বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ওসমানীনগরের সুরিকোনা বধ্যভূমির স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ নেই

আনোয়ার হোসেন আনা: মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪৬ বছর পেড়িয়ে গেলেও সিলেটের ওসমানীনগরের সুরিকোণা বধ্যভূমির স্মৃতি রক্ষার কোন উদ্যোগ নেই।

যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সূরিকোনায় প্রায় অর্ধশত নিরীহ লোক গণহত্যার শিকার হয়ে শহীদ হলেও ইতিহাসেও স্থান পায়নি সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও হত্যাকান্ড থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়াদের সহযোগীতায় বধ্যভূমির স্থান চিহ্নিত করা হলেও সরকারি ভাবে তা আজও স্বীকৃতি পায়নি। বর্তমান সরকার উপজেলার বুরুঙ্গা বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণসহ শহীদদের নামফলক স্থাপন করলেও উপেক্ষিত থেকে যায় সুরিকোণা বধ্যভূমির স্বীকৃতি ও স্মৃতির রক্ষার বিষয়টি।

মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ওসমানীনগরের সাদীপুর ইউপির কুশিয়ারা তীরবর্তী প্রত্যন্ত গ্রামের নাম সুরিকোণা। গ্রামে মুক্তিবাহিনী রয়েছে এমন খবর পেয়ে ৭১ সালের ১৯ জুলাই ভোরে হানা দেয় পাকবাহিনী। এসময় গ্রামের মকরম উল্যা, মুহিব উল্যা, জহির উল্যা, আব্দুল বাহার, সুরুজ উল্যা, আব্দুল জব্বার, সাজিদ উল্যা, আফিজ উল্যা, সাইদুর রহমান, হেকিম উল্যা, ইউনুছ উল্যাসহ প্রায় অর্ধশত সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে যায় কুশিয়ারার তীরে। পৃথক ৩টি স্থানে লাইনে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে তাদের লাশ গুলো ভাসিয়ে দেয় নদীর জলে। পরবর্তী সময়ে এলাকার লোকজন নদী থেকে ৩৪জন শহীদের লাশ উদ্ধার করে কবর দেন। এই হত্যাকান্ড থেকে নদীর জলে ঝাঁপ দিয়ে ভাগ্যক্রমে একাধিক ব্যক্তি বেঁচেও যান।

গণহত্যার হত্যার স্থল থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষাকারী শামছুল হক বলেন, চোখের সামনে পিতা ও ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে পাক বাহিনী। তাদের শক্তির কাছে আমরা অসহায় ছিলাম। প্রায় অর্ধশত লোক গণহত্যার শিকার হলেও বধ্যভূমির স্মৃতি রক্ষায় সরকারী কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আফতাব আহমদ বলেন, সুরিকোনায় প্রায় অর্ধশত লোককে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিল পাকবাহিনী। এই গণহত্যার ঘটনা ইতিহাসে স্থান পায়নি এবং বধ্যভূমির স্মৃতি রক্ষারও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এই গণহত্যার স্বীকৃতি ও বধ্যভূমির স্মৃতি রক্ষায় দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান তিনি।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ