রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন স্কুলে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম। আর এ ভর্তি কার্যক্রমে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ দিচ্ছেন অভিভাবকরা। শহর ও শহরতলীর বেশকিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে তিনগুন পর্যন্ত বেশী ভর্তি ফি নিচ্ছে বিদ্যালয়গুলো।

শ্রীমঙ্গলস্থ দি বার্ডস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ভর্তি ফি বাবত সর্বোচ্চ ৯০৫০ টাকা, সেন্ট মার্থাস উচ্চ বিদ্যালয় ৪০৫০ টাকা, উদয়ন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ১৫০০ টাকা, ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ২১০০টাকা, বিটিআরআই উচ্চ বিদ্যালয় ৩৫০০ টাকা, বর্ডার গার্ড পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ২৭০০টাকা। যেখানে সরকারী পরিপত্রে নির্দেশ দেওয়া আছে পৌরসভার ভিতরের বিদ্যালয় গুলো ১০০০ ও পৌরসভার বাহিরের ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নিতে হবে।

চা বাগান অধ্যুষিত শ্রীমঙ্গলের জনগনের আর্থিক জীবন মান দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অনেক কম। ফলে চা শ্রমিক সন্তানদের অভিভাবকরা পড়া লেখার খরচ বহনে হিমশিম খায়। এবস্থায় বাড়তি এই ভর্তি ফি ও অন্যান্য খরচ তাদের কাছে মরার উপর খাড়ার ঘা। এখানে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারী পরিপত্রে উল্লিখিত সর্বসাকুল্য টাকার পরিমানের চেয়ে কয়েকগুন বেশী টাকা গ্রহণ করে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করছেন। উপজেলার চা বাগান ও বিভিন্ন আদিবাসী পল্লী, প্রান্তি দলিত জনগোষ্ঠির দরিদ্র শিক্ষার্থীরা পড়াশুনার জন্য বিশেষ করে ঐতিহৃবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও উদয়ন বালিকা বিদ্যালয়কেই বেছে নেয়। কিন্তু কয়েকবছর ধরে এই বিদ্যালয় গুলোতেও নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভর্তি ফি সহ মনগড়া খাত তৈরী করে সরকার নির্দেশনার বেশী অর্থ। এব্যাপারে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী অর্থ বেশী নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা এ বিদ্যালয় থেকে অনেক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দিচ্ছি।

উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বলেন কবিতা রাণী দাশ বলেন, অন্যান্য বিদ্যালয় থেকে আমরা কম নিচ্ছি।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলীপ কুমার বর্ধন ভর্তিতে টাকা বেশি নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়গুলো সরকারী নির্দেশনা না শুনে বেশী অর্থ আদায় করছে। আমি আমার উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়গুলোতে বেশী অর্থ নেওয়ার কারনে তারা অনেক সময় ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা বাদ দিয়ে দেন। সবার পক্ষে এতগুলো টাকা একসাথে দেওয়া সম্ভব হয়। অনেকসময় মেধাবী শিক্ষার্থীরাও ঝড়ে পরে ভার্তির টাকা না পাওয়ার কারণে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশশেরুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে এ বিষয়ে কেউ এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

শ্রীমঙ্গলের সচেতন অভিভাবক ও সুধীজনরা মনে করেন প্রান্তিক পর্যায়ে এরুপ অনিয়মের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দিতে চাচ্ছে দুর্নীতিগ্রস্থরা। সরকার ও মন্ত্রণালয়ের যথেষ্ট আন্তরিকতা থাকার পরও এসব অনিয়ম ও অনিয়মতান্ত্রিকতার কারনে বিপর্যস্ত হচ্ছে শিক্ষা খাত।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!