সোমবার, ২৫ জুন, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

সুরমা নিউজ ডেস্ক :
যৌতুক না পেয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাটি ঘটে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা রঙ্গারচর ইউনিয়নের হরিনাপাটি গ্রামে শুক্রবার সন্ধ্যায় । নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সীমা বেগম (১৯) হরিনাপাটি গ্রামের সেলিম মিয়ার কন্যা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী কাওসার মিয়া (৩০) পলাতক রয়েছে। এদিকে, আহত গৃহবধূকে গুরুতর অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় বছর খানেক আগে হরিনাপাটি গ্রামের সেলিম মিয়ার কন্যা সীমা বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের আলতাব আলীর মধ্যপ্রাচ্য ফেরত পুত্র কাওসার মিয়ার বিয়ে হয়। প্রথমে দিকে মাস দু’য়েক সংসার ভালোভাবেই চলছিল। পরে শুরু হয় অশান্তি। যৌতুকসহ নানা অজুহাতে সীমা বেগমকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে স্বামী কাওসার। এক পর্যায়ে স্বামীর বাড়ি থেকে পিতার কাছে চলে আসে সীমা। পরে দুইবারই ক্ষমা চেয়ে স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যায় স্বামী কাওসার। কিন্তু এরপরও স্ত্রীকে নির্যাতন বন্ধ করেনি সে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় পিতার বাড়িতে চলে আসতে চান সীমা। এ সময় কাওসার, তার ভাই-বোনসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন মিলে সীমা বেগমকে দরজা বন্ধ করে শিকল দিয়ে বেঁধে কাঠের রোল দিয়ে মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করে। পরবর্তীতে ওই রাতে আহত গৃহবধূকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় কাওসারের স্বজনরা।

আহত গৃহবধূর পিতা সেলিম মিয়া জানান, মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরেই তার মেয়ের জামাই শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। যৌতুকের আবদার মেটাতে না পারায় শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মেয়েকে শিকল দিয়ে বেঁধে কাঠের রোল দিয়ে মারধর করে কাওসার মিয়া ও তার স্বজনরা। পরে অ্যাসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেয়ার হুমকি দেয়।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, গৃহবধূকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন। তাকে বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শওকত আলী বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনেক দিন ধরেই কলহ চলছিল। মেয়েটি নাকি তার বাপের বাড়ি যেতে চাচ্ছিল। এজন্য স্বামী তাকে মারধর করেছে বলে শুনেছি।

এ ব্যাপারে কাওসার মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, থানায় অভিযোগ দেয়া হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!