রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
আমার বাবা-ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে -সংবাদ সম্মেলনে কন্ঠশিল্পী রুহী  » «   বিশ্বনাথে বখাটের উৎপাতে প্রাণ গেল কলেজছাত্রীর!  » «   আক্ষেপ ফুরোচ্ছে সিলেটের : শুরুতে নিজেদের শেষটা রাঙাতে চায় বাংলাদেশ  » «   লন্ডন প্রবাসী সিলেটের সাফওয়ান জাতীয় বক্সিংয়ে চ্যাম্পিয়ন  » «   ব্রি‌টে‌নে ১০ বছ‌রে সবচেয়ে বড় ভূ‌মিকম্প অনুভূত  » «   সিলেটে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, শ্বশুড়-শ্বাশুড়ী আটক  » «   অবসরের সিদ্ধান্ত অর্থমন্ত্রীর!  » «   জগন্নাথপুরে জমি নিয়ে বিরোধের সংঘর্ষে প্রবাসী নিহত, আহত ১০  » «   ১৫ বছরের আক্ষেপ কাটল মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের  » «   দক্ষিণ ছাতক উন্নয়ন পরিষদ সিলেটের কমিটি পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত  » «  

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে শুরু হয়নি বাঁধের কাজ উৎকণ্ঠায় কৃষকরা

সুরমা নিউজ ডেস্ক :
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকেই হাওর  রক্ষা বাঁধ শুরু হয়ে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শেয় করার কথা ছিলো। কিন্তু একমাস পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কোনো বাঁধের কাজ। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করা হয় তাহলে আগামী বোরো ফসলও বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দেখারহাওর, জামখলার হাওর, কাঁচিভাঙ্গা হাওর, খাইহাওর, পাখিমারা হাওর, বীরগাঁও দক্ষিণের হাওর, ঠাকুরভোগের হাওর, সাংহাই হাওর ও রাগডরা হাওরসহ বেশ কয়েকটি হাওরের বাঁধগুলোতে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শুরু হয়নি কোনো বাঁধের কাজ। তবে, দরগাপাশা ইউনিয়নের ৬টি বাঁধের প্রাক্কলন শেষে কার্যাদেশ পেয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হওয়ার কথা।

উপজেলা সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুৃনামগঞ্জে ৭ ইউনিয়নের সব ক’টি হাওরে ৪১ বাঁধের কাজের  জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের  সমন্বয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদা পত্র পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২১ টি প্রকল্পের অপ্রয়োজন দেখিয়ে বাদ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ২০টির কাজ সময় মতো শুরু হওয়ার  কথা থাকলেও কাজেরই প্রাক্কলন করা হয়নি ১৪টির। দরগাপাশা  ইউনিয়নের ৬টি বাঁধের প্রাক্কালন হলেও কাজ শুরু হয়নি কোনোটিরও। তবে দু’একদিনের মাঝেই বাঁধের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

এদিকে, বেরিবাঁধের কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ কৃষকরা। গত বছরের বোরো ধান পানিতে যাওয়ায় টানা তিন বারের ফসলহানিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলা সহস্রাধিক কৃষক পরিবার। ফসলহানির পর সরকারী  সহযোগিতা পাওয়ার পরও  গরু, ছাগল, সোনা গয়না, জমি বিক্রি ও বন্ধক দিয়ে বছর পার করে  নতুন করে ফসল বোনেন কৃষকরা। এবছরও যদি বাঁধে অনিয়ম, সিন্ডিকেট দুর্নীতি ও কাল ক্ষেপণের কারণে ফসলহানি হয় তাহলে মাথা গুজবার ঠাঁই থাকবে না কৃষক কৃষাণীর। তাই যত দ্রুত সম্ভব বাঁধগুলোর কাজ শেষ করার আহ্বান জানান তারা।

পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ডিগারকান্দি গ্রামের সিরাজুল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, ‘আমরা একেবারে দিশেহারা। টানা তিন বছর ধান হারাইছি। ই বছরও ধান রোয়াইছি। হুনছি একটা বাঁন্দের কামও শুরু অইছে না। আমরার কাঁচিভাঙ্গার বান্দ যুদি তারাতারি বাঁন্দা না অয়, তাইলে ইবারও ধান আরাইমু। সারা উপজেলাতও হুনরাম একই অবস্থা। তাই আমরার দাবী তারাতারি যেনো বান্দগছিন বাঁন্দা অয়।’

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা আবু বকর ভূঁইয়াকে তার ফোন নাম্বারে বার বার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কাজের প্রাক্কলন প্রস্তুত করতে পারেনি পাউবো। প্রাক্কলন পেয়েছে ৬টি বাঁধের। তাদের কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে। দু’একদিনের মাঝে কাজ শুরু হবে। বাকীগুলোতে ল্যান্ডসার্ভে টিম কাজ করছে। কাজ শেষ হলেই বাঁধের কাজ শুরু হবে।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ