকতে দেখা যায়।

১৩. দুঃসময়ে হাস্যরস : আপনি কি অন্যের দুর্ভাগ্যে আনন্দ পান? কিংবা মৃত্যু নিয়ে ঠাট্টা করতে পছন্দ করেন? এক গবেষণায় দেখা যায়, এ ধরনের কৌতুক করতে আপনার মৌখিক বুদ্ধিমত্তা এবং ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
80Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!