রবিবার, ২০ মে, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বেসরকারি স্কুল ভবন উন্নয়নে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

সুরমা নিউজ:

সারা দেশে ১৯ হাজার ৩৫৭টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে তিন হাজার বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন’ শিরোনামের একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়।

প্রকল্পের আওতায় এসব বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ের পেছনে বরাদ্দ তিন কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রকল্পসহ মোট ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন পায়।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ের জন্য এই প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। বাকি দুই অর্থবছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকা করে মোট ১০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছর শেষ হতে এখনো ছয় মাস বাকি। এই সময়ের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলে তা কম হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি এ সময়ের জন্য এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী সায় দেন।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, সর্বজনীন বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৩২৭ সরকারি ও ১৯ হাজার ৩৫৭টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে তিন হাজার বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ভবন নির্মাণ করা হবে।

ব্যানবেইসের দেওয়া তথ্যমতে, মাধ্যমিক পর্যায়ে এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। এ পর্যায়ে সবাই যাতে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং শ্রেণিকক্ষের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।

গতকালের সভায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্পপার্ক প্রকল্প তৃতীয় দফায় সংশোধন করে অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আসবে ৩০১ কোটি টাকা। বাকি ৮০ কোটি টাকা জোগান দেবে উদ্যোক্তারা। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে এবার ২০২০ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। ২০০৮ সালে নেওয়া ২১৩ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় গিয়ে ঠেকেছে ৩৮১ কোটি টাকায়।

গতকালের একনেক সভায় ৬৪টি জেলায় ৬৬টি (ঢাকা ও পটুয়াখালীতে দুটি করে) ত্রাণ গুদাম নির্মাণের লক্ষ্যে ‘জেলা ত্রাণ গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্র নির্মাণ’ শিরোনামের পৃথক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ১২৭ কোটি টাকা, যার পুরোটাই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেওয়া হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, একনেকে ১৮ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আসবে ১৬ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। বাকিটা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!