বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসা শিক্ষকদের দাবি মানার আশ্বাস দিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

সুরমা নিউজ:
জাতীয়করণের দাবি মানার আশ্বাস পেয়েছেন আমরণ অনশনরত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকরা। শিক্ষকদের দাবিটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে সরকার। দু’একদিনের মধ্যে অনশন ভাঙ্গানোর বিষয় অগ্রগতি জানানো যাবে বলে শিক্ষক নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছেন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী।

আজ রবিবার দুপুরে অনশনরত শিক্ষক সংগঠনের চারজন নেতার সঙ্গে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠিত বৈঠক  দাবি মানার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। তবে ‘এটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক বলে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির ব্যানারে গত ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। পরে ৯ জানুয়ারি থেকে লাগাতার অমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

আজ রোববার (১৪ই জানুয়ারি) ৬ষ্ঠ দিনে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের উপস্থিতি আরও বেড়েছে। গতকাল সন্ধ্যা অব্দি নতুন করে আরও ১৮ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৪৫জন অসুস্থ হলেন। কেউ কেউ স্যালাইন নিয়েই অনশন করছেন। অসুস্থদের অধিকাংশই অতিরিক্ত শীতে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত।

জানা যায়, মাদরাসা বোর্ডের নিবন্ধন পাওয়া ১০ হাজারের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা আছে। এতে শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। মাত্র এক হাজার ৫১৯টি ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক দুই হাজার ৫০০ টাকা ও সহকারী শিক্ষকরা দুই হাজার ৩০০ টাকা ভাতা পান। বাকি শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে চাকরি করছেন।
শিক্ষকরা জানান, কন কনে শীতে টানা আট দিন অবস্থান ধর্মঘটের পর গত মঙ্গলবার (৯ই জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া আমরণ অনশনে শনিবার (১৩ই জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৪৫ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরমধ্যে অধিকাংশ শিক্ষক অতিরিক্ত ঠান্ডায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছেন ১৮ জন।
বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আলহাজ কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন বিনা বেতনে চাকরি করতে করতে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। জাতীয়করণ ছাড়া আমাদের আর ভিন্ন কোনো পথ খোলা নেই। সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেছে। আমরাও তো প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম অংশ। তাহলে আমাদের কেন বাকি রাখা হবে? আমাদের বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি ঠিকমতো বোঝালে তিনি নিরাশ করবেন না। তাই আমরা তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছি।

ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির দপ্তর সম্পাদক মো. ইনতাজ বিন হালিম জানান, এ তীব্র শীতে খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এ দুঃখ-কষ্ট দেখার কেউ নেই। দ্রুত আমাদের দাবি মেনে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনরোধ জানাচ্ছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ